পরম মমতায় লালন করা ভালুক, হরিণ ও বানরের নিরাপদ ঠিকানা:খাগড়াছড়িতে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন নবদ্বীপ চাকমার
- আপডেট: ০৯:৩০:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২৪

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।
খাগড়াছড়িতে এক ব্যতিক্রমী মানবিক দৃষ্টান্তের সাক্ষী হলো জেলা। নিজের বাড়িতে পরম মমতা ও দায়িত্ববোধে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিলুপ্তপ্রায় এশিয়ান ব্ল্যাক বিয়ার, ছয়টি হরিণ ও দুইটি বানর লালন-পালন করে অবশেষে সেগুলো স্বেচ্ছায় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন নবদ্বীপ চাকমা।
মঙ্গলবার (৬জানুয়ারি) বিকালে খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞার হাতে এসব বন্যপ্রাণী তুলে দেন তিনি। এ সময় ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রতিনিধি নূর জাহানও উপস্থিত ছিলেন। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও জেলা বিএনপির নেতা অনিমেষ চাকমার উদ্যোগে পুরো হস্তান্তর প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।
নবদ্বীপ চাকমা রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে বেড়ে উঠেছেন। একসময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং বর্তমানে পেশায় একজন স্থানীয় ঠিকাদার। তবে পরিচয়ের বাইরে তাঁর মানবিক সত্তাটিই এখানে মুখ্য। ছোটবেলা থেকেই হাটে-বাজারে হরিণের মাংস বিক্রি ও নির্বিচারে প্রকৃতি ধ্বংসের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করে আসছেন তিনি।
বুদ্ধের নীতিবাক্য ‘জীবহত্যা মহাপাপ’এই দর্শনকে ধারণ করেই আহত ও বিপন্ন বন্যপ্রাণীদের জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসেন নবদ্বীপ চাকমা। তিনি জানান, আহত অবস্থায় বনে ভালুকটিকে উদ্ধার করেছিলেন। বানর দু’টিও সুস্থ ছিল না। আর হরিণগুলো ছোট বয়স থেকেই তিনি নিজ দায়িত্বে লালন-পালন করে আসছিলেন।
নবদ্বীপ চাকমা বলেন,“দীর্ঘদিন ধরেই এসব প্রাণী যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু কোনো মাধ্যম পাচ্ছিলাম না। অবশেষে অনিমেষ চাকমার মাধ্যমে প্রাণীগুলোর নিরাপদ ঠিকানা নিশ্চিত করতে পেরেছি। এটা ভেবে সত্যিই ভালো লাগছে।”
খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বলেন,“বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী রক্ষায় নবদ্বীপ চাকমা ও অনিমেষ চাকমার মতো সচেতন ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসা অত্যন্ত প্রয়োজন। তাঁদের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”
তিনি আরও জানান, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রতিনিধি নূর জাহানকে অনুরোধ করে ডেকে আনা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো শিগগিরই নিরাপদ পরিবেশে সেখানে স্থানান্তর করা হবে।
প্রকৃতি সংরক্ষণ যেখানে ক্রমেই চ্যালেঞ্জের মুখে, সেখানে নবদ্বীপ চাকমার মতো মানুষের নিঃস্বার্থ উদ্যোগ সমাজের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল—যেখানে মানবতা, বিশ্বাস ও প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা একসূত্রে মিলেছে।





















