বিশ্বে ক্ষমতার শীর্ষে উত্থান ও ফাঁসির মঞ্চে পতন হয়েছে যেসব শাসকদের
- আপডেট: ১১:০০:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
- / ৩৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ফাঁসির রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ইতিহাসে শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এমন শাস্তির নজির নতুন নয়। অতীতেও বহু রাষ্ট্রপ্রধান, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী বিচার, অভ্যুত্থান কিংবা বিপ্লব-পরবর্তী পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড বা কঠোর দণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধ, রাষ্ট্রদ্রোহ, গণহত্যা কিংবা সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে এদের অনেকেই ক্ষমতার চূড়া থেকে মৃত্যুদণ্ডের মঞ্চে পৌঁছেছেন। ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য কিছু শাসকের পরিণতি তুলে ধরা হলো—
পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টো
১৯৭৯ সালের ৪ এপ্রিল রাওয়ালপিন্ডি জেলে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী ভুট্টোর। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হত্যার ষড়যন্ত্র মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। পাকিস্তানে এ মৃত্যুদণ্ড ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত।
ইরাকের সাদ্দাম হোসেন
২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ইরাকের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সাদ্দাম হোসেনকে দুজাইল গণহত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। মার্কিন আগ্রাসনের পর বিশ্বজুড়ে আলোচিত এ বিচার নিয়ে বিতর্ক আজও রয়েছে।
ইরানের আমির–আব্বাস হোভেইদা
ইসলামী বিপ্লবের পর ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল ইরানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোভেইদাকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সংক্ষিপ্ত বিচার ও কঠোর পদক্ষেপটি আজও বিতর্কিত।
রোমানিয়ার নিকোলাই চশেস্কু
১৯৮৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর দ্রুত বিচারে গণহত্যা, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রেসিডেন্ট চশেস্কু ও তার স্ত্রী এলেনাকে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সোভিয়েত ব্লকের পতনের সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনার একটি এটি।
ইতালির বেনিতো মুসোলিনি
১৯৪৫ সালের ২৮ এপ্রিল পালিয়ে যাওয়ার সময় ইতালির পার্টিজানরা মুসোলিনি ও তার প্রেমিকাকে আটক করে গুলি করে হত্যা করে। ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের প্রতীক হয়ে রয়েছে এ ঘটনা।
হাঙ্গেরির ইমরে ন্যাগি
১৯৫৮ সালের ১৬ জুন সমাজতান্ত্রিক নেতা ন্যাগিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ফাঁসি দেওয়া হয়। ১৯৫৬ সালের ব্যর্থ বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে অনুষ্ঠিত এ বিচারকে ‘শো ট্রায়াল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মেক্সিকোর সম্রাট ম্যাক্সিমিলিয়ান
ফরাসি সমর্থনে প্রতিষ্ঠিত দ্বিতীয় মেক্সিকান সাম্রাজ্যের শাসক ম্যাক্সিমিলিয়ানকে ১৮৬৭ সালে রিপাবলিকান বাহিনী বন্দি করে সামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম চার্লস
১৬৪৯ সালে ইংরেজ গৃহযুদ্ধের পর প্রথম চার্লসকে শিরশ্ছেদ করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তার মৃত্যুদণ্ড সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ও আধুনিক গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফ্রান্সের রাজা ষোড়শ লুই
১৭৯৩ সালে ফরাসি বিপ্লবের সময় রাষ্ট্রদ্রোহে দোষী সাব্যস্ত হয়ে গিলোটিনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় ষোড়শ লুইয়ের। পরবর্তীতে রানি মারি আঁতোয়ানেতও একই যন্ত্রে মৃত্যুদণ্ড পান। ইউরোপে রাজতন্ত্রের পতনের প্রতীকী মুহূর্ত এটি।
কারাদণ্ড পাওয়া শীর্ষ নেতারা
মৃত্যুদণ্ড না হলেও অনেক নেতাই ক্ষমতা হারানোর পর কঠোর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হয়েছেন—
নিকোলাস সারকোজি: ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট; দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ড।
ইংলাক সিনাওয়াত্রা: থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী; অনুপস্থিতিতে ৫ বছরের কারাদণ্ড।
এহুদ ওলমার্ট: ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী; প্রতারণা মামলায় ২ বছর ৩ মাস।
নাজিব রাজাক: মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী; দুর্নীতিতে ১২ বছরের কারাদণ্ড।
জ্যাকব জুমা: দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট; তদন্তে সহযোগিতা না করায় ১৫ মাস।

















