বেনাপোলে ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি: ৩ অপহরণকারী আটক
- আপডেট: ০৫:২০:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানাধীন বড় আঁচড়া এলাকায় পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে মোঃ আসাদুজ্জামান (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ, মারপিট ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় থানা পুলিশ তিন অপহরণকারীকে আটক করেছে। ভুক্তভোগি আসাদুজ্জামান বাদি হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় ৩ জনকে আসামি ও আরো ৭-৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেছে।
আটককৃত অপহরনকারী আসামিরা হলো:- বেনাপোল পোর্ট থানার রাজগঞ্জের রুহুল আমিনের ছেলে মোঃ হাফিজুর রহমান (৩৫), আন্দলপোতা গ্রামের হাফিজুর রহমান এর ছেলে মোঃ ওবাইদুর রহমান (৩৩) এবং দুর্গাপুরের সফিকুল ইসলাম এর ছেলে নয়ন (৩১)। এই ঘটনায় আরও ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা আসামী রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান জানান, গতকাল (২৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮:২০ টার সময় বড় আঁচড়া সরদারবাড়ি জামে মসজিদে এশার নামাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে হাশেম আলীর দোকানের সামনে কয়েকজন দুষ্কৃতকারী ৩-৪টি মোটরসাইকেল যোগে এসে তার গতিরোধ করে এবং হাফিজুর ও ওবাইদুর নামে আসামীরা তাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে অজ্ঞাত এক মাঠের মধ্যে নিয়ে যায়।
সেখানে অপহরণকারীরা তার শ্যালক মোঃ রেজাউল ইসলামের পাওনা ৫ লক্ষ টাকাসহ অতিরিক্ত মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করে। আসাদুজ্জামান সময় প্রার্থনা করলে আসামীরা লোহার রড ও কাঠের লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে জখম করে।
ঘটনা জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর পরিবার স্থানীয়দের সহযোগিতায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে উত্তেজিত জনতা অপহরণকারীদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে খলশী বাওড় কান্দা এলাকা থেকে ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামানকে উদ্ধার করে।
এ বিষয় বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আবু তাহের ভারত বলেন, সন্ত্রাসী কোন দলের নয়। অপহরনকারীর পরিবারের অভিযোগ পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় গভীর রাত্রে সীমান্তের অভয়বাস রাজগঞ্জ নামক বাওড়কান্দা থেকে অপহরনকারীকে উদ্ধার করা হয়। এসময় তাকে অপহরন এর অপরাধে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে। আমি বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক হিসাবে কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দিব না। মানবিক কারনে এবং ওই পরিবারের অসহায়ত্বের কারনে আমি পুলিশের সহযোগিতায় রাত আনুমানিক ৩ ঘটিকার সময় তাকে উদ্ধার করি।
বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ সুত্র জানায় আহত আসাদুজ্জামান ও উত্তেজিত জনতার হাতে আহত আসামীদের চিকিৎসার জন্য পুলিশ দ্রুত শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (নাভারণ) নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
এ বিষয় বেনাপোল পোর্ট থানা ওসি আশরাফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন আটককৃত আসামিদের যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।





















