০৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিবেদন : দেশে ৪ কোটি দরিদ্র, সবচেয়ে বেশি বান্দরবানে

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৫৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১০০

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের প্রায় চার কোটি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। যা মোট জনসংখ্যার ২৪ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। আর এই হার সবচেয়ে বেশি পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে ৬৫ দশমিক তিন ছয় শতাংশ।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) প্রকাশিত ‘ন্যাশনাল মাল্টিডাইমেনশনাল পভার্টি ইনডেক্স (এমপিআই) ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এক সেমিনারে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশের বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের ওপর এটিই প্রথম কোনো প্রতিবেদন।

এমপিআইয়ের তথ্য মতে, তিন কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। আর এই হার সবচেয়ে বেশি পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে ৬৫ দশমিক তিন ছয় শতাংশ। সবচেয়ে কম ঝিনাইদহে ৮ দশমিক ছয় ছয় শতাংশ। বিভাগের দিক থেকে এই হার সবচেয়ে বেশি সিলেটে। এ বিভাগে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার ৩৭ দশমিক ৭০ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ময়মনসিংহ বিভাগ। বিভাগটির ৩৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বরিশাল বিভাগে এ হার ৩১ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম খুলনায় ১৫ দশমিক ২২ শতাংশ।

তবে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগের প্রায় ৯০ লাখ মানুষ বহুমাত্রিক দরিদ্র্য। সংখ্যার হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঢাকা বিভাগে বহুমাত্রিক দরিদ্র মানুষ ৭৫ লাখের বেশি। জেলাভিত্তিক হিসাবে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার সবেচেয়ে বেশি বান্দরবানে। এ জেলার ৬৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিকভাবে দরিদ্র। শীর্ষ তিনে থাকা অন্য দুই জেলা হচ্ছে– কক্সবাজার (৪৭.৭০%) ও সুনামগঞ্জ (৪৭.৩৬%)।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম বহুমাত্রিক দারিদ্র্য লক্ষ্য করা গেছে ঝিনাইদহ জেলায়। এ জেলার ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দরিদ্র। এ ছাড়াও কম বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার থাকা অন্য জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা (৯.১৯%), গাজীপুর ( ৯.৬৩%) ও যশোর (১০.৫৮%)।

বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের এ হার সাধারণ দারিদ্র্যের হারের চেয়ে বেশ খানিকটা বেশি। বিবিএসের সর্বশেষ খানা আয় ও ব্যয় জরিপে (২০২২) দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

জিইডির প্রতিবেদনে দেখা যায়, গ্রাম এলাকায় বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার শহরাঞ্চলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। গ্রামাঞ্চলে এ হার ২৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ। অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে ১৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ। শিশুদের মধ্যে এ হার ২৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ২১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

বয়সভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মধ্যে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য হার বেশি। তবে দারিদ্র্যের এ হার ব্যক্তির আয়-রোজগারের বদলে বিদ্যুৎ ও পানির প্রাপ্যতা, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা, ইন্টারনেট সংযোগসহ ১১টি সূচকের সমন্বয়ে হিসাব করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিবেদন : দেশে ৪ কোটি দরিদ্র, সবচেয়ে বেশি বান্দরবানে

আপডেট: ১০:৫৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের প্রায় চার কোটি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। যা মোট জনসংখ্যার ২৪ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। আর এই হার সবচেয়ে বেশি পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে ৬৫ দশমিক তিন ছয় শতাংশ।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) প্রকাশিত ‘ন্যাশনাল মাল্টিডাইমেনশনাল পভার্টি ইনডেক্স (এমপিআই) ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এক সেমিনারে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশের বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের ওপর এটিই প্রথম কোনো প্রতিবেদন।

এমপিআইয়ের তথ্য মতে, তিন কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। আর এই হার সবচেয়ে বেশি পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে ৬৫ দশমিক তিন ছয় শতাংশ। সবচেয়ে কম ঝিনাইদহে ৮ দশমিক ছয় ছয় শতাংশ। বিভাগের দিক থেকে এই হার সবচেয়ে বেশি সিলেটে। এ বিভাগে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার ৩৭ দশমিক ৭০ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ময়মনসিংহ বিভাগ। বিভাগটির ৩৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বরিশাল বিভাগে এ হার ৩১ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম খুলনায় ১৫ দশমিক ২২ শতাংশ।

তবে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগের প্রায় ৯০ লাখ মানুষ বহুমাত্রিক দরিদ্র্য। সংখ্যার হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঢাকা বিভাগে বহুমাত্রিক দরিদ্র মানুষ ৭৫ লাখের বেশি। জেলাভিত্তিক হিসাবে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার সবেচেয়ে বেশি বান্দরবানে। এ জেলার ৬৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিকভাবে দরিদ্র। শীর্ষ তিনে থাকা অন্য দুই জেলা হচ্ছে– কক্সবাজার (৪৭.৭০%) ও সুনামগঞ্জ (৪৭.৩৬%)।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম বহুমাত্রিক দারিদ্র্য লক্ষ্য করা গেছে ঝিনাইদহ জেলায়। এ জেলার ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দরিদ্র। এ ছাড়াও কম বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার থাকা অন্য জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা (৯.১৯%), গাজীপুর ( ৯.৬৩%) ও যশোর (১০.৫৮%)।

বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের এ হার সাধারণ দারিদ্র্যের হারের চেয়ে বেশ খানিকটা বেশি। বিবিএসের সর্বশেষ খানা আয় ও ব্যয় জরিপে (২০২২) দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

জিইডির প্রতিবেদনে দেখা যায়, গ্রাম এলাকায় বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার শহরাঞ্চলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। গ্রামাঞ্চলে এ হার ২৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ। অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে ১৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ। শিশুদের মধ্যে এ হার ২৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ২১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

বয়সভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মধ্যে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য হার বেশি। তবে দারিদ্র্যের এ হার ব্যক্তির আয়-রোজগারের বদলে বিদ্যুৎ ও পানির প্রাপ্যতা, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা, ইন্টারনেট সংযোগসহ ১১টি সূচকের সমন্বয়ে হিসাব করা হয়েছে।