০৮:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজানকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৫

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ সব ঠিক থাকলে আগামী কাল থেকে মাহে রমজান শুরু হবে। ঝিনাইদহে রমজান মাস সামনে রেখে ছোলা/বুট, লেবু, বেগুন, পেঁয়াজ ও শসার দাম বাড়তে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগী, দেশি মুরগী ও গরুর মাংসের দাম বেড়েছে। তবে নিত্যপণ্যের বাজারে চাল-ডাল, ভোজ্যতেল ও মসলার দাম বেশ স্বাভাবিক রয়েছে। এ ছাড়া জেলার অধিকাংশ বাজারে শাক-সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালেই রয়েছে।

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নাগালে রাখতে সরকারের মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিন জেলা শহরের নতুন হাটখোলা বাজার ঘুরে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জেলার অন্যান্য উপজেলা শহর ও বড় বাজারগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।

ঝিনাইদহের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বুধবার পর্যন্ত আলু প্রতি কেজি ২০ টাকা, রসুন প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বেগুনের দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রতি কেজি বেগুন মান ভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির মধ্যে লাউ আকার ভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পিস, মিষ্টি কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, করোলা প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহের শেষ দিন পর্যন্ত ঝিনাইদহের বিভিন্ন বাজারে বেগুন কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, লেবু প্রতি হালি ২০ থেকে ২৫ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪৫ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা ও পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে, রমজান মাস শুরুর আগের দিনই এসব পণ্যের দাম বেড়েছে।সবজি ছাড়াও রমজান মাসে খেজুর, চিনি, আখের গুড়, ছোলা/বুট ও লেবুর দাম কিছুটা বেড়েছে। মান ভেদে খেুজরের দাম সাড়ে ৩শ টাকা কেজিতেও পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া লাল চিনি কেজি প্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, সাদা চিনি কেজি প্রতি ১৪০ টাকা, দেশী ছোলা প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা ও আমদানীকৃত ছোলা প্রতি কেজি ৮৫ থেকে ৯৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে জেলার বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগী, দেশি মুরগী ও সোনালী/পাকিস্তানি মুরগীর দাম প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে।

সেই সঙ্গে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা। ক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহে ব্রয়লার ১৬০ টাকা, সোনালী ২৩০ টাকা ও পাকিস্তানি মুরগীর দাম ২২০ থেকে ২৩০ টাকা ও গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে রমজান সামনে রেখে বাড়তে শুরু করেছে মাংসের দাম। ইসরাইল আলম নামে এক ক্রেতা বলেন, গত রমজানেও মানুষ বাজারে স্বস্তি পেয়েছে। রোজার আগে অন্যান্য বছর নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বেড়ে যেত, এবার সেরকম চিত্র দেখছি না। আশা করবো, নতুন সরকার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।মাজেদা খাতুন নামে অপর এক ক্রেতা বলেন, এক হালি (৪টি) লেবুর দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বাজার মনিটরিং বাড়াতে হবে। কাগজি লেবু, শসা, বেগুন ও করোলার দাম বেশ বেড়েছে।

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের বলেন, সবজির বাজার, মুরগী ও মাংসের দোকান ও ইফতার সামগ্রী বিক্রয়ের দোকানগুলোতে অভিযান চলমান রয়েছে। গত এক বছরে আমরা বাজার সিন্ডিকেট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি। পুরো রমজান মাসজুড়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

রমজানকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি

আপডেট: ০৫:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ সব ঠিক থাকলে আগামী কাল থেকে মাহে রমজান শুরু হবে। ঝিনাইদহে রমজান মাস সামনে রেখে ছোলা/বুট, লেবু, বেগুন, পেঁয়াজ ও শসার দাম বাড়তে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগী, দেশি মুরগী ও গরুর মাংসের দাম বেড়েছে। তবে নিত্যপণ্যের বাজারে চাল-ডাল, ভোজ্যতেল ও মসলার দাম বেশ স্বাভাবিক রয়েছে। এ ছাড়া জেলার অধিকাংশ বাজারে শাক-সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালেই রয়েছে।

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নাগালে রাখতে সরকারের মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিন জেলা শহরের নতুন হাটখোলা বাজার ঘুরে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জেলার অন্যান্য উপজেলা শহর ও বড় বাজারগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।

ঝিনাইদহের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বুধবার পর্যন্ত আলু প্রতি কেজি ২০ টাকা, রসুন প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বেগুনের দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রতি কেজি বেগুন মান ভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির মধ্যে লাউ আকার ভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পিস, মিষ্টি কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, করোলা প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহের শেষ দিন পর্যন্ত ঝিনাইদহের বিভিন্ন বাজারে বেগুন কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, লেবু প্রতি হালি ২০ থেকে ২৫ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪৫ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা ও পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে, রমজান মাস শুরুর আগের দিনই এসব পণ্যের দাম বেড়েছে।সবজি ছাড়াও রমজান মাসে খেজুর, চিনি, আখের গুড়, ছোলা/বুট ও লেবুর দাম কিছুটা বেড়েছে। মান ভেদে খেুজরের দাম সাড়ে ৩শ টাকা কেজিতেও পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া লাল চিনি কেজি প্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, সাদা চিনি কেজি প্রতি ১৪০ টাকা, দেশী ছোলা প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা ও আমদানীকৃত ছোলা প্রতি কেজি ৮৫ থেকে ৯৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে জেলার বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগী, দেশি মুরগী ও সোনালী/পাকিস্তানি মুরগীর দাম প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে।

সেই সঙ্গে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা। ক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহে ব্রয়লার ১৬০ টাকা, সোনালী ২৩০ টাকা ও পাকিস্তানি মুরগীর দাম ২২০ থেকে ২৩০ টাকা ও গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে রমজান সামনে রেখে বাড়তে শুরু করেছে মাংসের দাম। ইসরাইল আলম নামে এক ক্রেতা বলেন, গত রমজানেও মানুষ বাজারে স্বস্তি পেয়েছে। রোজার আগে অন্যান্য বছর নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বেড়ে যেত, এবার সেরকম চিত্র দেখছি না। আশা করবো, নতুন সরকার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।মাজেদা খাতুন নামে অপর এক ক্রেতা বলেন, এক হালি (৪টি) লেবুর দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বাজার মনিটরিং বাড়াতে হবে। কাগজি লেবু, শসা, বেগুন ও করোলার দাম বেশ বেড়েছে।

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের বলেন, সবজির বাজার, মুরগী ও মাংসের দোকান ও ইফতার সামগ্রী বিক্রয়ের দোকানগুলোতে অভিযান চলমান রয়েছে। গত এক বছরে আমরা বাজার সিন্ডিকেট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি। পুরো রমজান মাসজুড়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে।