০১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য ও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:৫২:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • /

স্টাফ রিপোর্টারঃ দেশের সর্ববৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট বর্তমানে এক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের প্রধান অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

প্রশাসনের নাকের ডগায় গড়ে ওঠা ১৫-২০ জনের এই চক্রটি প্রতিদিন ভারতগামী শত শত সাধারণ পাসপোর্ট যাত্রীকে বিভিন্নভাবে জিম্মি করে সর্বস্বান্ত করছে। অথচ রহস্যজনক কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে।

প্রতারণার অভিনব কৌশল :
ভারতগামী বা বিদেশগামী সাধারণ যাত্রীরা চেকপোস্টে পৌঁছানোর পরই এই চক্রের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের কাজ দ্রুত ও সহজ করে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাসে তারা যাত্রীদের বিভিন্ন কৌশলে নির্দিষ্ট কিছু ঘর বা আড়ালে নিয়ে যায়। এরপর শুরু হয় তাদের মূল প্রতারণা। যাত্রীদের কাছে কত টাকা আছে তা কৌশলে জেনে নেওয়া এবং ভারতে টাকা নিতে হলে নোটের নম্বর খাতায় লিখে রাখতে হবে এমন ভীতি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তারা যাত্রীদের জিম্মি করে। একপর্যায়ে টাকা গণনার সময় তা পায়ের নিচে ফেলে দিয়ে বা কৌশলে আত্মসাৎ করে প্রতারক চক্রটি চম্পট দেয়।

পুলিশের সাথে সখ্য ও দায়সারা ব্যবস্থা :
অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতারক চক্রের সাথে স্থানীয় কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যের গভীর সখ্য রয়েছে। মাঝে মাঝে প্রকাশ্যে তাদের একসাথে দাঁড়িয়ে চা ও সিগারেট খেতে দেখা যায়। বেনাপোল পোর্ট থানার কিছু সৎ কর্মকর্তা মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে চক্রের কয়েকজন সদস্যকে আটক করলেও আইনি ফাঁকফোকর আর অদৃশ্য ইশারায় তারা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই এই সিন্ডিকেট একই কায়দায় অপকর্ম চালিয়ে আসছে এবং ক্ষমতার পালাবদলেও তাদের দৌরাত্ম্য বিন্দুমাত্র কমেনি। মাঝে মাঝে কোনো ভুক্তভোগী যাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আংশিক টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও মূল প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো আইনি ব্যবস্থা বা আটকের নজির নেই বললেই চলে।

প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকা :
বেনাপোল পোর্ট থানা, চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ওসি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং বন্দর পরিচালক সবারই জানা রয়েছে এই চক্রের অপতৎপরতার কথা। শার্শা উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। কিন্তু এতকিছুর পরেও অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃশ্যমান কোনো পদপেক্ষ বা কার্যকর অভিযান দেখা যাচ্ছে না। নামমাত্র তদারকি কিংবা দায়সারা সর্তকতার সুযোগ নিয়ে বহাল তবিয়তে তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এই চক্র।

সাধারণ যাত্রীদের রায় এবং বেনাপোল বন্দরের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে অবিলম্বে এই প্রতারক চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার এবং তাদের সাথে জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

Please Share This Post in Your Social Media

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য ও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা

আপডেট: ০১:৫২:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ দেশের সর্ববৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট বর্তমানে এক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের প্রধান অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

প্রশাসনের নাকের ডগায় গড়ে ওঠা ১৫-২০ জনের এই চক্রটি প্রতিদিন ভারতগামী শত শত সাধারণ পাসপোর্ট যাত্রীকে বিভিন্নভাবে জিম্মি করে সর্বস্বান্ত করছে। অথচ রহস্যজনক কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে।

প্রতারণার অভিনব কৌশল :
ভারতগামী বা বিদেশগামী সাধারণ যাত্রীরা চেকপোস্টে পৌঁছানোর পরই এই চক্রের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের কাজ দ্রুত ও সহজ করে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাসে তারা যাত্রীদের বিভিন্ন কৌশলে নির্দিষ্ট কিছু ঘর বা আড়ালে নিয়ে যায়। এরপর শুরু হয় তাদের মূল প্রতারণা। যাত্রীদের কাছে কত টাকা আছে তা কৌশলে জেনে নেওয়া এবং ভারতে টাকা নিতে হলে নোটের নম্বর খাতায় লিখে রাখতে হবে এমন ভীতি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তারা যাত্রীদের জিম্মি করে। একপর্যায়ে টাকা গণনার সময় তা পায়ের নিচে ফেলে দিয়ে বা কৌশলে আত্মসাৎ করে প্রতারক চক্রটি চম্পট দেয়।

পুলিশের সাথে সখ্য ও দায়সারা ব্যবস্থা :
অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতারক চক্রের সাথে স্থানীয় কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যের গভীর সখ্য রয়েছে। মাঝে মাঝে প্রকাশ্যে তাদের একসাথে দাঁড়িয়ে চা ও সিগারেট খেতে দেখা যায়। বেনাপোল পোর্ট থানার কিছু সৎ কর্মকর্তা মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে চক্রের কয়েকজন সদস্যকে আটক করলেও আইনি ফাঁকফোকর আর অদৃশ্য ইশারায় তারা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই এই সিন্ডিকেট একই কায়দায় অপকর্ম চালিয়ে আসছে এবং ক্ষমতার পালাবদলেও তাদের দৌরাত্ম্য বিন্দুমাত্র কমেনি। মাঝে মাঝে কোনো ভুক্তভোগী যাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আংশিক টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও মূল প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো আইনি ব্যবস্থা বা আটকের নজির নেই বললেই চলে।

প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকা :
বেনাপোল পোর্ট থানা, চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ওসি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং বন্দর পরিচালক সবারই জানা রয়েছে এই চক্রের অপতৎপরতার কথা। শার্শা উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। কিন্তু এতকিছুর পরেও অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃশ্যমান কোনো পদপেক্ষ বা কার্যকর অভিযান দেখা যাচ্ছে না। নামমাত্র তদারকি কিংবা দায়সারা সর্তকতার সুযোগ নিয়ে বহাল তবিয়তে তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এই চক্র।

সাধারণ যাত্রীদের রায় এবং বেনাপোল বন্দরের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে অবিলম্বে এই প্রতারক চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার এবং তাদের সাথে জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।