০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

তেলাপোকা পার্টির আন্দোলনে অংশগ্রহণ বাড়ছে, শিক্ষার্থীদের বার্তা দিয়েছেন মোদি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:০৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • / ১৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তরে তেলাপোকা জনতা পার্টির ধরনাতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ছাত্র-যুবদের যোগদান বেড়ে চলেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ শিক্ষার্থীদের জমায়েতে অংশ নিয়েছেন।

সরকার সতর্কতা হিসেবে প্রচুর পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী নিয়োগ করেছে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে বুধবার রাতে উত্তপ্ত হয়েছিল দিল্লির যন্তরমন্তর চত্বর।

বৃহস্পতিবার সকালে সেখানকার পরিস্থিতি খানিক থমথমে। তবে ভিড় ক্রমশ বাড়ছে মানুষের। ‘নিরাপত্তাগত কারণে’ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন।

বৃহস্পতিবার তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রধান অভিজিৎ দীপক জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না-করলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

তিনি বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) আমাদের আন্দোলনের ৩৪তম দিন। আর সোনম ওয়াংচুকের অনশনের ২৬তম দিন। আমাদের প্রতিবাদ যেমন চলছিল, তেমনই চলবে। তবে সোনম ওয়াংচুককে অনশন প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

এই আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার দেশের তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের তরুণদের ভাল রাখা এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনও কিছুই এর চেয়ে বড় নয়। এর পরেই প্রশ্নফাঁস বিতর্কে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন মোদি। দিল্লির যন্তরমন্তরে ছাত্র-যুবদের ধারাবাহিক বিক্ষোভের মাঝে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

এক্স পোস্টে মোদি লিখেছেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা ‘ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং কর্মকর্তাদের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার আগে বিজেপির মস্তিষ্ক বলে পরিচিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে দিল্লি পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছিল। যেভাবে সোমবার দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারী ছাত্রদের উপর রণদেহী ভঙ্গিতে চড়াও হয়েছিল, তা ঠিক হয়নি বলে মনে করছেন আরএসএস নেতৃত্ব। সঙ্ঘের মতে, নিটের প্রশ্ন ফাঁস, সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র দেখা নিয়ে গোলমালের মতো ঘটনায় ভুগতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। তাদের মধ্যে ক্ষোভ থাকাটাই স্বাভাবিক। সেই ক্ষোভ দূর করতে সরকারের অনেক আগে আলোচনায় বসা উচিত ছিল। তা হলে পরিস্থিতি এভাবে হাতের বাইরে যেত না। তবে আরএসএস শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ নিয়ে মন্তব্য করতে চায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

তেলাপোকা পার্টির আন্দোলনে অংশগ্রহণ বাড়ছে, শিক্ষার্থীদের বার্তা দিয়েছেন মোদি

আপডেট: ০১:০৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তরে তেলাপোকা জনতা পার্টির ধরনাতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ছাত্র-যুবদের যোগদান বেড়ে চলেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ শিক্ষার্থীদের জমায়েতে অংশ নিয়েছেন।

সরকার সতর্কতা হিসেবে প্রচুর পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী নিয়োগ করেছে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে বুধবার রাতে উত্তপ্ত হয়েছিল দিল্লির যন্তরমন্তর চত্বর।

বৃহস্পতিবার সকালে সেখানকার পরিস্থিতি খানিক থমথমে। তবে ভিড় ক্রমশ বাড়ছে মানুষের। ‘নিরাপত্তাগত কারণে’ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন।

বৃহস্পতিবার তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রধান অভিজিৎ দীপক জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না-করলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

তিনি বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) আমাদের আন্দোলনের ৩৪তম দিন। আর সোনম ওয়াংচুকের অনশনের ২৬তম দিন। আমাদের প্রতিবাদ যেমন চলছিল, তেমনই চলবে। তবে সোনম ওয়াংচুককে অনশন প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

এই আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার দেশের তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের তরুণদের ভাল রাখা এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনও কিছুই এর চেয়ে বড় নয়। এর পরেই প্রশ্নফাঁস বিতর্কে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন মোদি। দিল্লির যন্তরমন্তরে ছাত্র-যুবদের ধারাবাহিক বিক্ষোভের মাঝে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

এক্স পোস্টে মোদি লিখেছেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা ‘ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং কর্মকর্তাদের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার আগে বিজেপির মস্তিষ্ক বলে পরিচিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে দিল্লি পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছিল। যেভাবে সোমবার দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারী ছাত্রদের উপর রণদেহী ভঙ্গিতে চড়াও হয়েছিল, তা ঠিক হয়নি বলে মনে করছেন আরএসএস নেতৃত্ব। সঙ্ঘের মতে, নিটের প্রশ্ন ফাঁস, সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র দেখা নিয়ে গোলমালের মতো ঘটনায় ভুগতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। তাদের মধ্যে ক্ষোভ থাকাটাই স্বাভাবিক। সেই ক্ষোভ দূর করতে সরকারের অনেক আগে আলোচনায় বসা উচিত ছিল। তা হলে পরিস্থিতি এভাবে হাতের বাইরে যেত না। তবে আরএসএস শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ নিয়ে মন্তব্য করতে চায়নি।