১২:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

“১৭ বছর ঘরহীন রাত, তবুও থামেননি,খাগড়াছড়ির রাজনীতিতে কুহেলী দেওয়ানের অদম্য গল্প”

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • /

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন অনেক নাম রয়েছে, যারা ক্ষমতার আলোয় এসে পরিচিতি পেয়েছেন।

তবে সেই আলো থেকে দূরে থেকেও যাঁরা ত্যাগ, সংগ্রাম আর সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন,তাদের মধ্যে অন্যতম খাগড়াছড়ি জেলা মহিলা দলের সভাপতি কুহেলী দেওয়ান।

তার রাজনৈতিক জীবন কোনো পদ বা পরিচয়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়; বরং এটি তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলা নিরলস লড়াই, ত্যাগ আর নির্যাতনের এক জীবন্ত ইতিহাস।

দীর্ঘ ৩০ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় কুহেলী দেওয়ান বহু প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ করে গত ১৭ বছর, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক দুঃসহ সময় হিসেবে বিবেচিত, সেই সময়ের প্রতিটি দিন ছিল তার জন্য একেকটি কঠিন পরীক্ষা। নিজের ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর সুযোগও ছিল না তার ভাগ্যে। হামলা, মামলা, হুমকি আর নিরন্তর আতঙ্কে কেটেছে অসংখ্য রাত। কখনো অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছে, কখনো বা হাইকোর্টের বারান্দায় ঘুরে ঘুরে কাটাতে হয়েছে দীর্ঘ সময়।

একজন নারী হিসেবে এবং একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এই বাস্তবতা নিঃসন্দেহে কঠিন। তবে সেই কঠিনতাকেই দৃঢ়তায় রূপ দিয়েছেন কুহেলী দেওয়ান। ভয় বা প্রতিকূলতার কাছে মাথা নত না করে তিনি থেকেছেন অবিচল, অটল। তার এই মানসিক শক্তি ও সাহসিকতা তাকে আলাদা করেছে অন্যদের থেকে।

দলের দুঃসময়ে, যখন অনেকেই নানান চাপের মুখে পিছিয়ে গেছেন, তখন কুহেলী দেওয়ান সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মহিলা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জুগিয়েছেন, সংগঠনের ভিতকে শক্তিশালী করেছেন। তার নেতৃত্বে মহিলা দলের কার্যক্রম শুধু টিকে থাকেনি, বরং প্রতিকূল সময়েও সংগঠনের প্রাণচাঞ্চল্য বজায় ছিল।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খাগড়াছড়িতে যে আন্দোলনের চিত্র দেখা গেছে, তা স্থানীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত সেই আন্দোলনের পেছনে কাজ করেছেন অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মী। কুহেলী দেওয়ান তাদের মধ্যে অন্যতম, যার অবদান এই আন্দোলনের শক্ত ভিত নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, একটি শক্তিশালী সংগঠন কেবল শীর্ষ নেতৃত্বের উপর দাঁড়িয়ে থাকে না; বরং তৃণমূলের সেইসব নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের উপর নির্ভর করে, যারা দুঃসময়ে দলকে টিকিয়ে রাখেন। কুহেলী দেওয়ান সেই ধরনেরই একজন নেত্রী, যিনি ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে আদর্শ ও সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখিয়েছেন।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন সময়ের দাবি। রাজনীতি কেবল ক্ষমতার সমীকরণ নয়,এটি আদর্শ, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের এক দীর্ঘ পথচলা। সেই পথের প্রকৃত যাত্রীদের সম্মান জানানো না হলে রাজনীতির মূল চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয়দের মতে, কুহেলী দেওয়ান আজ শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন; তিনি সাহস, ধৈর্য ও আত্মত্যাগের প্রতীক। তার দীর্ঘ সংগ্রাম, অবিচল অবস্থান এবং সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা খাগড়াছড়ির রাজনীতিতে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

খাগড়াছড়িবাসীর প্রত্যাশা,এমন ত্যাগী নেত্রীর অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হবে এবং তার দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতি ইতিহাসে যথাযথ স্থান পাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

“১৭ বছর ঘরহীন রাত, তবুও থামেননি,খাগড়াছড়ির রাজনীতিতে কুহেলী দেওয়ানের অদম্য গল্প”

আপডেট: ০৯:৫৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন অনেক নাম রয়েছে, যারা ক্ষমতার আলোয় এসে পরিচিতি পেয়েছেন।

তবে সেই আলো থেকে দূরে থেকেও যাঁরা ত্যাগ, সংগ্রাম আর সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন,তাদের মধ্যে অন্যতম খাগড়াছড়ি জেলা মহিলা দলের সভাপতি কুহেলী দেওয়ান।

তার রাজনৈতিক জীবন কোনো পদ বা পরিচয়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়; বরং এটি তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলা নিরলস লড়াই, ত্যাগ আর নির্যাতনের এক জীবন্ত ইতিহাস।

দীর্ঘ ৩০ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় কুহেলী দেওয়ান বহু প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ করে গত ১৭ বছর, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক দুঃসহ সময় হিসেবে বিবেচিত, সেই সময়ের প্রতিটি দিন ছিল তার জন্য একেকটি কঠিন পরীক্ষা। নিজের ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর সুযোগও ছিল না তার ভাগ্যে। হামলা, মামলা, হুমকি আর নিরন্তর আতঙ্কে কেটেছে অসংখ্য রাত। কখনো অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছে, কখনো বা হাইকোর্টের বারান্দায় ঘুরে ঘুরে কাটাতে হয়েছে দীর্ঘ সময়।

একজন নারী হিসেবে এবং একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এই বাস্তবতা নিঃসন্দেহে কঠিন। তবে সেই কঠিনতাকেই দৃঢ়তায় রূপ দিয়েছেন কুহেলী দেওয়ান। ভয় বা প্রতিকূলতার কাছে মাথা নত না করে তিনি থেকেছেন অবিচল, অটল। তার এই মানসিক শক্তি ও সাহসিকতা তাকে আলাদা করেছে অন্যদের থেকে।

দলের দুঃসময়ে, যখন অনেকেই নানান চাপের মুখে পিছিয়ে গেছেন, তখন কুহেলী দেওয়ান সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মহিলা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জুগিয়েছেন, সংগঠনের ভিতকে শক্তিশালী করেছেন। তার নেতৃত্বে মহিলা দলের কার্যক্রম শুধু টিকে থাকেনি, বরং প্রতিকূল সময়েও সংগঠনের প্রাণচাঞ্চল্য বজায় ছিল।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খাগড়াছড়িতে যে আন্দোলনের চিত্র দেখা গেছে, তা স্থানীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত সেই আন্দোলনের পেছনে কাজ করেছেন অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মী। কুহেলী দেওয়ান তাদের মধ্যে অন্যতম, যার অবদান এই আন্দোলনের শক্ত ভিত নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, একটি শক্তিশালী সংগঠন কেবল শীর্ষ নেতৃত্বের উপর দাঁড়িয়ে থাকে না; বরং তৃণমূলের সেইসব নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের উপর নির্ভর করে, যারা দুঃসময়ে দলকে টিকিয়ে রাখেন। কুহেলী দেওয়ান সেই ধরনেরই একজন নেত্রী, যিনি ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে আদর্শ ও সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখিয়েছেন।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন সময়ের দাবি। রাজনীতি কেবল ক্ষমতার সমীকরণ নয়,এটি আদর্শ, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের এক দীর্ঘ পথচলা। সেই পথের প্রকৃত যাত্রীদের সম্মান জানানো না হলে রাজনীতির মূল চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয়দের মতে, কুহেলী দেওয়ান আজ শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন; তিনি সাহস, ধৈর্য ও আত্মত্যাগের প্রতীক। তার দীর্ঘ সংগ্রাম, অবিচল অবস্থান এবং সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা খাগড়াছড়ির রাজনীতিতে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

খাগড়াছড়িবাসীর প্রত্যাশা,এমন ত্যাগী নেত্রীর অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হবে এবং তার দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতি ইতিহাসে যথাযথ স্থান পাবে।