শালিখায় চিত্রা নদীতে পাওয়া গেল প্রাচীন তরবারি
- আপডেট: ০৩:৩৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৪৪

মাগুরা প্রতিনিধিঃ মাগুরা-যশোর জেলার এলাকায় চিত্রা নদীর নাব্যতা আনতে খনন চলছে।
এ সময় ১৮ জানুয়ারি বিকেলে নদী খননকালে একটি তরবারি পাওয়া যায়।স্থানীয়রা ধারণা করছেন, সম্ভবত তরবারিটি মুঘল আমলের। তখন সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে মাগুরা জেলায় অবস্থিত রাজা সীতারাম রায় মুঘলদের বশ্যতা অস্বীকার করেন। এ কারণে তাকে শায়েস্তা করার জন্য মুঘলবাহিনী ঝিনাইদহের নলডাঙ্গা থেকে সাতটি যুদ্ধজাহাজ নিয়ে চিত্রা নদী দিয়ে মাগুরার মহাম্মদপুর রওনা দেয়। যাওয়ার পথে সীতারামের সৈন্যরা গুপ্তভাবে নৌযানগুলোকে বাধা প্রদান করেন। হয়তোবা কোনো সৈন্যের কাছ থেকে তখন তরবারিটি পানিতে পড়ে যেতে পারে।
তরবারিটি পর্যবেক্ষণ করলে এটি মধ্যযুগে ব্যবহৃত সৈন্যদের হাতিয়ারের সাথে মিল পাওয়া যায়। চিত্রা নদী খননকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেশ কয়েকদিন ধরেই চিত্রা নদীতে খননের কাজ চলছে। কাদিরপাড়া গ্রামের অংশে রোববার হঠাৎ করেই এক্সভেটরের বাকেটে এ তরবারিটি উঠে আসে।পরে সেই তরবারিটি ঠিকাদারের তত্ত্বাবধানকারী মনিরুল সরদার নামে একজন হেফাজতে নেই এবং শালিখা উপজেলা প্রশাসনকে জানাই।
এবিষয়ে যশোরের চিত্রা, ভৈরব ও আফ্রা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব রহমান বলেন, ইতিহাসে পড়ে জেনেছি,আজ তরবারি নিজে ধরে দেখেছি। তরবারিটি ওজন প্রায় ২কেজি এবং প্রায় ৪ফুট লম্বা লোহার কিন্তু মাঝে মাঝে সোনা বা পিতল দিয়ে ডিজাইন করা। তিনি আরো বলেন, কয়েকশো বছর আগের পুরাতন তরবারি হলেও এখনো কোন প্রকার মরিচা বা নস্ট হয়নি। তিনি বলেন এটি প্রাচীন ইতিহাস এবং ঐতিহ্য, তরবারিটি সংরক্ষণের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানায়।
শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বনি খবর পেয়ে চিত্রা নদীর পাড় থেকে পুরনো তরবারিটি উদ্ধার করেন। তিনি ধারনা করেন এটি প্রাচীনকালের তরবারি হতে পারে। এই তরবারি বিষয়ে খুলনা অঞ্চলের প্রত্নতন্ত্র অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে, তারা এসে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন। বর্তমান তরবারিটি উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে আছে।

















