০৬:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

শিগগিরই নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করা হবে: আইন উপদেষ্টা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৪৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১০১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের মানুষ ১৮ বছর ধরে যে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, সেই অবসান এবার ঘটতে চলেছে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে একটি ‘সেরা নির্বাচন’ উপহার দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হচ্ছে এবং শিগগিরই নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের ইচ্ছে আছে বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা নির্বাচন উপহার দেওয়ার। এবার তেমন অবস্থা হবে না, যেমন ছিল গত দেড় দশকে। সবাই ভোট দিতে পারবে, ভোট কেন্দ্রের পরিবেশ থাকবে অবাধ ও সুষ্ঠু।”

তিনি আরও জানান, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করা না গেলেও, কিছু যুগান্তকারী সংস্কার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ আইন সংশোধন করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও যুগোপযোগী করা হয়েছে, যা একটি বড় অগ্রগতি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আইন সংস্কার এবং মামলার বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন আসিফ নজরুল। তিনি জানান, ফৌজদারি আইন সংশোধনের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ও রিমান্ড সংক্রান্ত ধারাগুলো সংস্কার করা হয়েছে। বিচার বিভাগকে স্বাধীন ও দুর্নীতিমুক্ত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে তিনি জানান, আইন মন্ত্রণালয় থেকে এক বছরে ১৬ হাজার মামলার মধ্যে ১৫ হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে এবং ৮০ শতাংশ মামলা ইতিমধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মব ভায়োলেন্স (গণ-হিংসা) প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, “মব ভায়োলেন্স সরকারকে খুব কষ্ট দেয়। এটি বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

সরকারের সময় কম থাকলেও আইন মন্ত্রণালয়ের ডিজিটালাইজেশনের কাজ সম্পন্ন করতে চান বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, গত এক বছরে আগের বছরের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কারণ, আগের ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় যেসব কর্মকর্তা ছিলেন, তারা পালিয়ে গিয়েছিল।

সবশেষে আইন উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেশের মানুষ এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে এবং সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠিত হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

শিগগিরই নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করা হবে: আইন উপদেষ্টা

আপডেট: ১২:৪৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের মানুষ ১৮ বছর ধরে যে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, সেই অবসান এবার ঘটতে চলেছে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে একটি ‘সেরা নির্বাচন’ উপহার দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হচ্ছে এবং শিগগিরই নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের ইচ্ছে আছে বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা নির্বাচন উপহার দেওয়ার। এবার তেমন অবস্থা হবে না, যেমন ছিল গত দেড় দশকে। সবাই ভোট দিতে পারবে, ভোট কেন্দ্রের পরিবেশ থাকবে অবাধ ও সুষ্ঠু।”

তিনি আরও জানান, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করা না গেলেও, কিছু যুগান্তকারী সংস্কার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ আইন সংশোধন করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও যুগোপযোগী করা হয়েছে, যা একটি বড় অগ্রগতি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আইন সংস্কার এবং মামলার বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন আসিফ নজরুল। তিনি জানান, ফৌজদারি আইন সংশোধনের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ও রিমান্ড সংক্রান্ত ধারাগুলো সংস্কার করা হয়েছে। বিচার বিভাগকে স্বাধীন ও দুর্নীতিমুক্ত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে তিনি জানান, আইন মন্ত্রণালয় থেকে এক বছরে ১৬ হাজার মামলার মধ্যে ১৫ হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে এবং ৮০ শতাংশ মামলা ইতিমধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মব ভায়োলেন্স (গণ-হিংসা) প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, “মব ভায়োলেন্স সরকারকে খুব কষ্ট দেয়। এটি বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

সরকারের সময় কম থাকলেও আইন মন্ত্রণালয়ের ডিজিটালাইজেশনের কাজ সম্পন্ন করতে চান বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, গত এক বছরে আগের বছরের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কারণ, আগের ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় যেসব কর্মকর্তা ছিলেন, তারা পালিয়ে গিয়েছিল।

সবশেষে আইন উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেশের মানুষ এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে এবং সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠিত হবে।