১২:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

বাঘারপাড়ার যুবককে অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার কথা বলে নেপালে আটকে রাখার অভিযোগ”

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • /

সাঈদ ইবনে হানিফ ঃ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা উপজেলার কিসমত মাহমুদপুর গ্রামের সাকিব হোসেন নামে এক যুবককে অস্ট্রেলিয়া নেওয়ার কথা বলে নেপালের রাজধানীতে একটি হোটেলে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

জানা গেছে, অভাবের সংসারে সচ্ছলতা আনতে শ্রমিক ভিসায় কলেজপড়ুয়া ছেলেকে অস্ট্রেলিয়া পাঠাতে চেয়েছিলেন ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন (৪৪)। এ জন্য জমি বিক্রি করে এবং এনজিও ও সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ১৫ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন দালালের হাতে।

তবে অস্ট্রেলিয়ার পরিবর্তে ছেলে সাকিব হোসেনকে (২১) নিয়ে যাওয়া হয় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে। সেখানে একটি হোটেলে রেখে সাকিবের পাসপোর্ট ও কাছে থাকা এক লাখ টাকা মূল্যের ডলার নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে জিম্মি করে আরও দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়। আলমগীর হোসেন আয়ের একমাত্র সম্বল ভ্যানটি ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। একটি সমিতি থেকে উচ্চ সুদে আরও এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি দালালকে দেন। এর পর থেকে তিনি ছেলের আর কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না।

আলমগীর হোসেনের বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার কিসমত মাহমুদপুর গ্রামে।

ছেলেকে ফিরে পেতে আলমগীর হোসেন মামলা করেছেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি যশোরের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল-১–এ মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন । আদালত বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন এমনটাই দাবি করেছেন পরিবার টি। সে অনুয়ায়ী মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। মামলায় বাঘারপাড়া উপজেলার কিসমত মাহমুদপুর গ্রামের মোকলেস মোল্যার ছেলে তরিকুল ইসলাম (৪৫) ও নাজমুল হোসেনকে (৩৫) আসামি করা হয়েছে।

খবর নিয়ে জানা যায়, ১৪ শতক জমির এক পাশে দুই কক্ষের একটি টিনের ঘর। ঘরের বারান্দায় দুই পাশে ইটের দেয়ালের দুটি ছোট ঘর। ঘরের পাশে ছোট একটি রান্নাঘর। আলমগীর হোসেনের মোট ২২ শতক জমি ছিল এবং ইঞ্জিনচালিত একটি ভ্যান ছিল। দুই মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। সাকিব হোসেন বাঘারপাড়া উপজেলার ছাতিয়ানতলা ইউনাইটেড স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। আর ছোট মেয়ে এবছর এসএসসি পরীক্ষার্থী। আলমগীর হোসেন, ভ্যান চালিয়ে ছেলেমেয়ের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ যোগাতেন।

Please Share This Post in Your Social Media

বাঘারপাড়ার যুবককে অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার কথা বলে নেপালে আটকে রাখার অভিযোগ”

আপডেট: ০৯:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

সাঈদ ইবনে হানিফ ঃ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা উপজেলার কিসমত মাহমুদপুর গ্রামের সাকিব হোসেন নামে এক যুবককে অস্ট্রেলিয়া নেওয়ার কথা বলে নেপালের রাজধানীতে একটি হোটেলে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

জানা গেছে, অভাবের সংসারে সচ্ছলতা আনতে শ্রমিক ভিসায় কলেজপড়ুয়া ছেলেকে অস্ট্রেলিয়া পাঠাতে চেয়েছিলেন ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন (৪৪)। এ জন্য জমি বিক্রি করে এবং এনজিও ও সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ১৫ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন দালালের হাতে।

তবে অস্ট্রেলিয়ার পরিবর্তে ছেলে সাকিব হোসেনকে (২১) নিয়ে যাওয়া হয় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে। সেখানে একটি হোটেলে রেখে সাকিবের পাসপোর্ট ও কাছে থাকা এক লাখ টাকা মূল্যের ডলার নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে জিম্মি করে আরও দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়। আলমগীর হোসেন আয়ের একমাত্র সম্বল ভ্যানটি ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। একটি সমিতি থেকে উচ্চ সুদে আরও এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি দালালকে দেন। এর পর থেকে তিনি ছেলের আর কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না।

আলমগীর হোসেনের বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার কিসমত মাহমুদপুর গ্রামে।

ছেলেকে ফিরে পেতে আলমগীর হোসেন মামলা করেছেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি যশোরের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল-১–এ মামলাটি করেন বলে জানিয়েছেন । আদালত বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন এমনটাই দাবি করেছেন পরিবার টি। সে অনুয়ায়ী মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। মামলায় বাঘারপাড়া উপজেলার কিসমত মাহমুদপুর গ্রামের মোকলেস মোল্যার ছেলে তরিকুল ইসলাম (৪৫) ও নাজমুল হোসেনকে (৩৫) আসামি করা হয়েছে।

খবর নিয়ে জানা যায়, ১৪ শতক জমির এক পাশে দুই কক্ষের একটি টিনের ঘর। ঘরের বারান্দায় দুই পাশে ইটের দেয়ালের দুটি ছোট ঘর। ঘরের পাশে ছোট একটি রান্নাঘর। আলমগীর হোসেনের মোট ২২ শতক জমি ছিল এবং ইঞ্জিনচালিত একটি ভ্যান ছিল। দুই মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। সাকিব হোসেন বাঘারপাড়া উপজেলার ছাতিয়ানতলা ইউনাইটেড স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। আর ছোট মেয়ে এবছর এসএসসি পরীক্ষার্থী। আলমগীর হোসেন, ভ্যান চালিয়ে ছেলেমেয়ের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ যোগাতেন।