১০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

বেনাপোলে বন্দর কর্তৃপক্ষের সাংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:২৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • / ৭৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে পণ্যচালান প্রবেশ থেকে খালাস পর্যন্ত সমগ্র প্রক্রিয়া সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (৪ মে ২০২৬) সকাল ১১টায় বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের দ্বিতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বন্দর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ধাপ, আধুনিকায়ন কার্যক্রম ও রাজস্ব প্রবৃদ্ধির চিত্র উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) ও উপ-সচিব মো. শামীম হোসেন বলেন, “দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বেনাপোল বন্দরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করা হয়েছে।” তিনি জানান, রিলিজ অর্ডারসহ বেশ কিছু কার্যক্রম ইতোমধ্যে কম্পিউটারাইজড হওয়ায় পণ্য খালাস প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ, দ্রুত ও সময়সাশ্রয়ী হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমদানি-রপ্তানির প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত নিয়মে সম্পন্ন হচ্ছে এবং কাস্টমস, বিজিবি, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সিএন্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বন্দর পরিচালিত হচ্ছে। নজরদারি জোরদার করায় অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

স্ক্রিন প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে আমদানির ধাপসমূহ তুলে ধরে জানানো হয়, প্রথমে এলসি খোলা, এরপর ইমপোর্ট জেনারেল মেনিফেস্ট (আইজিএম) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পণ্যের তথ্য বাংলাদেশে প্রেরণ করা হয়। সিএন্ডএফ এজেন্ট কাস্টমসে নথি দাখিল করে অনলাইনে এন্ট্রি সম্পন্ন করার পর কাস্টমস অনুমোদন দিলে পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে।

বন্দরে প্রবেশের পর বিজিবি, কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই শেষে ট্রাকগুলো ওজন স্কেলে পরিমাপ করা হয় এবং নির্ধারিত শেড বা ইয়ার্ডে পণ্য আনলোড করা হয়। এরপর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্য পরীক্ষণ ও শুল্কায়ন সম্পন্ন করে। শুল্ক পরিশোধের পর রিলিজ অর্ডার ইস্যু হলে বন্দর মাশুল পরিশোধ সাপেক্ষে পণ্য খালাস করা হয়। সর্বশেষ গেইটপাস ইস্যুর মাধ্যমে বাংলাদেশি ট্রাকে পণ্য লোড দিয়ে নির্ধারিত গেট দিয়ে বের হয়ে যায়।

তবে সম্মেলনে স্বীকার করা হয়, পণ্য আনলোড ও লোডের সময় কাস্টমস প্রতিনিধির উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলেও জনবল সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।

এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ রাজস্ব আহরণের ইতিবাচক চিত্রও তুলে ধরে জানায়, গত পাঁচ বছরে বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে রাজস্ব ছিল ৪ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা, তা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৯ কোটি টাকায়। সর্বশেষ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে বলেও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা বন্দরের বিভিন্ন সমস্যা ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করলে কর্তৃপক্ষ জানায়, ধাপে ধাপে সমস্যাগুলো সমাধানের কাজ চলছে এবং শিগগিরই দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।

অনুষ্ঠানে বন্দরের সহকারী পরিচালক কাজী রতনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বেনাপোলে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন। শেষে বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দর সংক্রান্ত সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে।

Please Share This Post in Your Social Media

বেনাপোলে বন্দর কর্তৃপক্ষের সাংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আপডেট: ০৬:২৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে পণ্যচালান প্রবেশ থেকে খালাস পর্যন্ত সমগ্র প্রক্রিয়া সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (৪ মে ২০২৬) সকাল ১১টায় বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের দ্বিতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বন্দর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ধাপ, আধুনিকায়ন কার্যক্রম ও রাজস্ব প্রবৃদ্ধির চিত্র উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) ও উপ-সচিব মো. শামীম হোসেন বলেন, “দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বেনাপোল বন্দরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করা হয়েছে।” তিনি জানান, রিলিজ অর্ডারসহ বেশ কিছু কার্যক্রম ইতোমধ্যে কম্পিউটারাইজড হওয়ায় পণ্য খালাস প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ, দ্রুত ও সময়সাশ্রয়ী হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমদানি-রপ্তানির প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত নিয়মে সম্পন্ন হচ্ছে এবং কাস্টমস, বিজিবি, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সিএন্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বন্দর পরিচালিত হচ্ছে। নজরদারি জোরদার করায় অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

স্ক্রিন প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে আমদানির ধাপসমূহ তুলে ধরে জানানো হয়, প্রথমে এলসি খোলা, এরপর ইমপোর্ট জেনারেল মেনিফেস্ট (আইজিএম) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পণ্যের তথ্য বাংলাদেশে প্রেরণ করা হয়। সিএন্ডএফ এজেন্ট কাস্টমসে নথি দাখিল করে অনলাইনে এন্ট্রি সম্পন্ন করার পর কাস্টমস অনুমোদন দিলে পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে।

বন্দরে প্রবেশের পর বিজিবি, কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই শেষে ট্রাকগুলো ওজন স্কেলে পরিমাপ করা হয় এবং নির্ধারিত শেড বা ইয়ার্ডে পণ্য আনলোড করা হয়। এরপর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্য পরীক্ষণ ও শুল্কায়ন সম্পন্ন করে। শুল্ক পরিশোধের পর রিলিজ অর্ডার ইস্যু হলে বন্দর মাশুল পরিশোধ সাপেক্ষে পণ্য খালাস করা হয়। সর্বশেষ গেইটপাস ইস্যুর মাধ্যমে বাংলাদেশি ট্রাকে পণ্য লোড দিয়ে নির্ধারিত গেট দিয়ে বের হয়ে যায়।

তবে সম্মেলনে স্বীকার করা হয়, পণ্য আনলোড ও লোডের সময় কাস্টমস প্রতিনিধির উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলেও জনবল সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।

এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ রাজস্ব আহরণের ইতিবাচক চিত্রও তুলে ধরে জানায়, গত পাঁচ বছরে বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে রাজস্ব ছিল ৪ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা, তা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৯ কোটি টাকায়। সর্বশেষ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে বলেও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা বন্দরের বিভিন্ন সমস্যা ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করলে কর্তৃপক্ষ জানায়, ধাপে ধাপে সমস্যাগুলো সমাধানের কাজ চলছে এবং শিগগিরই দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।

অনুষ্ঠানে বন্দরের সহকারী পরিচালক কাজী রতনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বেনাপোলে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন। শেষে বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দর সংক্রান্ত সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে।