নড়াইলে বিয়ের ১০ বছর পর ৭ সন্তানের জন্ম, বাঁচল না কেউ
- আপডেট: ০৩:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
- / ১৩

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নড়াইল সদর উপজেলার কালুখালী গ্রামের সালমা বেগম ও মহসিন মোল্যা দম্পতির সংসারে বিয়ের দীর্ঘ ১০ বছর পর একসঙ্গে ৭ সন্তানের জন্ম হয়। তবে দুর্ভাগ্য যেন পিছু ছাড়েনি, সাত নবজাতকের কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এদের মধ্যে ৪টি পুত্র সন্তান ও ৩টি কন্যা সন্তান ছিল।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নবজাতকদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
স্বজনরা জানান, ৪ মে রাতে সালমা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে দ্রুত যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মঙ্গলবার রাতে প্রথমে দুটি এবং বুধবার রাতে একে একে আরও পাঁচটি সন্তান প্রসব করেন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে (মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস) ভূমিষ্ঠ হওয়ায় নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাদের মৃত্যু হয়। বর্তমানে মা সালমা বেগম যশোরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কালুখালী গ্রামের লতিফ মোল্যার ছেলে মহসিন মোল্যা ১০ বছর আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় সাত বছর প্রবাস জীবন কাটান। তিন বছর আগে দেশে ফিরে বর্তমানে তিনি ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বিয়ের এক দশক পার হলেও এই দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না। সম্প্রতি আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে ছয়টি সন্তানের কথা জানা গেলেও বাস্তবে সাতটি সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়।
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইলা মণ্ডল জানান, সালমা বেগম তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়েছেন। সালমার সন্তানগুলো অপরিপক্ব অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়েছে। সালমার পানি ভেঙে যায়। পাঁচ মাসে ২০০ গ্রাম করে ওজন হয়েছে। সবার হার্টবিট ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।
মহসিন মোল্যার মা জানান, ছয়টি সন্তানের খবর জানতে পেরে পরিবারে আনন্দের জোয়ার বইছিল। পুত্রবধূর সেবাযত্নে কোনো কমতি ছিল না। ৪ মে বিকালে হঠাৎ সালমার প্রসব বেদনা শুরু হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মঙ্গলবার রাতে প্রথম সন্তানটি ভূমিষ্ঠ হয়।সংবাদ বিশ্লেষণ
নবজাতকটি কিছুক্ষণ পর মারা গেলে মহসিনের বাবা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। এরপর রাতে আরও একটি সন্তান প্রসব করেন সালমা। কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় শিশুটিও মারা যায়। বুধবার রাতে একে একে আরও পাঁচটি সন্তান প্রসব করেন তিনি। জন্মের কিছুক্ষণ পর প্রতিটি শিশুই মারা যায়।
নবজাতকদের দাদা আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, ‘আমার ছেলে আগে সৌদি আরবে থাকত। তিন বছর আগে দেশে এসে ইজিবাইক চালিয়ে সংসারের হাল ধরেছে। বিয়ের ১০ বছর পর নাতিনদের মুখ দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলাম। আল্লাহ আমাদের খুশি দিলেও তা আর সইল না। এই কষ্ট রাখার জায়গা নেই’।





















