মণিরামপুরে নানাকে কুপিয়ে হত্যা: র্যাবের অভিযানে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দুই ঘাতক গ্রেফতার
- আপডেট: ০৬:২৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / ১১

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের মণিরামপুরে স্কুলপড়ুয়া নাতনিকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় নানা এনামুল ইসলামকে (৫৫) কুপিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার মূলহোতাসহ এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতকদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বুধবার (১১ জুন,২০২৫) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে যশোর শহরের কোতোয়ালী মডেল থানা এলাকার কিসমত নওয়াপাড়া থেকে তাদের গ্রেফতার করে র্যাব-৬, সিপিসি-৩, যশোর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল।
গ্রেফতারকৃতরা হলো—হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও মামলার এজাহারনামীয় আসামি রাব্বি (২২) এবং তার সহযোগী রাকিব। তারা দুজনেই ভিকটিম এনামুল ইসলামের একই এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুন ভিকটিম এনামুল ইসলামের নাতনি সুমাইয়া স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে বখাটে রাব্বি তাকে রাস্তায় একা পেয়ে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। এ সময় নানা এনামুল ইসলাম ঘটনাটি দেখে ফেলেন এবং বখাটে রাব্বিকে তার নাতনিকে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করেন। এই নিয়ে ওই দিনই বখাটেদের সঙ্গে এনামুল ইসলামের কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই বখাটেরা ক্ষোভে ফুঁসছিল এবং এনামুলকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করে।
পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত (৮ জুন) রাত সোয়া ৯টার দিকে এনামুল ইসলাম মণিরামপুরের স্মরণপুর জামতলা মোড় থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ওত পেতে থাকা বখাটে রাব্বি ও রাকিবসহ তাদের সহযোগীরা এনামুলের পথরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা চাপাতি ও চাকু দিয়ে এনামুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। তার চিৎকারে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা ছুটে আসলে ঘাতকরা রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত এনামুলকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ওই রাতেই সোয়া ১০টার দিকে যশোর সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা এনামুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবার বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দেয়। ঘটনার পর থেকেই র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাতে যশোর শহরের কিসমত নওয়াপাড়ায় অভিযান চালিয়ে প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-৬ সূত্র জানান, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে যশোরের মণিরামপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।





















