১০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

বাগআঁচড়ায় মেয়েকে এসএসসি পরীক্ষায় সহযোগিতার অভিযোগে প্রধান শিক্ষিকা ও কর্মচারী আটক

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৪৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • /

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের শার্শায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে এক প্রধান শিক্ষিকা ও এক কর্মচারীকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শুক্রবার (৮ মে-২০২৫) দুপুরে উপজেলার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন— বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন এবং একই প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুন। বর্তমানে তাদের শার্শা থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুনের মেয়ে অহনা খাতুন চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তিনি ঝিকরগাছার বিকেএস কুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলেও বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ৩০১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষা চলাকালে প্রধান শিক্ষিকা গোপনে মেয়ের উত্তরপত্রে প্রশ্নপত্র মিলিয়ে উত্তর সংশোধন করে দেন। এ কাজে সহযোগিতা করেন কর্মচারী ফাতেমা খাতুন।
বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত দুজনকে আটক করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, পরীক্ষাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার সময় দায়িত্বরত টিমের নজরে ঘটনাটি আসে। পরে আটক কর্মচারী ফাতেমা খাতুনের কাছ থেকে নকলের সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ গাউসুল আজম, হল সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর রহমান, সদস্য আব্দুস সালাম ও মহেন্দ্রনাথ ধর-এর দায়িত্বে অবহেলা ও স্বজনপ্রীতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন অভিভাবকরা।

কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পরীক্ষাকেন্দ্রে আরও কঠোর তদারকির দাবিও উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার এ.কে.এম নূরুজ্জামান বলেন, “ঘটনাটি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে তদন্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ-এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

Please Share This Post in Your Social Media

বাগআঁচড়ায় মেয়েকে এসএসসি পরীক্ষায় সহযোগিতার অভিযোগে প্রধান শিক্ষিকা ও কর্মচারী আটক

আপডেট: ০৯:৪৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের শার্শায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে এক প্রধান শিক্ষিকা ও এক কর্মচারীকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শুক্রবার (৮ মে-২০২৫) দুপুরে উপজেলার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন— বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন এবং একই প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুন। বর্তমানে তাদের শার্শা থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুনের মেয়ে অহনা খাতুন চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তিনি ঝিকরগাছার বিকেএস কুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলেও বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ৩০১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষা চলাকালে প্রধান শিক্ষিকা গোপনে মেয়ের উত্তরপত্রে প্রশ্নপত্র মিলিয়ে উত্তর সংশোধন করে দেন। এ কাজে সহযোগিতা করেন কর্মচারী ফাতেমা খাতুন।
বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত দুজনকে আটক করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, পরীক্ষাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার সময় দায়িত্বরত টিমের নজরে ঘটনাটি আসে। পরে আটক কর্মচারী ফাতেমা খাতুনের কাছ থেকে নকলের সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ গাউসুল আজম, হল সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর রহমান, সদস্য আব্দুস সালাম ও মহেন্দ্রনাথ ধর-এর দায়িত্বে অবহেলা ও স্বজনপ্রীতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন অভিভাবকরা।

কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পরীক্ষাকেন্দ্রে আরও কঠোর তদারকির দাবিও উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার এ.কে.এম নূরুজ্জামান বলেন, “ঘটনাটি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে তদন্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ-এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।