০২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

পোষ্ট অফিসে তালা : গ্রাহকের ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা নিয়ে পোষ্ট মাস্টার পাত্তা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:২৪:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
  • / ২৬২

আতাউর রহমান, রাজশাহী থেকে : রাজশাহীর তানোর সদরে অবস্থিত সরকারি পোস্ট অফিসে গ্রাহকের ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা লোপাট করে গা-ঢাকা দিয়েছেন পোস্টমাস্টার। এ ঘটনায় এবার পোস্ট অফিস ঘেরাও করে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন গ্রাহকরা।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দুপুরে তানোর সদরের কুঠিপাড়ার পোস্ট অফিসের সামনে বিক্ষোভ করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরে অফিসের সংশ্লিষ্টরা এক সপ্তাহের ভেতরে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তালা খুলে দেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পোস্ট অফিস ব্যাংকে তানোর পোস্ট অফিসের মাধ্যমে এফডিএ মেয়াদি আমানত হিসেবে বিপুল পরিমাণ গ্রাহক সঞ্চয় আমানত জমা রাখেন। এর মধ্যে ৫৩ গ্রাহকের ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান তৎকালীন পোস্টমাস্টার মকছেদ আলী।

টাকা গায়েবের ঘটনার বিষয়ে সত্যতা পাওয়ায় মকছেদ আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করে দায় সারেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ওই সময় ভুক্তভোগী গ্রাহকরা থানায় মামলাও করেন। পরে দুদক মামলার তদন্ত করে।

কিন্তু গ্রাহকের এত টাকা লোপাট করা হলেও আজও উদ্ধার হয়নি বলে জানান নুরুল ইসলাম, তাবারুক হোসেন, রাশিদুল হক, নিরমল ও সুমনসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী গ্রাহক রেজিয়া খাতুন বলেন, তাদের এত টাকা আত্মসাৎ করা হলেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে নিরুপায় হয়ে গ্রাহকরা পোস্ট অফিস ঘেরাও করে গেটে তালা ঝুলিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে আলটিমেটাম দেন।

ভুক্তভোগীদের একজন তানোর উপজেলার কামারগাঁ বারঘরিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, আমি ২০২১ সালে বাংলাদেশ পোস্ট অফিস সঞ্চয় ব্যাংকে তানোর পোস্ট অফিসে মেয়াদি আমানত হিসেবে এফডিএ করি ছয় লাখ টাকা। পরে ২০২২ সালে আবারও চার লাখ টাকা এফডিএ করি। প্রথমবারের ছয় লাখ টাকার সরকারি খাতাসহ পাশ বইতে আছে; কিন্তু পরের চার লাখ টাকা আমার পাশ বইতে হাতে লিখে তুলে দিয়েছে। কিন্তু সরকারি রেজিস্ট্রি খাতায় লেখা নেই। এই চার লাখ টাকার কোনো হদিস নেই।

এভাবে অরূপ কুমার নামে এক গ্রাহকের পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার, পুষ্পা রানীর পাঁচ লাখ, সাবিয়া খাতুনের চার লাখ, কৃষ্ণা রানীর পাঁচ লাখ, রাশেদুলের তিন লাখ, পার্থ দাসের এক লাখ, আঙ্গুরা খাতুনের পাঁচ লাখ, রেজিয়া খাতুনের পাঁচ লাখ টাকাসহ ৫৩ জন গ্রাহকের ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকার কোনো হদিস নেই। আত্মসাৎ করেছেন মকছেদ আলী; কিন্তু এত টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ডাক বিভাগের পদক্ষেপ নেই।

তবে টাকা উদ্ধারে কাজ করছে ডাক বিভাগ বলে দাবি করেছেন বর্তমান পোস্টমাস্টার আব্দুল মালেক।

এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানান তানোর থানার ওসি আফজাল হোসেন।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য মকছেদ আলীর মোবাইলে ফোন দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

পোষ্ট অফিসে তালা : গ্রাহকের ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা নিয়ে পোষ্ট মাস্টার পাত্তা

আপডেট: ০৯:২৪:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

আতাউর রহমান, রাজশাহী থেকে : রাজশাহীর তানোর সদরে অবস্থিত সরকারি পোস্ট অফিসে গ্রাহকের ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা লোপাট করে গা-ঢাকা দিয়েছেন পোস্টমাস্টার। এ ঘটনায় এবার পোস্ট অফিস ঘেরাও করে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন গ্রাহকরা।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দুপুরে তানোর সদরের কুঠিপাড়ার পোস্ট অফিসের সামনে বিক্ষোভ করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরে অফিসের সংশ্লিষ্টরা এক সপ্তাহের ভেতরে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তালা খুলে দেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পোস্ট অফিস ব্যাংকে তানোর পোস্ট অফিসের মাধ্যমে এফডিএ মেয়াদি আমানত হিসেবে বিপুল পরিমাণ গ্রাহক সঞ্চয় আমানত জমা রাখেন। এর মধ্যে ৫৩ গ্রাহকের ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান তৎকালীন পোস্টমাস্টার মকছেদ আলী।

টাকা গায়েবের ঘটনার বিষয়ে সত্যতা পাওয়ায় মকছেদ আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করে দায় সারেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ওই সময় ভুক্তভোগী গ্রাহকরা থানায় মামলাও করেন। পরে দুদক মামলার তদন্ত করে।

কিন্তু গ্রাহকের এত টাকা লোপাট করা হলেও আজও উদ্ধার হয়নি বলে জানান নুরুল ইসলাম, তাবারুক হোসেন, রাশিদুল হক, নিরমল ও সুমনসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী গ্রাহক রেজিয়া খাতুন বলেন, তাদের এত টাকা আত্মসাৎ করা হলেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে নিরুপায় হয়ে গ্রাহকরা পোস্ট অফিস ঘেরাও করে গেটে তালা ঝুলিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে আলটিমেটাম দেন।

ভুক্তভোগীদের একজন তানোর উপজেলার কামারগাঁ বারঘরিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, আমি ২০২১ সালে বাংলাদেশ পোস্ট অফিস সঞ্চয় ব্যাংকে তানোর পোস্ট অফিসে মেয়াদি আমানত হিসেবে এফডিএ করি ছয় লাখ টাকা। পরে ২০২২ সালে আবারও চার লাখ টাকা এফডিএ করি। প্রথমবারের ছয় লাখ টাকার সরকারি খাতাসহ পাশ বইতে আছে; কিন্তু পরের চার লাখ টাকা আমার পাশ বইতে হাতে লিখে তুলে দিয়েছে। কিন্তু সরকারি রেজিস্ট্রি খাতায় লেখা নেই। এই চার লাখ টাকার কোনো হদিস নেই।

এভাবে অরূপ কুমার নামে এক গ্রাহকের পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার, পুষ্পা রানীর পাঁচ লাখ, সাবিয়া খাতুনের চার লাখ, কৃষ্ণা রানীর পাঁচ লাখ, রাশেদুলের তিন লাখ, পার্থ দাসের এক লাখ, আঙ্গুরা খাতুনের পাঁচ লাখ, রেজিয়া খাতুনের পাঁচ লাখ টাকাসহ ৫৩ জন গ্রাহকের ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকার কোনো হদিস নেই। আত্মসাৎ করেছেন মকছেদ আলী; কিন্তু এত টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ডাক বিভাগের পদক্ষেপ নেই।

তবে টাকা উদ্ধারে কাজ করছে ডাক বিভাগ বলে দাবি করেছেন বর্তমান পোস্টমাস্টার আব্দুল মালেক।

এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানান তানোর থানার ওসি আফজাল হোসেন।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য মকছেদ আলীর মোবাইলে ফোন দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।