খাগড়াছড়িতে জ্বালানি সংকট: প্রশাসনের দাবি-‘প্রকৃত সংকট নয়, অতিরিক্ত চাপ’
- আপডেট: ০৭:২৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
- / ৩৫

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে খাগড়াছড়িতে ছুটে আসা হাজারো পর্যটক ও বাইকারের আনন্দে হঠাৎই ছেদ ফেলেছে জ্বালানি সংকট। তেল না পেয়ে অনেকেরই বাড়ি ফেরা কিংবা কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন থেকেই জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও রিসোর্টে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। টানা ছুটিতে বিশেষ করে বাইকারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় অনেক পর্যটক সাজেক ভ্রমণ বাতিল করে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
সোমবার সকাল থেকেই জেলা শহরসহ দীঘিনালার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ছোট-বড় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। রাত ১টা পর্যন্ত রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিতরণ করতে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মো. কায় কিসলু বলেন,
“সকাল ৮টা থেকে রাত পর্যন্ত আমাদের টিম ফিলিং স্টেশনে দায়িত্ব পালন করছে। প্রত্যেককে নির্ধারিত পরিমাণ—প্রায় ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে, যাতে সবাই কিছুটা হলেও সুবিধা পায়।”
পর্যটকদের অভিযোগ, ঈদের মতো বড় ছুটিতে পর্যটননির্ভর এলাকায় পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা উচিত ছিল। খুলনা থেকে আসা বাইকার জাহিদ বলেন, “জ্বালানি না পাওয়ায় সাজেক যাওয়া হচ্ছে না। আমাদের মতো অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। এটি পর্যটন খাতের জন্য বড় ধাক্কা।”
অন্যদিকে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর তেল পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দা নবলেশ্বর ত্রিপুরা লায়ন। তিনি বলেন, “চার ঘণ্টার বেশি অপেক্ষার পর তেল পেয়েছি। আগে কেউ ১০০০ টাকার, পরে ৫০০ টাকার তেল পেয়েছে, আর আমার ভাগ্যে জুটেছে মাত্র ৩০০ টাকার তেল!”
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষও সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন। মেসার্স মেহেরুন্নেছা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার প্রবীর কুমার দাশ জানান, “ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর ঈদের বাড়তি চাপ থাকায় গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।” একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন কে.সি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক রাজু চৌধুরী।
তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, “কাগজে-কলমে পর্যাপ্ত তেল মজুদ রয়েছে। ঈদের অতিরিক্ত চাপ ও অনেকে বাড়তি তেল মজুদ করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি।”
মঙ্গলবার সকালেও কে.সি ফিলিং স্টেশনে তেলের আশায় ভিড় করতে দেখা যায় বাইকার ও পর্যটকদের। বিকাল ৪টার পর থেকে নির্ধারিত পরিমাণে তেল বিক্রি শুরু হলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন।
এ সময় সারাদেশের ন্যায় খাগড়াছড়িতেও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিয়া সুলতানার নেতৃত্বে ফিলিং স্টেশনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।পরিদর্শন করেন। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বৈধ লাইসেন্সধারী যানবাহনকে অগ্রাধিকার দিয়ে তেল বিক্রি এবং কাগজপত্রবিহীন বাইকারদের তেল সরবরাহের তদারকি করেন। তিনি জানান,সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় জেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে বিশৃঙ্খলা কমবে এবং সুশৃঙ্খলভাবে তেল বিতরণ সম্ভব হবে।
সংকটের মাঝেও পর্যটকদের আগমন থেমে নেই। সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, একদিনেই দেড় শতাধিক বাইক ও তিন হাজারের বেশি পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা ও আগাম প্রস্তুতি। নচেৎ পর্যটন খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হতে পারে।
























