যশোর মণিরামপুরে নগদ-এর ৫৫ লাখ টাকার ছিনতাই অভিযোগে রহস্য, শাখা ব্যবস্থাপকসহ ৪ জন ডিবি হেফাজতে
- আপডেট: ১০:২৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
- / ১১৩

সাব্বির হোসেন, যশোরঃ যশোরের মণিরামপুরে প্রকাশ্যে নগদ-এর ৫৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ তদন্তে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সন্দেহ—পুরো ঘটনাটি সাজানো হতে পারে। সন্দেহের ভিত্তিতে নগদের যশোর শাখা ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলামসহ চারজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। নগদের যশোর শাখার ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম জানান, তিনি শহরের একাউন্ট্যান্ট কাজী মমিনুর ইসলামের কাছ থেকে ৫৫ লাখ টাকা বুঝে নিয়ে প্রাইভেটকারে করে মণিরামপুর শাখার উদ্দেশে রওনা হন। কুয়াদা জামতলা মোড়ে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার দুর্বৃত্ত গাড়ির গতিরোধ করে, গ্লাস ভাঙচুর করে এবং তাকে মারধর করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। এরপর ছিনতাইয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মণিরামপুর থানার ওসি বাবলুর রহমান খান ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল।
তবে তদন্তে নামে পুলিশ, শুরুতেই সন্দেহ তৈরি হয়। গাড়ির গ্লাস অক্ষত, রবিউল ইসলাম বা চালক আহত নন, স্থানীয় কেউ ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেননি—এসব তথ্য সামনে আসে। এ ছাড়া ৫৫ লাখ টাকার মতো এত বড় অঙ্কের অর্থ পরিবহনে কোনো নিরাপত্তা না থাকা, এবং ছিনতাইকারীরা কীভাবে টাকার কথা আগে জানল—তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বাবলুর রহমান খান বলেন, “ছিনতাই ঘটনার যে বর্ণনা দিয়েছেন নগদের শাখা ম্যানেজার রবিউল, তা অনেকটাই এলোমেলো। এতে সন্দেহের দানা বাঁধে। এজন্য ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্ত চলছে।”
যশোর ডিবির ওসি মঞ্জুরুল হক ভূঞা বলেন, “সারাদিন তদন্তে বেশ কিছু অসঙ্গতি উঠে এসেছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত ছিনতাই নাটক। যারা ছিনতাইয়ের খবর ছড়িয়েছিল, তারাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। সন্দেহভাজন হিসেবে নগদের চার কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।”
এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে গোয়েন্দা পুলিশ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে কাজ অব্যাহত রেখেছে।





















