ওয়ারেন্টের আসামি বলে তুলে নিয়ে করত লুটপাট : রাজধানীতে ভুয়া ডিবি টিমের ‘অপারেশন’ প্রস্তুতি, ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফ ও খেলনা পিস্তলসহ গ্রেপ্তার ৭
- আপডেট: ০৪:৩২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ২০১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর গুলিস্তানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, মো. দ্বীন ইসলাম ওরফে কাউছার আহমেদ, মো. কামাল হাওলাদার, আব্দুর রহমান হাওলাদার, মো. মেহেদী হাসান ওরফে হাসান, মো. বাবুল হাওলাদার, মো. রমিজ তালুকদার ও জান্নাতুল ফেরদৌস।
বুধবার রাত ৯টার দিকে গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারের দক্ষিণ পাশে লেগুনা স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস, ডিবি পুলিশের দুটি জ্যাকেট, দুইটি ওয়াকিটকি, একটি ভুয়া পুলিশ আইডি কার্ড, দুইটি হ্যান্ডকাফ, দুইটি খেলনা পিস্তল, পকেট রাউটার, এক্সপেন্ডেবল লাঠি, লেজার লাইট এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন শাখার সহকারী কমিশনার তারিখ লতিফ এবং শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর।
ফুল প্যাকেজে ‘ডিবি টিম’ সাজিয়ে চালাত ডাকাতি
সংবাদ সম্মেলনে ডিসি মাসুদ আলম বলেন, “এই ভুয়া চক্রের কাছে ছিল পুলিশের মতো পুরো ‘অপারেশন প্যাকেজ’। যেমন আমাদের অভিযানে যা যা লাগে—গাড়ি, মাইক্রোবাস, হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি, পিস্তল, পুলিশ জ্যাকেট, আইডি কার্ড—সবকিছুই ছিল তাদের কাছে।
তিনি আরও জানান, জনবহুল এলাকা থেকে টার্গেট ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ওই ব্যক্তিকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যেত। সেসময় তারা বলত, এই ব্যক্তি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বা দুর্ধর্ষ অপরাধী। আশপাশের সাধারণ মানুষ ভাবত তারা পুলিশ—তাই কেউ কিছু বলত না। পরে ভিকটিমের কাছ থেকে টাকা, মূল্যবান জিনিসপত্র এবং মোবাইলের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ আদায় করে নির্জন স্থানে ফেলে যেত।

টার্গেট ছিল স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও ব্যাংক গ্রাহক
গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, তারা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় আসা স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও ব্যাংক থেকে মোটা অংকের টাকা উত্তোলনকারী ব্যক্তিরা ছিল তাদের প্রধান টার্গেট।
ডিসি মাসুদ জানান, “এই চক্র পেইড সোর্সের মাধ্যমে টার্গেট সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করত। এরপর সুযোগ বুঝে তারা ‘ডিবি’ পরিচয়ে অপহরণ ও ডাকাতি করত।”
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দ্বীন ইসলাম ওরফে কাউছার আহমেদের নামে রয়েছে ১০টি ডাকাতি মামলা, আব্দুর রহমান হাওলাদারের নামে ৩টি, মেহেদী হাসানের নামে ৪টি, বাবুল হাওলাদারের নামে ২টি ও রমিজ তালুকদারের নামে ৪টি ডাকাতি মামলা রয়েছে
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অভিযানের সময় আরও ৪-৫ জন সদস্য পালিয়ে যায়। তাদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



























