১০:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, রাজশাহী থেকে সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:১৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • / ১৩

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট পরীক্ষকের (টিটি) বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ভবন-সংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করেন একদল শিক্ষার্থী। ফলে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বেলা ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল।

মারধরের শিকার ফুরকান উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, পদ্মা এক্সপ্রেসে দায়িত্ব পালনকালে টিটি সুমন বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের যাতায়াতের সুযোগ দিচ্ছিলেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। তার চশমা ভেঙে যায় এবং তিনি আহত হন।

ফুরকান উদ্দিনের ভাষ্য, “টিকিট ইস্যু না করে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছিল। রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষার দায়িত্ববোধ থেকেই আমি এর প্রতিবাদ করেছি। এরপর পেছন থেকে আমাকে অতর্কিতভাবে মারধর করা হয়। আমি ঘটনার বিচার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”

ঘটনার পর ফুরকান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেটি ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, “পদ্মা এক্সপ্রেসের টিটির মাধ্যমে এক রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত রেললাইন অবরোধ চলবে। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টির সমাধান করতে হবে। অভিযুক্তকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তিনি আরো লেখেন, “এর আগেও রাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”

আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। অবরোধস্থলে উপস্থিত রয়েছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জিয়াউল হাসান জানিয়েছেন, অবরোধের কারণে সকাল ৭টার ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের কাছে আটকা পড়ে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিল্কসিটি এক্সপ্রেসও স্টেশনে অপেক্ষা করছে। সময় যত গড়াবে, ট্রেন চলাচলের সূচিতে তত বেশি বিপর্যয় তৈরি হবে।

তিনি জানান, অভিযুক্ত টিটিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে, শিক্ষার্থীরা তাকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত করার দাবি জানাচ্ছেন। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, রাজশাহী থেকে সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ

আপডেট: ১২:১৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট পরীক্ষকের (টিটি) বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ভবন-সংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করেন একদল শিক্ষার্থী। ফলে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বেলা ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল।

মারধরের শিকার ফুরকান উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, পদ্মা এক্সপ্রেসে দায়িত্ব পালনকালে টিটি সুমন বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের যাতায়াতের সুযোগ দিচ্ছিলেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। তার চশমা ভেঙে যায় এবং তিনি আহত হন।

ফুরকান উদ্দিনের ভাষ্য, “টিকিট ইস্যু না করে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছিল। রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষার দায়িত্ববোধ থেকেই আমি এর প্রতিবাদ করেছি। এরপর পেছন থেকে আমাকে অতর্কিতভাবে মারধর করা হয়। আমি ঘটনার বিচার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”

ঘটনার পর ফুরকান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেটি ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, “পদ্মা এক্সপ্রেসের টিটির মাধ্যমে এক রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত রেললাইন অবরোধ চলবে। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টির সমাধান করতে হবে। অভিযুক্তকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তিনি আরো লেখেন, “এর আগেও রাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”

আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। অবরোধস্থলে উপস্থিত রয়েছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জিয়াউল হাসান জানিয়েছেন, অবরোধের কারণে সকাল ৭টার ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের কাছে আটকা পড়ে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিল্কসিটি এক্সপ্রেসও স্টেশনে অপেক্ষা করছে। সময় যত গড়াবে, ট্রেন চলাচলের সূচিতে তত বেশি বিপর্যয় তৈরি হবে।

তিনি জানান, অভিযুক্ত টিটিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে, শিক্ষার্থীরা তাকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত করার দাবি জানাচ্ছেন। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করছেন।