১২:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

বেনাপোলে ইউনুস আলী হত্যা মামলার পলাতক আসামি সোহেল রানা পিবিআইয়ের জালে

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৪১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
  • /

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার বহুল আলোচিত ইউনুস আলী (৪৭) হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ সময় তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গামছাও উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আদালতে হাজির করা হলে আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

পিবিআই সূত্র জানায়, নিহত ইউনুস আলী বেনাপোল পোর্ট থানার গাতিপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে মা ও স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে বসবাস করতেন। ঘটনার তিনদিন আগে তার স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে খুলনায় বেড়াতে যান। এর মধ্যে গত ২২ এপ্রিল বিকেল ৩টার দিকে গ্রেফতার হওয়া আসামি তরিকুল ইসলাম কাজের কথা বলে ইউনুস আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে রহমতপুর এলাকার পলাতক আসামি রানার বাড়িতে নেওয়া হয়।

তদন্তে জানা গেছে, সেখানে মামলার মূল আসামি আনোয়ার হোসেন ও তার সহযোগীরা ইউনুস আলীকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে সহযোগী সবুজ হোসেনের মোটরসাইকেলে করে বেনাপোল-পুটখালী সড়কের চারা বটতলা এলাকায় ফেলে রাখা হয়।

পরদিন নিহতের ভাই ইউসুফ আলী বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা নং-১৫, তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০২৬, পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা রুজু হয়।

পরবর্তীতে মামলাটি স্বউদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই যশোর জেলা। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রতন মিয়ার নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তরিকুল ইসলাম ও সবুজ হোসেনকে গত ২৭ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে তরিকুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

যশোর জেলা পিবিআই ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল অভিযান চালায়। অভিযানে গত শনিবার রাত ১১টা ১৫ মিনিটে শার্শা থানার গোগা এলাকা থেকে মামলার অন্যতম আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পলাতক আসামি আনোয়ার হোসেনের বসতঘর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গামছা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা স্বীকার করেন, তিনি, পলাতক আনোয়ার হোসেন ও গ্রেফতার হওয়া তরিকুল ইসলাম মিলে ইউনুস আলীকে রানার ঘরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে আসেন।

সোমবার (২৫ মে) সোহেল রানাকে যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪র্থ আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পিবিআই সূত্র জানিয়েছে, মামলার পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

বেনাপোলে ইউনুস আলী হত্যা মামলার পলাতক আসামি সোহেল রানা পিবিআইয়ের জালে

আপডেট: ১২:৪১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার বহুল আলোচিত ইউনুস আলী (৪৭) হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ সময় তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গামছাও উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আদালতে হাজির করা হলে আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

পিবিআই সূত্র জানায়, নিহত ইউনুস আলী বেনাপোল পোর্ট থানার গাতিপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে মা ও স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে বসবাস করতেন। ঘটনার তিনদিন আগে তার স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে খুলনায় বেড়াতে যান। এর মধ্যে গত ২২ এপ্রিল বিকেল ৩টার দিকে গ্রেফতার হওয়া আসামি তরিকুল ইসলাম কাজের কথা বলে ইউনুস আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে রহমতপুর এলাকার পলাতক আসামি রানার বাড়িতে নেওয়া হয়।

তদন্তে জানা গেছে, সেখানে মামলার মূল আসামি আনোয়ার হোসেন ও তার সহযোগীরা ইউনুস আলীকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে সহযোগী সবুজ হোসেনের মোটরসাইকেলে করে বেনাপোল-পুটখালী সড়কের চারা বটতলা এলাকায় ফেলে রাখা হয়।

পরদিন নিহতের ভাই ইউসুফ আলী বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা নং-১৫, তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০২৬, পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা রুজু হয়।

পরবর্তীতে মামলাটি স্বউদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই যশোর জেলা। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রতন মিয়ার নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তরিকুল ইসলাম ও সবুজ হোসেনকে গত ২৭ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে তরিকুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

যশোর জেলা পিবিআই ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল অভিযান চালায়। অভিযানে গত শনিবার রাত ১১টা ১৫ মিনিটে শার্শা থানার গোগা এলাকা থেকে মামলার অন্যতম আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পলাতক আসামি আনোয়ার হোসেনের বসতঘর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গামছা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা স্বীকার করেন, তিনি, পলাতক আনোয়ার হোসেন ও গ্রেফতার হওয়া তরিকুল ইসলাম মিলে ইউনুস আলীকে রানার ঘরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে আসেন।

সোমবার (২৫ মে) সোহেল রানাকে যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪র্থ আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পিবিআই সূত্র জানিয়েছে, মামলার পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।