০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

খাগড়াছড়িতে ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমিটি গঠন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৫৬:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৭২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।
পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে নতুন মাইলফলক হিসেবে খাগড়াছড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হলো ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট খাগড়াছড়ি জেলা কমিটি।

গত শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে হোটেল গাইরিং হলরুমে অনুষ্ঠিত এই গঠনসভা আয়োজন করে জাবারাং কল্যাণ সমিতি, ক্লিন (উপকূলীয় জীবিকা ও পরিবেশগত কর্ম নেটওয়ার্ক) এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট।

শিক্ষক, সাংবাদিক, নারী উদ্যোক্তা, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবসায়ী, স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী থেকে শুরু করে পরিবেশ সচেতন নাগরিক-বহুমাত্রিক অংশগ্রহণে গঠিত এ ফোরামের লক্ষ্য দেশের জ্বালানি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিনিয়োগে জোরালো অ্যাডভোকেসি:
ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট দেশের বিদ্যুৎ খাতে জীবাশ্ম-জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সম্মিলিতভাবে নীতিগত চাপ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার) সম্প্রসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে নবায়নযোগ্য শক্তির লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কাজ করবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আলো’র নির্বাহী পরিচালক অরুণ কান্তি চাকমা। তিনি বলেন,“টেকসই উন্নয়ন কেবল বক্তৃতা নয়; এটি নাগরিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বাস্তব পদক্ষেপের সমন্বয়।”

বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত আলোচনা
গঠনসভায় উপস্থিত ছিলেন-প্রিয় কুমার চাকমা (অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পার্বত্য জেলা পরিষদ)দুর্বার নেটওয়ার্কে জেলা সমন্বয়ক নমিতা চাকমা,জাবারাং কল্যাণ সমিতি’র নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা,সাহিত্য পরিষদের জেলা শাখা’র সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আদনান, কৃষি ব্যাংক খাগড়াছড়ি শাখা’র ব্যবস্থাপক দেবাশীষ ত্রিপুরা,অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ক্যাহ্রাচাই চৌধুরী-সহ স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও তরুণরা।

কৃষি ব্যাংক পিএলসি–এর ব্যবস্থাপক দেবাশীষ ত্রিপুরা সবুজ ব্যাংকিং ও সবুজ অর্থায়ন বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করে জানান-যে কেউ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে উদ্যোগ নিতে পারবেন।

১৫ সদস্যের ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমিটি ঘোষণা:
আলোচনাশেষে অরুণ কান্তি চাকমাকে সভাপতি ও ইখিন চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট
ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট খাগড়াছড়ি জেলা কমিটি গঠন করা হয়।

জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষতি ও নবায়নযোগ্য বিকল্পের জরুরি প্রয়োজন

সভায় জানানো হয়-গত ১৬ বছরে শুধু বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র মালিকদের ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ১.৭২ লক্ষ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। আমদানি–নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যয় ও ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধে পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি) লোকসান করেছে ২.৫৩ লক্ষ কোটি টাকা, যার মেটানো হয়েছে করদাতাদের অর্থে।
নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারই এই আর্থিক ক্ষতি কমানোর টেকসই পথ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

২০২৩০-২০৫০ পর্যন্ত রূপান্তরের রোডম্যাপ দাবি;
ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দাবি জানায়-২০২৩০ সালের মধ্যে ৩০%,২০৪০ সালের মধ্যে ৪০% এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ১০০% নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর নিশ্চিত করতে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা গ্রহণ করা হোক। এ ছাড়াও শক্তি বাজেটের কমপক্ষে ৪০% নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে বরাদ্দ করার আহ্বান জানানো হয়।

ফোরাম সদস্যরা মাসিক সভা, সচেতনতা ক্যাম্পেইন, কর্মশালা এবং নির্বাচনকালীন অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন।

Please Share This Post in Your Social Media

খাগড়াছড়িতে ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমিটি গঠন

আপডেট: ১১:৫৬:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।
পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে নতুন মাইলফলক হিসেবে খাগড়াছড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হলো ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট খাগড়াছড়ি জেলা কমিটি।

গত শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে হোটেল গাইরিং হলরুমে অনুষ্ঠিত এই গঠনসভা আয়োজন করে জাবারাং কল্যাণ সমিতি, ক্লিন (উপকূলীয় জীবিকা ও পরিবেশগত কর্ম নেটওয়ার্ক) এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট।

শিক্ষক, সাংবাদিক, নারী উদ্যোক্তা, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবসায়ী, স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী থেকে শুরু করে পরিবেশ সচেতন নাগরিক-বহুমাত্রিক অংশগ্রহণে গঠিত এ ফোরামের লক্ষ্য দেশের জ্বালানি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিনিয়োগে জোরালো অ্যাডভোকেসি:
ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট দেশের বিদ্যুৎ খাতে জীবাশ্ম-জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সম্মিলিতভাবে নীতিগত চাপ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার) সম্প্রসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে নবায়নযোগ্য শক্তির লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কাজ করবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আলো’র নির্বাহী পরিচালক অরুণ কান্তি চাকমা। তিনি বলেন,“টেকসই উন্নয়ন কেবল বক্তৃতা নয়; এটি নাগরিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বাস্তব পদক্ষেপের সমন্বয়।”

বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত আলোচনা
গঠনসভায় উপস্থিত ছিলেন-প্রিয় কুমার চাকমা (অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পার্বত্য জেলা পরিষদ)দুর্বার নেটওয়ার্কে জেলা সমন্বয়ক নমিতা চাকমা,জাবারাং কল্যাণ সমিতি’র নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা,সাহিত্য পরিষদের জেলা শাখা’র সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আদনান, কৃষি ব্যাংক খাগড়াছড়ি শাখা’র ব্যবস্থাপক দেবাশীষ ত্রিপুরা,অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ক্যাহ্রাচাই চৌধুরী-সহ স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও তরুণরা।

কৃষি ব্যাংক পিএলসি–এর ব্যবস্থাপক দেবাশীষ ত্রিপুরা সবুজ ব্যাংকিং ও সবুজ অর্থায়ন বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করে জানান-যে কেউ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে উদ্যোগ নিতে পারবেন।

১৫ সদস্যের ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমিটি ঘোষণা:
আলোচনাশেষে অরুণ কান্তি চাকমাকে সভাপতি ও ইখিন চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট
ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট খাগড়াছড়ি জেলা কমিটি গঠন করা হয়।

জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষতি ও নবায়নযোগ্য বিকল্পের জরুরি প্রয়োজন

সভায় জানানো হয়-গত ১৬ বছরে শুধু বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র মালিকদের ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ১.৭২ লক্ষ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। আমদানি–নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যয় ও ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধে পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি) লোকসান করেছে ২.৫৩ লক্ষ কোটি টাকা, যার মেটানো হয়েছে করদাতাদের অর্থে।
নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারই এই আর্থিক ক্ষতি কমানোর টেকসই পথ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

২০২৩০-২০৫০ পর্যন্ত রূপান্তরের রোডম্যাপ দাবি;
ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দাবি জানায়-২০২৩০ সালের মধ্যে ৩০%,২০৪০ সালের মধ্যে ৪০% এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ১০০% নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর নিশ্চিত করতে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা গ্রহণ করা হোক। এ ছাড়াও শক্তি বাজেটের কমপক্ষে ৪০% নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে বরাদ্দ করার আহ্বান জানানো হয়।

ফোরাম সদস্যরা মাসিক সভা, সচেতনতা ক্যাম্পেইন, কর্মশালা এবং নির্বাচনকালীন অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন।