মাগুরার এন.এস বিউটি পার্লারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ স্কুল শিক্ষিকার
- আপডেট: ০৯:২৭:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
- / ৭

বিশেষ প্রতিনিধি: লক্ষণ কুমার মন্ডল : মাগুরার শশী বিউটি পার্লারে চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য গিয়ে উল্টো চুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নাহিদা আক্তার সাথী নামে এক স্কুল শিক্ষিকা।
এ ঘটনায় তিনি মাগুরা জেলা কার্যালয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ভোক্তা অধিকার সহকারী পরিচালক মোহাঃ সজল আহম্মেদ এন.এস বিউটি পার্লার কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করলেও ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী নাহিদা আক্তার সাথীর অভিযোগ, গত মার্চ মাসের ১৬ তারিখে ঈদকে সামনে রেখে চুলে বিশেষ কালার ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তিনি মাগুরার “এন.এস বিউটি পার্লার”- মেকওভার উইথ শশী তে যান।
সেখানে দীর্ঘ প্রায় ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা ধরে তার চুলে ব্লিচ ও কালার ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীতে তার চুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, জায়গায় জায়গায় চুল ছিঁড়ে পড়ে যায় এবং মাথার কিছু অংশে টাকও দেখা দেয়।
তিনি বলেন, “আমি সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য পার্লারে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা এমনভাবে আমার চুল নষ্ট করেছে যে মানুষের সামনে যাওয়ার মতো অবস্থাও ছিল না। চুলগুলো একেবারে কুঁচকে গেছে, ভেঙে পড়ছে। এটা ঠিক করতে আমার দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।”
তিনি আরও জানান, পার্লারের সেবার জন্য তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
পরে চিকিৎসক দেখানো ও ওষুধপত্র মিলিয়ে আরও প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
এ ঘটনায় তিনি মাগুরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন।
শুনানি শেষে এন.এস বিউটি পার্লার কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। তবে নাহিদা আক্তার সাথীর দাবি, শুধুমাত্র জরিমানা নয়, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।
তিনি বলেন, “ফেসবুকে ভিডিও, ব্লগ করে মানুষকে আকৃষ্ট করে তারা ব্যবসা করছে। অথচ: অদক্ষ সেবার কারণে নারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল।”
তিনি দাবি করেন, নিজের ঘটনার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর আরও কয়েকজন নারী তার সঙ্গে যোগাযোগ করে একই পার্লারের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করার পর তিনি হুমকি-ধমকির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পার্লার মালিকের আত্মীয় পরিচয়ে একজন ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান। এ ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান।
এছাড়া মাগুরা প্রেসক্লাবের সাজ্জাদ হোসেন নামের এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও তিনি ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তোলেন।
তার দাবি, ওই সাংবাদিক সাজ্জাদ তাকে “মিউচুয়াল” করার প্রস্তাব দেন এবং রাজি না হওয়ায় চাকরি ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে হুমকি দেন।
এ সংক্রান্ত অডিও রেকর্ড তার কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি। নাহিদা আক্তার সাথী বলেন, “আমি চাই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হোক।
যারা অদক্ষ সেবা দিয়ে মানুষের সৌন্দর্য নষ্ট করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এন.এস বিউটি পার্লার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারাও গতকাল বৃহস্পতিবার ১৪ মে সকাল ১০ টার সময় মাগুরা ভোক্তা অধিকার সহকারী পরিচালক মোহাঃ সজল আহম্মেদ এর শোনানিতে উপস্থিত ছিলেন এবং বড় বড় চটাং কথাবার্তা বলছিলেন।
মাগুরা জেলা কার্যালয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক মোহাঃ সজল আহম্মেদ এর আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি উভয়পক্ষকে ফেসবুকে পোস্ট ও মোবাইল ফোনে হুমকি ধামকি দিতে নিষেধ করে দেন। আর নাহিদা আক্তার সাথীর মাথার চুলের ক্ষতির জন্য এন.এস বিউটি পার্লার কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।





















