০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

সাবেক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তারে অভিযানের পর বাড়ির পাশে মিলল লাশ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:১১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
  • / ২৭৩

নবাবগঞ্জ সংবাদদাতা || ঢাকার নবাবগঞ্জে বাড়ির পাশের খেত থেকে আমজাদ হোসেন (৫০) নামের যুবদলের এক নেতার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। আজ রোববার ভোর পাঁচটার দিকে উপজেলার মাঝিরকান্দা এলাকার মৃধাকান্দা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এর এক ঘণ্টা আগে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে তাঁর বাড়িতে এসেছিল পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার ভোর ৪টার দিকে চেক জালিয়াতির মামলায় এক বছরের সাজাসংক্রান্ত পরোয়ানা নিয়ে আমজাদ হোসেনকে গ্রেপ্তারে তার বাড়িতে যায় নবাবগঞ্জ থানা-পুলিশ। কিন্তু, এ সময় তাকে না পেয়ে পুলিশ ফিরে যায়। পুলিশ চলে গেছে জানতে পেরে আমজাদ ঘর থেকে বের হন।

পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেন, আমজাদ ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছিলেন। তবে ভোর ৫টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ধনচে খেতের পাশে আমজাদকে পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। দ্রুত আমজাদকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্বজনেরা লাশ বাড়িতে নিয়ে যান।

এদিকে, এ ঘটনার পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হত্যা’র অভিযোগ তুলে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে যুবদলের নেতা-কর্মী ও স্বজনেরা আমজাদের বাড়িতে যান।

খবর পেয়ে নবাবগঞ্জ থানা-পুলিশ আমজাদের বাড়িতে গিয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করে। পুলিশ জানায়, আমজাদের নামে রাজনৈতিকসহ অন্তত ২৭টির বেশি মামলা রয়েছে। একটি চেক জালিয়াতির মামলায় তার বিরুদ্ধে এক বছরের সাজা পরোয়ানাও ছিল।

নিহতের স্ত্রী মাহফুজা বেগম বলেন, ‘‘আমি জানি না আমার স্বামী কীভাবে মারা গেল। আল্লাহর কাছে বিচার চাই।’’

আমজাদের ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমার ভাই রাজনীতি করে। তার অনেক প্রতিপক্ষ আছে। পুলিশ তাকে ধরতে আসলেও সে কেন ওখানে গিয়ে পড়ে মারা গেল? এটা আমরা বুঝতে পারছি না।’’

নিহতের বড় মেয়ে আশা আক্তার বলেন, ‘‘বাবার মুখে ও চোখের কোণে জখমের চিহ্ন আছে। বাবাকে কেউ হত্যা করেছে কি না, তা এখনো বলতে পারছি না।’’

নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’’

ভোররাতে গ্রেপ্তার অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমজাদের নামে সাজার পরোয়ানা ছিল। পুলিশ ভোর ৪টায় তাকে ধরতে যায়। বাসার দরজা না খোলায় পুলিশ ফিরে আসে। পরে স্থানীয় লোকজন মুঠোফোনে আমজাদের মৃত্যুর খবর জানান।’’

গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নেওয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজিবুল ইসলাম ও দেলোয়ার হোসেন জানান, তারা আমজাদের বাড়িতে ঢোকেননি।

Please Share This Post in Your Social Media

সাবেক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তারে অভিযানের পর বাড়ির পাশে মিলল লাশ

আপডেট: ০৯:১১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

নবাবগঞ্জ সংবাদদাতা || ঢাকার নবাবগঞ্জে বাড়ির পাশের খেত থেকে আমজাদ হোসেন (৫০) নামের যুবদলের এক নেতার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। আজ রোববার ভোর পাঁচটার দিকে উপজেলার মাঝিরকান্দা এলাকার মৃধাকান্দা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এর এক ঘণ্টা আগে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে তাঁর বাড়িতে এসেছিল পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার ভোর ৪টার দিকে চেক জালিয়াতির মামলায় এক বছরের সাজাসংক্রান্ত পরোয়ানা নিয়ে আমজাদ হোসেনকে গ্রেপ্তারে তার বাড়িতে যায় নবাবগঞ্জ থানা-পুলিশ। কিন্তু, এ সময় তাকে না পেয়ে পুলিশ ফিরে যায়। পুলিশ চলে গেছে জানতে পেরে আমজাদ ঘর থেকে বের হন।

পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেন, আমজাদ ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছিলেন। তবে ভোর ৫টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ধনচে খেতের পাশে আমজাদকে পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। দ্রুত আমজাদকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্বজনেরা লাশ বাড়িতে নিয়ে যান।

এদিকে, এ ঘটনার পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হত্যা’র অভিযোগ তুলে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে যুবদলের নেতা-কর্মী ও স্বজনেরা আমজাদের বাড়িতে যান।

খবর পেয়ে নবাবগঞ্জ থানা-পুলিশ আমজাদের বাড়িতে গিয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করে। পুলিশ জানায়, আমজাদের নামে রাজনৈতিকসহ অন্তত ২৭টির বেশি মামলা রয়েছে। একটি চেক জালিয়াতির মামলায় তার বিরুদ্ধে এক বছরের সাজা পরোয়ানাও ছিল।

নিহতের স্ত্রী মাহফুজা বেগম বলেন, ‘‘আমি জানি না আমার স্বামী কীভাবে মারা গেল। আল্লাহর কাছে বিচার চাই।’’

আমজাদের ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমার ভাই রাজনীতি করে। তার অনেক প্রতিপক্ষ আছে। পুলিশ তাকে ধরতে আসলেও সে কেন ওখানে গিয়ে পড়ে মারা গেল? এটা আমরা বুঝতে পারছি না।’’

নিহতের বড় মেয়ে আশা আক্তার বলেন, ‘‘বাবার মুখে ও চোখের কোণে জখমের চিহ্ন আছে। বাবাকে কেউ হত্যা করেছে কি না, তা এখনো বলতে পারছি না।’’

নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’’

ভোররাতে গ্রেপ্তার অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমজাদের নামে সাজার পরোয়ানা ছিল। পুলিশ ভোর ৪টায় তাকে ধরতে যায়। বাসার দরজা না খোলায় পুলিশ ফিরে আসে। পরে স্থানীয় লোকজন মুঠোফোনে আমজাদের মৃত্যুর খবর জানান।’’

গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নেওয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজিবুল ইসলাম ও দেলোয়ার হোসেন জানান, তারা আমজাদের বাড়িতে ঢোকেননি।