০৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুঞ্জন, কী বলছে ইরানি-ইসরায়েলি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • / ১০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এই খবরের সূত্র ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ। হিব্রু ভাষার বিভিন্ন ওয়েবসাইটের সূত্রে নেতানিয়াহুর আহত হওয়ার বা মারা যাওয়ার নানা তথ্য ধরে এই খবর ছেপেছে সংবাদ সংস্থাটি। মূলত গত কয়েকদিন নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য অনুপস্থিতিই এই গুঞ্জনের ভিত্তি তৈরি করেছে।

অবশ্য ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এসব উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, পুরোটা ডাহা মিথ্যা। নেতানিয়াহু মারা যাননি। ইরানি খবরকে তারা ‘ষড়যন্ত্র’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

তাসনিম নিউজ লিখেছে, নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুঞ্জন বাড়ার পেছনে কয়েকটি বিষয় রয়েছে-
নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত চ্যানেলে সর্বশেষ ভিডিও প্রকাশের পর প্রায় তিন দিন হয়ে গেছে। আর তার ছবি প্রকাশেরও প্রায় চার দিন হয়ে গেছে। এরপর থেকে তার নামে যে কয়েকটি বক্তব্য প্রকাশ হয়েছে, সেগুলো শুধু লিখিত (টেক্সট) আকারে এসেছে।

এর আগে সাধারণত প্রতিদিন নেতানিয়াহুর অ্যাকাউন্টে অন্তত একটি ভিডিও, কখনো কখনো তিনটি পর্যন্ত ভিডিও প্রকাশ করা হতো। কিন্তু গত তিন দিনে একটিও ভিডিও প্রকাশ না হওয়ায় জল্পনা আরো বেড়েছে।

কিছু হিব্রু সূত্র জানিয়েছে, ৮ মার্চ নেতানিয়াহুর বাসভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে, বিশেষ করে সম্ভাব্য আত্মঘাতী ড্রোন হামলা ঠেকানোর জন্য।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইসরায়েল সফরের কথা ছিল ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকোফের। বলা হচ্ছে, এই সফর বাতিল হওয়াও নাকি এই পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাঁখো ও নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি ফোনালাপের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হলেও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসি প্রাসাদ সেই কথোপকথনের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করেনি; শুধু কথোপকথনের লিখিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে এসব জল্পনা এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করা হয়নি।

টাইমস অব ইসরায়েল ও জেরুজালেম পোস্ট বলছে, পুরোটাই ভুয়া
তাসমিন নিউজের ‘নেতানিয়াহু নিহত বা আহত হতে পারেন’ এমন খবরকে ভিত্তিহীন জল্পনা বলে উড়িয়ে দিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল। তারা লিখেছে, যুদ্ধকালীন সময়ে অনলাইনে যেভাবে গুজব ছড়ানো হয়, তাসনিম নিউজ তেমনই একটি গুজবকে আবার সামনে এনেছে।

ফারসি ভাষায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর ওপর কোনো হামলা হয়েছে- এমন প্রমাণ বা তাকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো সরকারি নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। বরং কিছু পরোক্ষ বিষয় একত্র করে সেই জল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক কোনো ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ না হওয়া; হিব্রু ভাষার গণমাধ্যমে তার বাসভবনের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করার খবর, কুশনার ও উইটকোফের সম্ভাব্য ইসরায়েল সফর স্থগিত হওয়ার খবর এবং মাখোঁ ও নেতানিয়াহুর ফোনালাপের একটি লিখিত বিবরণ, যেখানে কথোপকথনের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।

প্রতিবেদনটিতে আরো একটি পরোক্ষ দাবির কথা হয়েছে, যা রুশ সংবাদমাধ্যম সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের নামে প্রচার করেছে। সেই দাবিতে বলা হয়, ইরান নাকি নেতানিয়াহুর লুকিয়ে থাকার জায়গায় বোমা হামলা চালিয়েছে এবং এতে তার ভাই নিহত হয়েছেন।

জেরুজালেম পোস্টের খবরেও একই সূত্রের কথা তুলে ধরে খবরটি গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জেরুজালেম পোস্ট লিখেছে, সহজলভ্য তথ্যগুলো এই গুজবের মূল ভিত্তিকেই ভুল প্রমাণ করে। নেতানিয়াহু ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন। ইসরায়েলের সরকারি সংবাদমাধ্যমে ৬ মার্চ তার বিয়ারশেবার এলাকা পরিদর্শনের নথিও রয়েছে।

তবে জেরুজালেম পোস্ট শক্ত কোনো তথ্য-উপাত্তা হাজির করতে পারেনি। ৫ মার্চ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত নেতানিয়াহু আসলে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দুটি।

Please Share This Post in Your Social Media

নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুঞ্জন, কী বলছে ইরানি-ইসরায়েলি

আপডেট: ০৭:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এই খবরের সূত্র ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ। হিব্রু ভাষার বিভিন্ন ওয়েবসাইটের সূত্রে নেতানিয়াহুর আহত হওয়ার বা মারা যাওয়ার নানা তথ্য ধরে এই খবর ছেপেছে সংবাদ সংস্থাটি। মূলত গত কয়েকদিন নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য অনুপস্থিতিই এই গুঞ্জনের ভিত্তি তৈরি করেছে।

অবশ্য ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এসব উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, পুরোটা ডাহা মিথ্যা। নেতানিয়াহু মারা যাননি। ইরানি খবরকে তারা ‘ষড়যন্ত্র’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

তাসনিম নিউজ লিখেছে, নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুঞ্জন বাড়ার পেছনে কয়েকটি বিষয় রয়েছে-
নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত চ্যানেলে সর্বশেষ ভিডিও প্রকাশের পর প্রায় তিন দিন হয়ে গেছে। আর তার ছবি প্রকাশেরও প্রায় চার দিন হয়ে গেছে। এরপর থেকে তার নামে যে কয়েকটি বক্তব্য প্রকাশ হয়েছে, সেগুলো শুধু লিখিত (টেক্সট) আকারে এসেছে।

এর আগে সাধারণত প্রতিদিন নেতানিয়াহুর অ্যাকাউন্টে অন্তত একটি ভিডিও, কখনো কখনো তিনটি পর্যন্ত ভিডিও প্রকাশ করা হতো। কিন্তু গত তিন দিনে একটিও ভিডিও প্রকাশ না হওয়ায় জল্পনা আরো বেড়েছে।

কিছু হিব্রু সূত্র জানিয়েছে, ৮ মার্চ নেতানিয়াহুর বাসভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে, বিশেষ করে সম্ভাব্য আত্মঘাতী ড্রোন হামলা ঠেকানোর জন্য।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইসরায়েল সফরের কথা ছিল ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকোফের। বলা হচ্ছে, এই সফর বাতিল হওয়াও নাকি এই পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাঁখো ও নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি ফোনালাপের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হলেও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসি প্রাসাদ সেই কথোপকথনের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করেনি; শুধু কথোপকথনের লিখিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে এসব জল্পনা এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করা হয়নি।

টাইমস অব ইসরায়েল ও জেরুজালেম পোস্ট বলছে, পুরোটাই ভুয়া
তাসমিন নিউজের ‘নেতানিয়াহু নিহত বা আহত হতে পারেন’ এমন খবরকে ভিত্তিহীন জল্পনা বলে উড়িয়ে দিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল। তারা লিখেছে, যুদ্ধকালীন সময়ে অনলাইনে যেভাবে গুজব ছড়ানো হয়, তাসনিম নিউজ তেমনই একটি গুজবকে আবার সামনে এনেছে।

ফারসি ভাষায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর ওপর কোনো হামলা হয়েছে- এমন প্রমাণ বা তাকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো সরকারি নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। বরং কিছু পরোক্ষ বিষয় একত্র করে সেই জল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক কোনো ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ না হওয়া; হিব্রু ভাষার গণমাধ্যমে তার বাসভবনের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করার খবর, কুশনার ও উইটকোফের সম্ভাব্য ইসরায়েল সফর স্থগিত হওয়ার খবর এবং মাখোঁ ও নেতানিয়াহুর ফোনালাপের একটি লিখিত বিবরণ, যেখানে কথোপকথনের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।

প্রতিবেদনটিতে আরো একটি পরোক্ষ দাবির কথা হয়েছে, যা রুশ সংবাদমাধ্যম সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের নামে প্রচার করেছে। সেই দাবিতে বলা হয়, ইরান নাকি নেতানিয়াহুর লুকিয়ে থাকার জায়গায় বোমা হামলা চালিয়েছে এবং এতে তার ভাই নিহত হয়েছেন।

জেরুজালেম পোস্টের খবরেও একই সূত্রের কথা তুলে ধরে খবরটি গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জেরুজালেম পোস্ট লিখেছে, সহজলভ্য তথ্যগুলো এই গুজবের মূল ভিত্তিকেই ভুল প্রমাণ করে। নেতানিয়াহু ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন। ইসরায়েলের সরকারি সংবাদমাধ্যমে ৬ মার্চ তার বিয়ারশেবার এলাকা পরিদর্শনের নথিও রয়েছে।

তবে জেরুজালেম পোস্ট শক্ত কোনো তথ্য-উপাত্তা হাজির করতে পারেনি। ৫ মার্চ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত নেতানিয়াহু আসলে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দুটি।