সরকার গঠনে বাধা, গণপদত্যাগের হুঁশিয়ারি বিজয়ের
- আপডেট: ০৫:১৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
- / ১৫

গ্রামের সংবাদ ডেস্ক : মিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক নাটকীয়তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ১০৭টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাঝাগাম’ (টিভিকে) কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জনগণের রায় উপেক্ষা করে ডিএমকে বা এআইএডিএমকে যদি অনৈতিকভাবে সরকার গঠনের চেষ্টা করে, তবে টিভিকের সব বিধায়ক একযোগে পদত্যাগ করবেন।টিভিকে একক বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও বিজয়কে সরকার গঠনের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন রাজ্যপাল আর. ভি. আরলেকর।
তার মতে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন বিজয়ের নেই। অন্যদিকে, বিজয়ের জোটে কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়ক রয়েছেন এবং বামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিজয়ের দাবি, একক বৃহত্তম দল হিসেবে তাকে প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে হবে। পরবর্তীতে বিধানসভার ফ্লোরে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করবেন। রাজ্যপালের এই অনড় অবস্থানের বিরুদ্ধে এখন আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করছে টিভিকে।
চিরশত্রু ডিএমকে ও এআইএডিএমকে কি এক হচ্ছে?
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে কয়েক দশকের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এম. কে. স্ট্যালিনের ডিএমকে ও ই. পালানিস্বামীর এআইএডিএমকের মধ্যে গোপন আঁতাতের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। সূত্রমতে, বিজয়কে ক্ষমতায় আসা থেকে রুখতে ডিএমকের সমর্থনে পালানিস্বামী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। উদয়নিধি স্ট্যালিনের শিবিরের তরুণ নেতাদের আশঙ্কা, বিজয় একবার ক্ষমতায় বসলে তাকে সরানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। যেমনটা ঘটেছিল কিংবদন্তি এমজিআরের ক্ষেত্রে।
মিত্রদের সমর্থন ও রাজ্যপালের সমালোচনা
রাজ্যপালের এই ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছে সিপিআই এবং ভিসিকে। সিপিআই জানিয়েছে, একক বৃহত্তম দলকে সরকার গঠনের সুযোগ না দেওয়া অসাংবিধানিক। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের ‘এসআর বোম্মাই’ মামলার রায়ের পরিপন্থী।
ভিসিকে প্রধান থল থিরুমাবালভান বলেন, রাজ্যপাল বিজয়কে এভাবে ১১৮ জনের তালিকা নিয়ে হাজির হতে বলতে পারেন না। এমনকি বিদায়ী দল ডিএমকে ও অভিনেতা কমল হাসানও রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্তকে জনগণের রায়ের অবমাননা বলে অভিহিত করেছেন।
ডিএমকে তাদের সমস্ত বিধায়ককে আগামী ১০ মে পর্যন্ত চেন্নাইয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে, এআইএডিএমকের ৪৫ জনেরও বেশি বিধায়ক পালানিস্বামীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পালানিস্বামী আপাতত ‘অপেক্ষা করো এবং দেখো’ নীতি অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে তামিলনাড়ুর মসনদে কে বসবেন, তা নিয়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্র : এনডিটিভি






















