০২:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার এনসিপি নেতা জয়

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • /

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানায় দায়ের হওয়া একটি ধর্ষণ মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আফতাব মজুমদার জয়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গতকাল বুধবার তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চান্দগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) সবুজ রহমান বলেন, “ভুক্তভোগী এক তরুণীর করা ধর্ষণ মামলায় আফতাব মজুমদার জয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী এক তরুণীর দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর অভিযুক্ত বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে গত ১৪ জুলাই রাতে চান্দগাঁও থানাধীন সুইট প্যালেস নামক হোটেলের ২০৮ নম্বর কক্ষে বিয়ের আশ্বাস ও প্রলোভন দিয়ে ভিকটিমের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, অভিযুক্ত পূর্ব থেকেই বিবাহিত।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৯৩ ধারা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)-এর ৯(১) ধারা অনুযায়ী চান্দগাঁও থানায় গত ১৯ জুলাই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এজাহার অনুযায়ী, গত ১৪ জুলাই সকালে আফতাব মজুমদার তাকে মোবাইল ফোনে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নগরের বন্দর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ডেকে নেন। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে বারবার বিয়ের কথা বললেও বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং একপর্যায়ে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, পরে ভুক্তভোগী জানতে পারেন আফতাব মজুমদার আগে থেকেই বিবাহিত। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি চান্দগাঁও থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

চান্দগাঁও থানার ডিউটি অফিসার রফিকুল ইসলাম বুধবার (২২ জুলাই) কালবেলাকে বলেন, ‘ধর্ষণ মামলার এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের নেতা আফতাব মজুমদারকে গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি হাজতে আছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’

তবে গ্রেপ্তারের স্থান ও সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে জানি না।’

প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টার দিকে নগরের হালিশহর বিডিআর মাঠসংলগ্ন একটি দোকান থেকে আফতাব মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তি জীবনে আফতাব মজুমদারকে ঘিরে এর আগেও একাধিক বিয়ে নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন ও নথিভিত্তিক সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় বা চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার এনসিপি নেতা জয়

আপডেট: ০১:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানায় দায়ের হওয়া একটি ধর্ষণ মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আফতাব মজুমদার জয়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গতকাল বুধবার তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চান্দগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) সবুজ রহমান বলেন, “ভুক্তভোগী এক তরুণীর করা ধর্ষণ মামলায় আফতাব মজুমদার জয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী এক তরুণীর দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর অভিযুক্ত বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে গত ১৪ জুলাই রাতে চান্দগাঁও থানাধীন সুইট প্যালেস নামক হোটেলের ২০৮ নম্বর কক্ষে বিয়ের আশ্বাস ও প্রলোভন দিয়ে ভিকটিমের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, অভিযুক্ত পূর্ব থেকেই বিবাহিত।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৯৩ ধারা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)-এর ৯(১) ধারা অনুযায়ী চান্দগাঁও থানায় গত ১৯ জুলাই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এজাহার অনুযায়ী, গত ১৪ জুলাই সকালে আফতাব মজুমদার তাকে মোবাইল ফোনে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নগরের বন্দর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ডেকে নেন। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে বারবার বিয়ের কথা বললেও বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং একপর্যায়ে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, পরে ভুক্তভোগী জানতে পারেন আফতাব মজুমদার আগে থেকেই বিবাহিত। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি চান্দগাঁও থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

চান্দগাঁও থানার ডিউটি অফিসার রফিকুল ইসলাম বুধবার (২২ জুলাই) কালবেলাকে বলেন, ‘ধর্ষণ মামলার এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের নেতা আফতাব মজুমদারকে গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি হাজতে আছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’

তবে গ্রেপ্তারের স্থান ও সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে জানি না।’

প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টার দিকে নগরের হালিশহর বিডিআর মাঠসংলগ্ন একটি দোকান থেকে আফতাব মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তি জীবনে আফতাব মজুমদারকে ঘিরে এর আগেও একাধিক বিয়ে নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন ও নথিভিত্তিক সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় বা চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।