১২:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সাংবাদিকতার কারণে সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে হয়রানি না করার আহ্বান সিপিজের

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৫২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / ২১

গ্রামের সংবাদ ডেস্ক : আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তারে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার কথা জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার বৈশ্বিক এ সংগঠন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বেনাপোল প্রতিনিধি মোহা. আসাদুজ্জামানকে গভীর রাতে ধরে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান হিসেবে কারাগারে পাঠানোর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার কথা জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার বৈশ্বিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সিপিজে বলেছে, আসাদুজ্জামানকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় আটক রাখা হয়েছে। যে অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেখানে একই নামের একজন রাজনীতিকের সঙ্গে তাকে গুলিয়ে ফেলা হয়ে থাকতে পারে।

সোমবার আদালতে হাজির করার পর আসাদুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয় এবং পরবর্তী শুনানির জন্য ১১ জুন তারিখ রেখে তাকে যশোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

বিবৃতিতে সিপিজে বলেছে, আসাদুজ্জামানকে তার সাংবাদিকতার কারণে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে না—এটি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কাউকে আটক না রাখার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেছে সংগঠনটি।

৮ জুন রাত প্রায় ২টার দিকে যশোরের শার্শা উপজেলার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদনে পুলিশ বলে, তিনি শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ।

অন্যদিকে আইনজীবী ও পরিবার বলছে, আসাদুজ্জামান একসময় শার্শা সরকারি মহিলা কলেজের প্রদর্শক ছিলেন; এখন শুধু সাংবাদিকতা করেন।

এক সময় তিনি আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তবে কলেজ সরকারি হওয়ায় পরে তিনি আর ওই পদে ছিলেন না। সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও কখনো ছিলেন না।

তবে শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের নামও আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের এপিএস ছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, নামের মিল থাকায় রাজনৈতিক নেতা আসাদুজ্জামান আসাদের পরিবর্তে সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে পুলিশ ২০২৫ সালে এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

অবশ্য সাংবাদিকদের মধ্যে কারো কারো ভাষ্য,শীর্ষস্থানীয় একটি অনলাইন সংবাদপত্রের স্থানীয় সাংবাদিক হিসেবে আসাদুজ্জামানকে চিনতে পুলিশের ভুল হওয়ার কথা নয়।

সাংবাদিকদের প্রতিবাদ ও আপত্তি উপেক্ষা করে থানা কর্তৃপক্ষ যেভাবে আসাদুজ্জামানকে জেলে পাঠিয়েছে, তার পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন কেউ কেউ।

যে মামলায় আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর শার্শা থানায় সেটি দায়ের করেন শার্শা ইউনিয়ন বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আয়নাল হক।

সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা ওই বছর ২৮ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করতে গিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে,সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়, সড়ক ও কালভার্টের ক্ষতি করার চেষ্টা করে, রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করে।

মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়। ওই সাতজনের মধ্যে আসাদুজ্জামান নামে কেউ নেই।

মামলার বাদী আয়নাল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মামলায় যেসব অভিযোগ করা হয়েছে সেসব তিনি নিজে দেখেননি। তাকে থানায় ডেকে নিয়ে ওসি ও বিএনপি নেতারা ফেইসবুকে ঘটনার কিছু ভিডিও দেখান এবং মামলা করতে বলেন। সে অনুযায়ী তিনি মামলা করেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সাংবাদিক ও সাবেক কলেজ শিক্ষক আসাদুজ্জামানকে তিনি চেনেন না। তবে শেখ আফিল উদ্দিনের এপিএস আসাদুজ্জামান আসাদকে তিনি চেনেন এবং তিনিই মামলার ওইসব ঘটনার মূল ব্যক্তি। তবে ৫ অগাস্টের পর থেকে তিনি এলাকায় নেই।

ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। আসাদুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে শার্শা থানা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেন তারা।

সিপিজের বিবৃতি প্রকাশের পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনায় এসেছে। সংগঠনটি বলেছে, আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তি এবং গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া নিয়ে তারা নজর রাখছে।
সুত্র : বিডি নিউজ২৪ ।

Please Share This Post in Your Social Media

সাংবাদিকতার কারণে সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে হয়রানি না করার আহ্বান সিপিজের

আপডেট: ০৭:৫২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

গ্রামের সংবাদ ডেস্ক : আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তারে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার কথা জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার বৈশ্বিক এ সংগঠন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বেনাপোল প্রতিনিধি মোহা. আসাদুজ্জামানকে গভীর রাতে ধরে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান হিসেবে কারাগারে পাঠানোর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার কথা জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার বৈশ্বিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সিপিজে বলেছে, আসাদুজ্জামানকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় আটক রাখা হয়েছে। যে অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেখানে একই নামের একজন রাজনীতিকের সঙ্গে তাকে গুলিয়ে ফেলা হয়ে থাকতে পারে।

সোমবার আদালতে হাজির করার পর আসাদুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয় এবং পরবর্তী শুনানির জন্য ১১ জুন তারিখ রেখে তাকে যশোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

বিবৃতিতে সিপিজে বলেছে, আসাদুজ্জামানকে তার সাংবাদিকতার কারণে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে না—এটি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কাউকে আটক না রাখার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেছে সংগঠনটি।

৮ জুন রাত প্রায় ২টার দিকে যশোরের শার্শা উপজেলার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদনে পুলিশ বলে, তিনি শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ।

অন্যদিকে আইনজীবী ও পরিবার বলছে, আসাদুজ্জামান একসময় শার্শা সরকারি মহিলা কলেজের প্রদর্শক ছিলেন; এখন শুধু সাংবাদিকতা করেন।

এক সময় তিনি আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তবে কলেজ সরকারি হওয়ায় পরে তিনি আর ওই পদে ছিলেন না। সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও কখনো ছিলেন না।

তবে শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের নামও আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের এপিএস ছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, নামের মিল থাকায় রাজনৈতিক নেতা আসাদুজ্জামান আসাদের পরিবর্তে সাংবাদিক আসাদুজ্জামানকে পুলিশ ২০২৫ সালে এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

অবশ্য সাংবাদিকদের মধ্যে কারো কারো ভাষ্য,শীর্ষস্থানীয় একটি অনলাইন সংবাদপত্রের স্থানীয় সাংবাদিক হিসেবে আসাদুজ্জামানকে চিনতে পুলিশের ভুল হওয়ার কথা নয়।

সাংবাদিকদের প্রতিবাদ ও আপত্তি উপেক্ষা করে থানা কর্তৃপক্ষ যেভাবে আসাদুজ্জামানকে জেলে পাঠিয়েছে, তার পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন কেউ কেউ।

যে মামলায় আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর শার্শা থানায় সেটি দায়ের করেন শার্শা ইউনিয়ন বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আয়নাল হক।

সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা ওই বছর ২৮ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করতে গিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে,সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়, সড়ক ও কালভার্টের ক্ষতি করার চেষ্টা করে, রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করে।

মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়। ওই সাতজনের মধ্যে আসাদুজ্জামান নামে কেউ নেই।

মামলার বাদী আয়নাল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মামলায় যেসব অভিযোগ করা হয়েছে সেসব তিনি নিজে দেখেননি। তাকে থানায় ডেকে নিয়ে ওসি ও বিএনপি নেতারা ফেইসবুকে ঘটনার কিছু ভিডিও দেখান এবং মামলা করতে বলেন। সে অনুযায়ী তিনি মামলা করেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সাংবাদিক ও সাবেক কলেজ শিক্ষক আসাদুজ্জামানকে তিনি চেনেন না। তবে শেখ আফিল উদ্দিনের এপিএস আসাদুজ্জামান আসাদকে তিনি চেনেন এবং তিনিই মামলার ওইসব ঘটনার মূল ব্যক্তি। তবে ৫ অগাস্টের পর থেকে তিনি এলাকায় নেই।

ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। আসাদুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে শার্শা থানা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেন তারা।

সিপিজের বিবৃতি প্রকাশের পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনায় এসেছে। সংগঠনটি বলেছে, আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তি এবং গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া নিয়ে তারা নজর রাখছে।
সুত্র : বিডি নিউজ২৪ ।