০৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫

ইনু, মেনন, দীপু মনি ও আনিসুল ফের রিমান্ডে

নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। বুধবার (১৯ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন রেজার আদালত শুনানি শেষে এই রিমান্ডের আদেশ দেন।

ইনু, মেনন ও দীপু মনির চার দিনের রিমান্ড বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গুলিতে ওবায়দুল ইসলাম নিহতের ঘটনায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন, তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করলেও শুনানি থেকে বিরত থাকেন। পর্যালোচনার পর আদালত তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আনিসুল হকে ও সাদেক খানের তিন দিনের রিমান্ড
একই আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় গুলিতে মো. সুজন নিহতের মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী শুনানিতে অংশ নিয়ে রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন, অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আনিসুল হকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এছাড়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় মিরাজুল ইসলাম অর্ণব নিহতের ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আদালতে হাজির করার পর বিচারক জানতে চান, তিনি কিছু বলতে চান কি না। জবাবে সাদেক খান বলেন, “আমি ওইখানে ছিলাম না। আর গুলি পাবো কোথায়?” এসময় এক আইনজীবী তাকে থামিয়ে দেন। এরপর আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার প্রেক্ষাপট
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ৪ আগস্ট বিকেলে যাত্রাবাড়ীর কাজলা পেট্রোল পাম্পের সামনে ১৪ দলের নেতাকর্মীরা জনতার ওপর গুলি চালালে ওবায়দুল ইসলাম নিহত হন। একইভাবে ২০ জুলাই মোহাম্মদপুরের বসিলায় আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে গুলিতে মো. সুজন এবং ১৯ জুলাই মিরাজুল ইসলাম অর্ণব নিহত হন।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা পৃথকভাবে যাত্রাবাড়ী ও মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৩:০০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫
৭০

ইনু, মেনন, দীপু মনি ও আনিসুল ফের রিমান্ডে

আপডেট: ০৩:০০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। বুধবার (১৯ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন রেজার আদালত শুনানি শেষে এই রিমান্ডের আদেশ দেন।

ইনু, মেনন ও দীপু মনির চার দিনের রিমান্ড বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গুলিতে ওবায়দুল ইসলাম নিহতের ঘটনায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন, তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করলেও শুনানি থেকে বিরত থাকেন। পর্যালোচনার পর আদালত তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আনিসুল হকে ও সাদেক খানের তিন দিনের রিমান্ড
একই আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় গুলিতে মো. সুজন নিহতের মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী শুনানিতে অংশ নিয়ে রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন, অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আনিসুল হকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এছাড়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় মিরাজুল ইসলাম অর্ণব নিহতের ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আদালতে হাজির করার পর বিচারক জানতে চান, তিনি কিছু বলতে চান কি না। জবাবে সাদেক খান বলেন, “আমি ওইখানে ছিলাম না। আর গুলি পাবো কোথায়?” এসময় এক আইনজীবী তাকে থামিয়ে দেন। এরপর আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার প্রেক্ষাপট
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ৪ আগস্ট বিকেলে যাত্রাবাড়ীর কাজলা পেট্রোল পাম্পের সামনে ১৪ দলের নেতাকর্মীরা জনতার ওপর গুলি চালালে ওবায়দুল ইসলাম নিহত হন। একইভাবে ২০ জুলাই মোহাম্মদপুরের বসিলায় আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে গুলিতে মো. সুজন এবং ১৯ জুলাই মিরাজুল ইসলাম অর্ণব নিহত হন।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা পৃথকভাবে যাত্রাবাড়ী ও মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।