০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

পরিষ্কার করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৩৮:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
  • / ৩২২

নিজস্ব প্রতিবেদক : গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি প্রায় এক বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার থেকে ১০তলা এই ভবন পরিষ্কার করা শুরু হয়েছে। ভবনটির সামনে ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ নামে দুটি ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, তৃতীয় তলায় জমে থাকা ইটের খোয়া ও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ পরিষ্কার করা হচ্ছে। দোতলায় জমে থাকা আবর্জনা ইতিমধ্যে পরিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে গতকাল সকাল থেকেই নিচতলা পরিষ্কার করা হয়।

দেখা যায়, ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি ভবনটি পরিষ্কারের কাজ করছেন। এ সময় তারা বলেছেন, “পুরো ভবন তারা পরিষ্কার করবেন। ভবনটির সামনে প্লাস্টিকের চেয়ারে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে বসে থাকতে দেখা গেছে।”

আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ নামের ব্যানার টাঙানের বিষয়ে জানতে চাইলে সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিরা বলেন, “পুরো ভবনটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই ভবনে গত বছরের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের অফিস, শহীদ পরিবারের অফিস করা হবে।”

তারা আরো বলেন, “পুরো ভবনের কোন তলায় কী হবে, তা ছাত্র-জনতা ঠিক করে নেবে।”

তবে, সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিদের কেউ নিজেদের নাম–পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। এদিকে আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট নামের এই প্রতিষ্ঠান কে তৈরি করেছে, এর সঙ্গে কারা যুক্ত, কীভাবে এই নাম এসেছে-সেসব প্রশ্নে ওই ব্যক্তিরা কিছু বলতে রাজি হননি।

কার্যালয়টির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ছবি তুলছিলেন আবদুস ছাত্তার নামের এক পথচারী। তিনি বলেন, “একটি দল স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে পরিণতি কী হতে পারে, এই ভবনটি দেখলেই তা বোঝা যায়। দেশের প্রাচীন দল আওয়ামী লীগের এমন করুণ পরিণতি থেকে অন্যদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।”

কার্যালয়ের সামনের দুজন দোকানি বলেন, “পোড়া এই ভবনের নিচতলা এত দিন শৌচাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। মলমূত্র জমে থাকার কারণে উৎকট গন্ধ আশপাশে ছড়িয়ে পড়ত। ভবনটির সামনে দিয়ে চলতে গেলে নাক চেপে যেতে হতো।”

উল্লেখ্য, গুলিস্তান এলাকায় ১০ তলাবিশিষ্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি ২০১৮ সালের ২৩ জুন উদ্বোধন করেছিলেন দলের সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভবনটিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর আগস্ট মাসজুড়ে চলে লুটপাট। তখন থেকে এই ভবন অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

পরিষ্কার করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়

আপডেট: ১১:৩৮:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি প্রায় এক বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার থেকে ১০তলা এই ভবন পরিষ্কার করা শুরু হয়েছে। ভবনটির সামনে ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ নামে দুটি ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, তৃতীয় তলায় জমে থাকা ইটের খোয়া ও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ পরিষ্কার করা হচ্ছে। দোতলায় জমে থাকা আবর্জনা ইতিমধ্যে পরিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে গতকাল সকাল থেকেই নিচতলা পরিষ্কার করা হয়।

দেখা যায়, ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি ভবনটি পরিষ্কারের কাজ করছেন। এ সময় তারা বলেছেন, “পুরো ভবন তারা পরিষ্কার করবেন। ভবনটির সামনে প্লাস্টিকের চেয়ারে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে বসে থাকতে দেখা গেছে।”

আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ নামের ব্যানার টাঙানের বিষয়ে জানতে চাইলে সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিরা বলেন, “পুরো ভবনটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই ভবনে গত বছরের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের অফিস, শহীদ পরিবারের অফিস করা হবে।”

তারা আরো বলেন, “পুরো ভবনের কোন তলায় কী হবে, তা ছাত্র-জনতা ঠিক করে নেবে।”

তবে, সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিদের কেউ নিজেদের নাম–পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। এদিকে আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট নামের এই প্রতিষ্ঠান কে তৈরি করেছে, এর সঙ্গে কারা যুক্ত, কীভাবে এই নাম এসেছে-সেসব প্রশ্নে ওই ব্যক্তিরা কিছু বলতে রাজি হননি।

কার্যালয়টির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ছবি তুলছিলেন আবদুস ছাত্তার নামের এক পথচারী। তিনি বলেন, “একটি দল স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে পরিণতি কী হতে পারে, এই ভবনটি দেখলেই তা বোঝা যায়। দেশের প্রাচীন দল আওয়ামী লীগের এমন করুণ পরিণতি থেকে অন্যদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।”

কার্যালয়ের সামনের দুজন দোকানি বলেন, “পোড়া এই ভবনের নিচতলা এত দিন শৌচাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। মলমূত্র জমে থাকার কারণে উৎকট গন্ধ আশপাশে ছড়িয়ে পড়ত। ভবনটির সামনে দিয়ে চলতে গেলে নাক চেপে যেতে হতো।”

উল্লেখ্য, গুলিস্তান এলাকায় ১০ তলাবিশিষ্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি ২০১৮ সালের ২৩ জুন উদ্বোধন করেছিলেন দলের সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভবনটিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর আগস্ট মাসজুড়ে চলে লুটপাট। তখন থেকে এই ভবন অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।