০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

আজ বেনাপোল ট্রাজেডির ১২ বছর: সেই বিষাদময় ১৫ ফেব্রুয়ারি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৫৫:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৬৮

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি বেনাপোলে শোক দিবস। ঘটনার পর থেকে পালিত হলেও এবার পালিত হল না শোক দিবসটি।

বেনাপোল ট্রাজেডির ১২ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৪ সালের এই দিনে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিল বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও স্বজনদের আহাজারি আর সহপাঠী হারানোর বেদনা আজও থামেনি সীমান্ত শহর বেনাপোলে।

উল্লেখ্য,​ ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেহেরপুরের মুজিবনগরে শিক্ষা সফর শেষে বাসে করে ফিরছিল। ফেরার পথে রাত আনুমানিক ৮টা নাগাদ চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের চৌগাছার ঝাউতলা কাঁদবিলা নামক স্থানে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।

​এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৯ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়। নিহতরা হলেন- বেনাপোল পৌরসভার ছোটআঁচড়া গ্রামের সৈয়দ আলীর দুই মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া ও তার বোন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী জেবা আক্তার, একই গ্রামের ইউনুস আলীর মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মিথিলা আক্তার, রফিকুল ইসলামের মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রুনা আক্তার মীম, লোকমান হোসেনের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শান্ত, গাজিপুর গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির হোসেন ও নামাজ গ্রামের হাসান আলীর মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আঁখি, ছোট আঁচড়া গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ইকরামুল এবং একই গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়ানুর রহমান। ​এছাড়াও দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিল আরও অন্তত ৮০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। নিহত শিশুরা সবাই ছিল তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

একজন শোকার্ত অভিভাবক জানালেন,​ ”সেই দিনের স্মৃতি আজও আমাদের তাড়া করে ফেরে। আমরা আমাদের সন্তানদের হারিয়েছি, কিন্তু এই শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়”।

প্রায় ​প্রতি বছর বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শোক সভা, মিলাদ মাহফিল এবং স্কুলের সম্মুখে নিহত শিশুদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের আয়োজন করা হয়ে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা দিনটিকে ‘বেনাপোল ট্রাজেডি দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলা ও শার্শা উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা উত্তোলন, শোক র‌্যালি ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে আজ রবিবার সকাল ১০ টার দিকে গেলে সংবাদ সংগ্রহরের জন্য প্রাইমারী স্কুলের সম্মুখে গেলে দেখা যায়, শহীদ ৯ শিশু শিক্ষার্থীর স্মরণে এবার আনুষ্ঠানিক কোন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি। এ সংক্রান্ত বিষয়ে স্কুলের প্রধান ফটক পেরিয়ে স্কুল অভ্যন্তরে গিয়ে দেখা যায় ফটকে তালা ঝুলছে, কাউকে না পেয়ে, স্কুল সংলগ্ন মরিয়ম মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলে গেলে উক্ত স্কুলের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানালেন, ৫আগষ্ট/২০২৪ গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৫ সালে তাদের স্কুলের পক্ষ থেকে শহীদ ৯শিশু শিক্ষার্থীর স্মৃতিচারণে নানা কর্মসূচি পালণ করা হয় এবং প্রাইমারী স্কুল কর্তৃপক্ষ মিলাদ মাহফিল এবং দোয়ার আয়োজন করে বলে তিনি জানান। নির্বাচনের কারণে এবার কোন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি বলেও জানান।

বেনাপোল পৌরসভার সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম লিটন কর্তৃক নির্মিত স্মৃতি স্তম্ভটি’র বর্তমান দুরবস্থা দেখে মনে হয়, সম্পূর্ণ অযত্ন আর অবহেলায় শিশুদের স্মৃতিচারনের স্থানটি ময়লা-আবর্জনায় ভেস্তে যেতে বসেছে। যেন দেখার কেউ নেই।

৯ শহীদ শিশুর স্মৃতি স্তম্ভটিতে রং এর কারুকাজ এবং উক্ত স্থানটি নিয়মিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্নেরর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, সে বিষয়ে বেনাপোল কর্তৃপক্ষের সুদৃস্টি রাখার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহলসহ অভিভাবকবৃন্দ।

Please Share This Post in Your Social Media

আজ বেনাপোল ট্রাজেডির ১২ বছর: সেই বিষাদময় ১৫ ফেব্রুয়ারি

আপডেট: ১২:৫৫:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি বেনাপোলে শোক দিবস। ঘটনার পর থেকে পালিত হলেও এবার পালিত হল না শোক দিবসটি।

বেনাপোল ট্রাজেডির ১২ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৪ সালের এই দিনে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিল বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও স্বজনদের আহাজারি আর সহপাঠী হারানোর বেদনা আজও থামেনি সীমান্ত শহর বেনাপোলে।

উল্লেখ্য,​ ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেহেরপুরের মুজিবনগরে শিক্ষা সফর শেষে বাসে করে ফিরছিল। ফেরার পথে রাত আনুমানিক ৮টা নাগাদ চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের চৌগাছার ঝাউতলা কাঁদবিলা নামক স্থানে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।

​এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৯ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়। নিহতরা হলেন- বেনাপোল পৌরসভার ছোটআঁচড়া গ্রামের সৈয়দ আলীর দুই মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া ও তার বোন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী জেবা আক্তার, একই গ্রামের ইউনুস আলীর মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মিথিলা আক্তার, রফিকুল ইসলামের মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রুনা আক্তার মীম, লোকমান হোসেনের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শান্ত, গাজিপুর গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির হোসেন ও নামাজ গ্রামের হাসান আলীর মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আঁখি, ছোট আঁচড়া গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ইকরামুল এবং একই গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়ানুর রহমান। ​এছাড়াও দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিল আরও অন্তত ৮০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। নিহত শিশুরা সবাই ছিল তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

একজন শোকার্ত অভিভাবক জানালেন,​ ”সেই দিনের স্মৃতি আজও আমাদের তাড়া করে ফেরে। আমরা আমাদের সন্তানদের হারিয়েছি, কিন্তু এই শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়”।

প্রায় ​প্রতি বছর বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শোক সভা, মিলাদ মাহফিল এবং স্কুলের সম্মুখে নিহত শিশুদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের আয়োজন করা হয়ে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা দিনটিকে ‘বেনাপোল ট্রাজেডি দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলা ও শার্শা উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা উত্তোলন, শোক র‌্যালি ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে আজ রবিবার সকাল ১০ টার দিকে গেলে সংবাদ সংগ্রহরের জন্য প্রাইমারী স্কুলের সম্মুখে গেলে দেখা যায়, শহীদ ৯ শিশু শিক্ষার্থীর স্মরণে এবার আনুষ্ঠানিক কোন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি। এ সংক্রান্ত বিষয়ে স্কুলের প্রধান ফটক পেরিয়ে স্কুল অভ্যন্তরে গিয়ে দেখা যায় ফটকে তালা ঝুলছে, কাউকে না পেয়ে, স্কুল সংলগ্ন মরিয়ম মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলে গেলে উক্ত স্কুলের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানালেন, ৫আগষ্ট/২০২৪ গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৫ সালে তাদের স্কুলের পক্ষ থেকে শহীদ ৯শিশু শিক্ষার্থীর স্মৃতিচারণে নানা কর্মসূচি পালণ করা হয় এবং প্রাইমারী স্কুল কর্তৃপক্ষ মিলাদ মাহফিল এবং দোয়ার আয়োজন করে বলে তিনি জানান। নির্বাচনের কারণে এবার কোন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি বলেও জানান।

বেনাপোল পৌরসভার সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম লিটন কর্তৃক নির্মিত স্মৃতি স্তম্ভটি’র বর্তমান দুরবস্থা দেখে মনে হয়, সম্পূর্ণ অযত্ন আর অবহেলায় শিশুদের স্মৃতিচারনের স্থানটি ময়লা-আবর্জনায় ভেস্তে যেতে বসেছে। যেন দেখার কেউ নেই।

৯ শহীদ শিশুর স্মৃতি স্তম্ভটিতে রং এর কারুকাজ এবং উক্ত স্থানটি নিয়মিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্নেরর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, সে বিষয়ে বেনাপোল কর্তৃপক্ষের সুদৃস্টি রাখার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহলসহ অভিভাবকবৃন্দ।