নিষেধাজ্ঞার পাল্টা-পাল্টিতে বেনাপোলে বানিজ্য ধস! ঘাটতি ৭ লাখ মেট্রিক টনের বেশি
- আপডেট: ১২:৩০:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
- / ৩৭৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারত-বাংলাদেশের আমদানি-রফতানিতে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা আর রাজনৈতিক টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় বেনাপোল স্থলবন্দর পড়েছে চরম বাণিজ্যিক সংকটে। গেল ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে ৭ লাখ ৬ হাজার ৫৬২ মেট্রিক টন।
বন্দরে আমদানি কমেছে ৬ লাখ টনের বেশি, রফতানিও কমেছে লক্ষাধিক টনের কাছাকাছি।
বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত থেকে আমদানি হয়েছিল ২১ লাখ ৩০ হাজার ২২৮ মেট্রিক টন পণ্য। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৮৯৮ মেট্রিক টনে। এতে আমদানিতে ঘাটতি হয়েছে ৬ লাখ ৩১ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন।
এদিকে রফতানিতেও ধস নেমেছে। ২০২৩-২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানি হয়েছিল ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন পণ্য। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ, কমেছে ৭৫ হাজার ২৩২ মেট্রিক টন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় স্থলপথের বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল থেকে ভারতের নিষেধাজ্ঞায় আকাশপথে পণ্য রফতানি বন্ধ রয়েছে। এরপর ১৭ মে থেকে বন্ধ হয় গার্মেন্টস, তুলা, বর্জ্য, আসবাবপত্র ও ফলজাতীয় পণ্য রফতানি। সবশেষ ২৬ জুন পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানিতেও নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত।
অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারও দেশীয় শিল্প রক্ষার অজুহাতে ভারত থেকে সুতা আমদানি নিষিদ্ধ করেছে।
বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক বলেন, “এই নিষেধাজ্ঞার ধাক্কা আমাদের অস্তিত্বের উপর এসে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা পথে বসার উপক্রম।”
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, “নিষেধাজ্ঞা এখন রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠেছে। দুই দেশের সম্পর্ক ভালো না হলে ব্যবসা আর চলবে না।”
বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, “অনেক অপ্রয়োজনীয় পণ্যে সরকারের নিজস্ব নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পাশাপাশি ভারতের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশি পণ্যে রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত আছে। তবে প্রতিদিন কিছু ট্রাক পণ্য আসছে-যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার (০৩ জুলাই-২০২৫) ভারত থেকে ৪৮৬টি ট্রাকে পণ্য এসেছে, আর রফতানি গেছে মাত্র ৭৬টি ট্রাকে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায় দেশের বৃহৎ স্থলবন্দরে এই ধস দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে আমদানি-রফতানি, রাজস্ব এবং কর্মসংস্থানের উপর।

















