এক দিন আগেই ঢাকামুখী জনস্রোত, তারেক রহমানকে বরণে চলছে মহাযজ্ঞ
- আপডেট: ১১:১৫:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৮২

গ্রামের সংবাদ ডেস্ক : মাঝে আর মাত্র এক দিন। ফুরোচ্ছে দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর। ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন শেষে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রিয় নেতার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে এবং তাকে বরণ করতে বিএনপিতে চলছে মহা কর্মযজ্ঞ। ‘লিডার আসছে’ ব্যানার নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে ঢাকামুখী জনস্রোত।
রাজধানীর খিলক্ষেত-বসুন্ধরার ৩০০ ফিটে তারেক রহমানকে দেওয়া হবে গণসংবর্ধনা। প্রস্তুত হয়েছে সংবর্ধনা সমাবেশের বিশাল দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ। এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কৃতজ্ঞতা জানাবেন দেশবাসীর প্রতি।
সমাবেশ সফল করতে গঠিত শৃঙ্খলা কমিটি কাজ করছে। সাজানো হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক টিম। সমাবশে এলাকা ও মঞ্চের আশপাশে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। তাদের পাশাপাশি কাজ করছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা টিমের (সিএসএফ) সদস্যরা।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে স্মরণকালের বৃহত্তম গণজমায়েতের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।
তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দলের অফিস ও নেতাকর্মী, এমনকি ঘরোয়া পরিবেশেও আলোচনায় তারেক রহমান।
দলের শীর্ষ নেতাকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার-বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে রাজধানী। নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা। নগরীর প্রধান সড়ক, অলি-গলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ঝুলছে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও বিলবোর্ড। এতে বড় অক্ষরে উৎকীর্ণ- ‘লিডার আসছে’, ‘হে বিজয়ী বীর, তোমাকে স্বাগত’ ইত্যাদি স্লোগান।
রাজধানীর পল্টন, মৎস্য ভবন মোড়, কাকরাইল, মোহাম্মদপুর, কারওয়ান বাজার, মহাখালী, গুলশান, বাড্ডা, খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে লাগানো এসব ব্যানার-বিলবোর্ডে শোভা পাচ্ছে তারেক রহমানের ছবি।

এদিকে ৩০০ ফিটের সমাবেশ মঞ্চের সামনে গত রাত ও আজ দিনভর নেতাকর্মীদের ভিড়। রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা থেকে তারা দলে দলে আসছেন, ঘুরেফিরে দেখছেন, কেউ কেউ জটলা করে গল্প করছেন। তাদের সঙ্টেগ যোগ দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারাও সদলবলে আসছেন। সমাবেশ মঞ্চের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরর্যবেক্ষণ করছেন।
দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিমানবন্দর থেকে সমাবেশস্থলে আসবেন তারেক রহমান। এখান থেকে সরাসরি যাবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে। সেখানে মায়ের শয্যাপাশে কিছু সময় কাটিয়ে গুলশানে মায়ের বাসায় উঠবেন ।
প্রস্তুত গুলশান ১৯৬
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমনকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে বিএনপির গুলশান ও নয়াপল্টন কার্যালয়। প্রস্তুত গুলশান-২ এর এভিনিউ রোডের ১৯৬ নম্বর বাড়ি। এই বাড়িতে উঠবেন তিনি। গুলশান কার্যালয় এবং তার থাকার বাড়ির চারপাশে কাঁটাতার দিয়ে করা হয়েছে নিরাপত্তা বেষ্টনী।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত লাগানো হচ্ছে প্রজেক্টর। যার মাধ্যমে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দৃশ্য লাইভ দেখানো হবে।
দল ও নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি
নেতাকর্মীদের আসার সুবিধার্থে বিএনপির পক্ষ থেকে ২৪ ডিসেম্বর রাতের বিভিন্ন রুটে ট্রেন রিজার্ভ করা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ভাড়া পরিশোধ করা হবে। দলের পক্ষ থেকে কক্সবাজার-ঢাকা, সিলেট-ঢাকা, জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা, টাঙ্গাইল-ঢাকা, চাঁপাইনব্বাগঞ্জ-রাজশাহী-ঢাকা, পঞ্চগড়-নিলফামারী-পার্বতীপুর-ঢাকা ও কুড়িগ্রাম-রংপুর-ঢাকা রুটের জন্য একটি করে স্পেশাল ট্রেন বা অতিরিক্ত বগি রিজার্ভ করা হয়েছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৩০০ ফিটে গণসংবর্ধনার মঞ্চ নির্মাণ প্রায় সম্পন্ন। একতলা ভবনের সমান উঁচু, ৪৮ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৩৬ ফুট প্রস্থের বিশাল মঞ্চ।

প্রতিদিনই দলের সিনিয়র নেতারা গণসংবর্ধনার স্থান প্রত্যক্ষভাবে তদারকি করছেন। ৩০০ ফিট জুড়ে সহস্রাধিক মাইক লাগানো কাজ চলছে।
নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকবেন তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতাল এবং গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবন পর্যন্ত পুরো পথটি নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে। এতে এসএসএফ, পুলিশ, র্যাবসহ বিএনপির চেয়ারপার্সনের সিকিউরিটি ফোর্স সিএসএফ তারেক রহমানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।
বিদেশ থেকে আমদানি করা বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন একটি বুলেটপ্রুফ ‘হার্ড জিপ’ গাড়ি তারেক রহমানকে বহন করবে। টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো এলসি ২৫০ মডেলের গাড়িটি ইতিমধ্যে বিএনপি’র নামে নিবন্ধিত হয়েছে। এ ছাড়া তার নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের জন্য একটি বুলেটপ্রুফ বাসও দেশে এসেছে।
এদিকে, বিমান, ট্রেন ও সড়কপথে নেতাকর্মীদের ঢাকামুখী স্রোত শুরু হয়েছে। তারা রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল এবং আত্মীয়দের বাড়িতে উঠছেন। ৩০০ ফিট, গুলশান ও নয়াপল্টন কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে গত ১ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই হচ্ছে স্থায়ী কমিটির বৈঠক। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ নেতাদের সাথে নিয়মিত সভা করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। বিশেষ করে নগরবাসী যাতে ভোগান্তিতে না পড়ে এবং ঢাকা বাইরে থেকে আসা নেতাকর্মীদের তদারকির বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।
কয়েকজন জেলা নেতা ঢাকা টাইমসকে জানান, ২৪ ডিসেম্বর তাদের ঢাকায় আসার কথা থাকলেও গাড়িস্বল্পতার কারণে হাজার হাজার নেতাকর্মীর এক দিনে ঢাকায় যাওয়া সম্ভব নয়। তাই তারা ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর দুই দিন ধরে পর্যায়ক্রমে ঢাকায় আসবেন।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ, গাবতলী, ধুনট, শেরপুর, সারিয়াকান্দি, শাজাহানপুর উপজেলা থেকে ঢাকাগামী প্রায় ৫০০টি বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেক নেতাকর্মী মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারে করে ইতোমধ্যে ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন।
তারেক রহমান তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালে কারাগার থেকে বেরিয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান। ২০১২ সালে তিনি সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন এবং এক বছরের মধ্যে সেটি গৃহীত হয়।
তারপর বৈরী সরকারের নানা মিথ্যা মামলা ও হুমকির কারণে দেশে ফেরা হয়নি তার। গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে তার ফেরার পরিবেশ তৈরি হয়।
অবশেষে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সব অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে ২৫ ডিসেম্বর। দেশে ফিরছেন তারেক রহমান।





















