১১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

শার্শা’র নাভারণে ভ্যানচালক আব্দুল্লাহ হত্যা : পুলিশের কঠোর তৎপরতায় ৩ আসামি গ্রেপ্তার, গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:২৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৭৭

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ এলাকায় নিখোঁজ ভ্যানচালক আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ক্লু-লেস এই ঘটনায় মাত্র কয়েক ঘন্টায় পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে তিনজনকে গ্রেফতার ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নাভারণ এলাকা থেকে ভ্যানচালক আব্দুল্লাহ (৩২) নিখোঁজ হন। পরদিন ১১ অক্টোবর তার বাবা ইউনুস আলী শার্শা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৫০৫) করেন।

ঘটনার পরপরই ডিবি পুলিশের এসআই অলক কুমার দে (পিপিএম) এর নেতৃত্বে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা ও শার্শা থানা পুলিশের যৌথ টিম তদন্তে নামে। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে ঝিকরগাছা থানা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে ভিকটিমের ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।

পরে ভ্যান বিক্রির সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় তিনজনকে—শার্শার কাজীরবেড় গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে বড় নেদার ছেলে আশানুর জামান আশা (৩৭), বলিদাদহ গ্রামের মৃত বজলু রহমানের ছেলে মুকুল হোসেন (৩৭) এবং যাদবপুর গ্রামের মৃত আইয়ুব হোসেনের ছেলে সাগর (২৪)।

জিজ্ঞাসাবাদে আটক তিনজনই ভ্যানচালক আব্দুল্লাহকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং নির্মম হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, নাভারণ এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে থাকা একটি ট্রাংকের ভেতর থেকে আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা করেন মুকুল। ঘটনার রাতে চারজন একসঙ্গে ওই নির্মাণাধীন বাড়িতে ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে মিলিত হয়। কিছু সময় পর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মুকুল ধারালো ছুরি দিয়ে আব্দুল্লাহকে কোপ দিয়ে মাটিতে ফেলে তাকে জবাই করে।

হত্যার পর মরদেহ লেপে মুড়িয়ে একটি ট্রাংকে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে রক্ত পরিষ্কার করে সবাই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এবং বাইরে থেকে গেট আটকে দেয়।

আটককৃত আসামি আশানুর জামান আশা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় ১৪ অক্টোবর শার্শা থানায় ৩৯৪/৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১৮) দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো ছুরি, ভিকটিমের ভ্যান, আসামি আশার রক্তমাখা হাফপ্যান্ট ও মরদেহ লুকানোর ট্রাংক উদ্ধার করেছে।

গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে বুধবার (১৫ অক্টোবর-২০২৫) যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

শার্শা’র নাভারণে ভ্যানচালক আব্দুল্লাহ হত্যা : পুলিশের কঠোর তৎপরতায় ৩ আসামি গ্রেপ্তার, গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার

আপডেট: ১০:২৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ এলাকায় নিখোঁজ ভ্যানচালক আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ক্লু-লেস এই ঘটনায় মাত্র কয়েক ঘন্টায় পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে তিনজনকে গ্রেফতার ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নাভারণ এলাকা থেকে ভ্যানচালক আব্দুল্লাহ (৩২) নিখোঁজ হন। পরদিন ১১ অক্টোবর তার বাবা ইউনুস আলী শার্শা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৫০৫) করেন।

ঘটনার পরপরই ডিবি পুলিশের এসআই অলক কুমার দে (পিপিএম) এর নেতৃত্বে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা ও শার্শা থানা পুলিশের যৌথ টিম তদন্তে নামে। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে ঝিকরগাছা থানা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে ভিকটিমের ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।

পরে ভ্যান বিক্রির সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় তিনজনকে—শার্শার কাজীরবেড় গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে বড় নেদার ছেলে আশানুর জামান আশা (৩৭), বলিদাদহ গ্রামের মৃত বজলু রহমানের ছেলে মুকুল হোসেন (৩৭) এবং যাদবপুর গ্রামের মৃত আইয়ুব হোসেনের ছেলে সাগর (২৪)।

জিজ্ঞাসাবাদে আটক তিনজনই ভ্যানচালক আব্দুল্লাহকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং নির্মম হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, নাভারণ এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে থাকা একটি ট্রাংকের ভেতর থেকে আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা করেন মুকুল। ঘটনার রাতে চারজন একসঙ্গে ওই নির্মাণাধীন বাড়িতে ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে মিলিত হয়। কিছু সময় পর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মুকুল ধারালো ছুরি দিয়ে আব্দুল্লাহকে কোপ দিয়ে মাটিতে ফেলে তাকে জবাই করে।

হত্যার পর মরদেহ লেপে মুড়িয়ে একটি ট্রাংকে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে রক্ত পরিষ্কার করে সবাই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এবং বাইরে থেকে গেট আটকে দেয়।

আটককৃত আসামি আশানুর জামান আশা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় ১৪ অক্টোবর শার্শা থানায় ৩৯৪/৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১৮) দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো ছুরি, ভিকটিমের ভ্যান, আসামি আশার রক্তমাখা হাফপ্যান্ট ও মরদেহ লুকানোর ট্রাংক উদ্ধার করেছে।

গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে বুধবার (১৫ অক্টোবর-২০২৫) যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।