১২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

রেশনিং পদ্ধতিতে শুরু জ্বালানি তেল বিক্রি, জানুন কোন গাড়িতে মিলছে কত লিটার?

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৪৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • /

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জ্বালানি সংকট এড়াতে আজ রবিবার (৮ মার্চ) থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে দীর্ঘমেয়াদি রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থায় যানবাহনের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব পেট্রোল পাম্পে নতুন পদ্ধতিতে তেল বিক্রি কার্যকর করা হয়েছে।

বিপিসির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন সংগ্রহ করতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লিটার তেল নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি), জিপ এবং মাইক্রোবাসের জন্য দৈনিক ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিবহন খাতের জন্য ডিজেল সরবরাহেও একই ধরনের রেশনিং ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। স্থানীয় রুটের বাস বা পিকআপ ভ্যান দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবে। অন্যদিকে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনারবাহী ট্রাকের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

নতুন এই বণ্টন ব্যবস্থা তদারকি করতে আজ থেকেই সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আগামী ৯ মার্চ আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ সারি দেখা যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি বা পাম্পগুলোর অনিয়ম ঠেকাতেই কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

সরকার আরও জানিয়েছে, পাম্পগুলো যাতে নির্ধারিত সীমার বাইরে তেল বিক্রি না করে এবং রেশনিং ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বৈষম্য না ঘটে, সেদিকেও বিশেষভাবে নজর রাখা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

রেশনিং পদ্ধতিতে শুরু জ্বালানি তেল বিক্রি, জানুন কোন গাড়িতে মিলছে কত লিটার?

আপডেট: ০৯:৪৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জ্বালানি সংকট এড়াতে আজ রবিবার (৮ মার্চ) থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে দীর্ঘমেয়াদি রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থায় যানবাহনের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব পেট্রোল পাম্পে নতুন পদ্ধতিতে তেল বিক্রি কার্যকর করা হয়েছে।

বিপিসির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন সংগ্রহ করতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লিটার তেল নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি), জিপ এবং মাইক্রোবাসের জন্য দৈনিক ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিবহন খাতের জন্য ডিজেল সরবরাহেও একই ধরনের রেশনিং ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। স্থানীয় রুটের বাস বা পিকআপ ভ্যান দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবে। অন্যদিকে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনারবাহী ট্রাকের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

নতুন এই বণ্টন ব্যবস্থা তদারকি করতে আজ থেকেই সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আগামী ৯ মার্চ আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ সারি দেখা যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি বা পাম্পগুলোর অনিয়ম ঠেকাতেই কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

সরকার আরও জানিয়েছে, পাম্পগুলো যাতে নির্ধারিত সীমার বাইরে তেল বিক্রি না করে এবং রেশনিং ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বৈষম্য না ঘটে, সেদিকেও বিশেষভাবে নজর রাখা হচ্ছে।