জমজমাট ফাইনাল খেলায় মাসব্যাপি খাগড়াছড়ি জেলা ক্রিকেট লীগের পর্দা নামল
- আপডেট: ১১:৩৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
- / ২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।
দীর্ঘ মাসব্যাপি উত্তেজনাপূর্ণ খাগড়াছড়ি জেলা ক্রিকেট লীগ শেষ হলো এক স্মরণীয় ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে, যা ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য ছিল এক রোমাঞ্চকর উৎসব।
শনিবার (২৮মার্চ) বিকালে খাগড়াছড়ি জেলা স্টেডিয়াম হয়ে ওঠে ক্রিকেটের উত্তাপময় মহল, যেখানে দর্শকরা উপভোগ করেন খেলার প্রতিটি উত্তেজক মুহূর্ত। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এর অর্থায়ন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থা’র সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়।
ফাইনালে মুখোমুখি হয় খাগড়াছড়ি আইডিয়াল বহুমুখী সমবায় সমিতি দল এবং দিঘিনালা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা। দিঘিনালা দল টসে হেরে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন এবং ৩৮.২ ওভারে ১০ উইকেট হারিয়ে ৯৯ রান সংগ্রহ করে। উত্তেজনাপূর্ণ চেজে, খাগড়াছড়ি আইডিয়াল দল মাত্র ২২.১ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান অর্জন করে জয় নিশ্চিত করে এবং ফাইনাল ম্যাচের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
ম্যাচের ম্যান অফ দ্যা ফাইনাল নির্বাচিত হন মনন চাকমা, যিনি চমকপ্রদভাবে ৪ উইকেট নেন। মননই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী, মোট ১৯ উইকেট নিয়ে। সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হয়েছেন আসাদুল, যিনি ১৬১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়া ইশান ১৩০ রান ও ১০ উইকেট সংগ্রহের দারুণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্লেয়ার অব দ্যা টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হন।
পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) হাসান মারুফ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (আইসিটি সেল) মো. সাজ্জাদ হোসেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু, যুগ্ম-সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থা’র এডহক কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এর কাউন্সিলর আনিসুল আলম চৌধুরী, পাশাপাশি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ক্রীড়া সংগঠক ও অন্যান্য ক্রীড়া সংস্থার সদস্যরা।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচ, কর্মকর্তাদের হাতে সন্মাননা তুলে দেওয়া হয়, যা স্থানীয় ক্রীড়াজগতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিভাত হয়। দর্শকরা আনন্দের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন দলের জয় উদযাপন করেন।
মাসব্যাপি এই লীগ শুধু ক্রিকেট প্রতিযোগিতার উত্তেজনা দেখায়নি, এটি স্থানীয় ক্রীড়া প্রতিভা ও টিমওয়ার্কের মূল্য এবং কমিউনিটির একতা ও স্পোর্টসম্যানশিপকেও ফুটিয়ে তুলেছে। খেলোয়াড়রা কেবল জয়লাভ করেনি, বরং খেলার প্রতি উৎসাহ, মনোবল এবং ধারাবাহিক পরিশ্রমের মহিমাও উপস্থাপন করেছেন।
এই চমৎকার আয়োজন খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে এবং স্থানীয় ক্রীড়ার মান উন্নয়নে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। আগামী বছরেও দর্শকরা এমন উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিকেট দেখতে আগ্রহী থাকবে, যা এই জেলা ক্রিকেট লীগের প্রভাব ও জনপ্রিয়তাকে আরও বৃদ্ধি করবে।


























