১১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

জুনে বেড়েছে ধর্ষণ-গণপিটুনিতে হত্যা ও অজ্ঞাত লাশের সংখ্যা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০২:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
  • / ৮৮

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সারাদেশে ধর্ষণ ও গণপিটুনিতে হত্যার সংখ্যা বেড়েছে শেষ হতে চলা জুন মাসে। সেই দলবদ্ধ ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন ও নিগ্রহ বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) দেওয়া জুন মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

সোমবার (৩০ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে এমএসএফ।

এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ৩৬৩টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। যা গত মাসের তুলনায় ৫টি কম। এ মাসে ধর্ষণের ঘটনা ৬৩টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১৭টি, ধর্ষণ ও হত্যা ৪টি। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭ জন প্রতিবন্ধী কিশোরী ও নারী। গত মে মাসে দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল ৫৯টি।

চলতি মাসে ধর্ষণের শিকার ৬৩ জনের মধ্যে ১৯ শিশু ও ২৩ কিশোরী রয়েছে। অপরদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২ শিশু, ৭ জন কিশোরী ও ৮ জন নারী এবং ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছেন ১ জন কিশোরী ও ৩ জন নারী। ধর্ষণের চেষ্টা ২৭টি, যৌন হয়রানি ৩৯টি, শারীরিক নির্যাতনের ৫১টি ঘটনা ঘটেছে।

জুন মাসে ৪৯টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার হয়েছে। এমএসএফ বলছে, এটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং নাগরিক জীবনে নিরাপত্তাহীনতার বড় কারণ। অল্পসংখ্যক ঘটনা ছাড়া সব কটি লাশের পরিচয় অজ্ঞাতই থেকে যাচ্ছে। মে মাসে এর সংখ্যা ছিল ৫৫ জন। এসব অজ্ঞাতনামা লাশের বেশির ভাগই নদী বা ডোবায় ভাসমান, মহাসড়ক বা সড়কের পাশে, সেতুর নিচে, রেললাইনের পাশে, ফসলি জমিতে ও পরিত্যক্ত স্থানে পাওয়া যায়। অল্পসংখ্যক মৃতদেহ গলা কাটা, বস্তাবন্দী ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

এমএসএফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জুন মাসে অন্তত ৪১টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ৪৭ জন গুরুতর আহত হয়েছে। গণপিটুনির শিকার ৩০ জনকে আহতাবস্থায় পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। গণপিটুনিতে নিহতের মধ্যে ২ জনকে ডাকাতির অভিযোগে, ৩ জনকে সন্দেহজনক চুরির অভিযোগে, ১ জনকে খুনের অভিযোগে, ২ জনকে চুরির অভিযোগে এবং আরও দুজনকে শিশু নির্যাতন ও নারী ধর্ষণের অভিযোগে হত্যা করা হয়।

অপরদিকে হত্যার অভিযোগে ১ জন, ৫ জনকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে, ৩ জনকে যৌন হয়রানির অভিযোগে, ৪ জনকে ছিনতাইয়ের অভিযোগে, ১৭ জনকে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী হওয়ার অভিযোগে, ৪ জনকে ডাকাতির অভিযোগে এবং চুরি, চাঁদাবাজি, কটূক্তি, প্রতারণা, অপহরণ এ ধরনের অপরাধজনিত বিষয়ে সন্দেহজনককেভাবে ১৫ জনকে গণপিটুনি দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

গত মে মাসে গণপিটুনির ৩৪টি ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছিল বলে এমএসএফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই তুলনা এ মাসে গণপিটুনিতে হত্যার সংখ্যা বেড়েছে।

দেশের শীর্ষ ২০টির বেশি জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকের প্রতিবেদন এবং নিজেদের তথ্যানুসন্ধানের ভিত্তিতে এ মানবাধিকার প্রতিবেদন তৈরি করেছে এমএসএফ।

Please Share This Post in Your Social Media

জুনে বেড়েছে ধর্ষণ-গণপিটুনিতে হত্যা ও অজ্ঞাত লাশের সংখ্যা

আপডেট: ০২:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সারাদেশে ধর্ষণ ও গণপিটুনিতে হত্যার সংখ্যা বেড়েছে শেষ হতে চলা জুন মাসে। সেই দলবদ্ধ ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন ও নিগ্রহ বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) দেওয়া জুন মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

সোমবার (৩০ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে এমএসএফ।

এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ৩৬৩টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। যা গত মাসের তুলনায় ৫টি কম। এ মাসে ধর্ষণের ঘটনা ৬৩টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১৭টি, ধর্ষণ ও হত্যা ৪টি। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭ জন প্রতিবন্ধী কিশোরী ও নারী। গত মে মাসে দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল ৫৯টি।

চলতি মাসে ধর্ষণের শিকার ৬৩ জনের মধ্যে ১৯ শিশু ও ২৩ কিশোরী রয়েছে। অপরদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২ শিশু, ৭ জন কিশোরী ও ৮ জন নারী এবং ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছেন ১ জন কিশোরী ও ৩ জন নারী। ধর্ষণের চেষ্টা ২৭টি, যৌন হয়রানি ৩৯টি, শারীরিক নির্যাতনের ৫১টি ঘটনা ঘটেছে।

জুন মাসে ৪৯টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার হয়েছে। এমএসএফ বলছে, এটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং নাগরিক জীবনে নিরাপত্তাহীনতার বড় কারণ। অল্পসংখ্যক ঘটনা ছাড়া সব কটি লাশের পরিচয় অজ্ঞাতই থেকে যাচ্ছে। মে মাসে এর সংখ্যা ছিল ৫৫ জন। এসব অজ্ঞাতনামা লাশের বেশির ভাগই নদী বা ডোবায় ভাসমান, মহাসড়ক বা সড়কের পাশে, সেতুর নিচে, রেললাইনের পাশে, ফসলি জমিতে ও পরিত্যক্ত স্থানে পাওয়া যায়। অল্পসংখ্যক মৃতদেহ গলা কাটা, বস্তাবন্দী ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

এমএসএফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জুন মাসে অন্তত ৪১টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ৪৭ জন গুরুতর আহত হয়েছে। গণপিটুনির শিকার ৩০ জনকে আহতাবস্থায় পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। গণপিটুনিতে নিহতের মধ্যে ২ জনকে ডাকাতির অভিযোগে, ৩ জনকে সন্দেহজনক চুরির অভিযোগে, ১ জনকে খুনের অভিযোগে, ২ জনকে চুরির অভিযোগে এবং আরও দুজনকে শিশু নির্যাতন ও নারী ধর্ষণের অভিযোগে হত্যা করা হয়।

অপরদিকে হত্যার অভিযোগে ১ জন, ৫ জনকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে, ৩ জনকে যৌন হয়রানির অভিযোগে, ৪ জনকে ছিনতাইয়ের অভিযোগে, ১৭ জনকে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী হওয়ার অভিযোগে, ৪ জনকে ডাকাতির অভিযোগে এবং চুরি, চাঁদাবাজি, কটূক্তি, প্রতারণা, অপহরণ এ ধরনের অপরাধজনিত বিষয়ে সন্দেহজনককেভাবে ১৫ জনকে গণপিটুনি দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

গত মে মাসে গণপিটুনির ৩৪টি ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছিল বলে এমএসএফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই তুলনা এ মাসে গণপিটুনিতে হত্যার সংখ্যা বেড়েছে।

দেশের শীর্ষ ২০টির বেশি জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকের প্রতিবেদন এবং নিজেদের তথ্যানুসন্ধানের ভিত্তিতে এ মানবাধিকার প্রতিবেদন তৈরি করেছে এমএসএফ।