০২:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

গাজার ত্রাণকেন্দ্রে খাবার নিতে গিয়ে নিহত ৭৪৩ ফিলিস্তিনি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
  • / ৯৩

গ্রামের সংবাদ ডেস্ক : ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে পরিচালিত বিতর্কিত ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় গাজা উপত্যকায় খাবার সংগ্রহের সময় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৪৩ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৪ হাজার ৮৯১ জন।

শনিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই মর্মান্তিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, এই হতাহতদের বেশিরভাগই মারা গেছেন গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (Gaza Humanitarian Foundation বা GHF)-এর পরিচালিত বিতরণকেন্দ্রগুলোতে গুলিবিদ্ধ হয়ে। চলতি বছরের মে মাসের শেষ দিকে এই বিতরণ কার্যক্রম চালু করা হয়।

ত্রাণকেন্দ্রেই গুলিবর্ষণের শিকার-
এক প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আল-জাজিরার গাজা প্রতিনিধি হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, আহত এবং নিহতের সংখ্যা বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ অনেক হতাহতের হিসাব এখনো কমপক্ষে একাধিক এলাকায় অলিখিত রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, “নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর জন্য সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, আর তখনই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর গুলি ছুড়ে।”

মার্কিন ঠিকাদারদের বিস্ফোরক অভিযোগ-
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গাজায় নিযুক্ত কয়েকজন মার্কিন ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন যে, GHF পরিচালিত বিতরণকেন্দ্রগুলোর ভেতর ও বাইরে তাৎক্ষণিক গুলি ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করা হচ্ছে মানবিক সহায়তা নিতে আসা সাধারণ জনগণের ওপর।

প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন ঠিকাদার দাবি করেছেন, “অনেক কর্মী নিরাপত্তার নামে যা ইচ্ছা তা করছেন — কোনো নিয়মনীতি মানছেন না।”

GHF-এর পাল্টা বিবৃতি
তবে অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে GHF। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই, সব বিতরণ কার্যক্রমই আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পরিচালিত হচ্ছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন-
GHF নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পরও, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন তাদের সমর্থন জারি রেখেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, “GHF-ই একমাত্র সংস্থা যারা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও গাজায় কার্যকরভাবে ত্রাণ পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।”

জুন মাসের শেষদিকেই GHF-কে ৩০ মিলিয়ন ডলার সরাসরি অনুদান দেয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ক্ষোভ-অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা GHF-এর কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি একে “অমানবিক ও প্রাণঘাতী সামরিকীকৃত কর্মসূচি” বলে আখ্যায়িত করে বলেছে,

“GHF মূলত আন্তর্জাতিক উদ্বেগ প্রশমন ও সমর্থন আদায়ের একটি রাজনৈতিক মুখোশ। এটি ইসরায়েলের দমননীতির একটি নতুন অস্ত্র।”

গাজার বাস্তবতা আরও ভয়াবহ-গাজার বাসিন্দারা ক্রমাগত খাদ্য, পানি এবং ওষুধ সংকটে ভুগছেন। সহিংসতা আর নিষ্ঠুরতার মাঝে বেঁচে থাকা লাখো মানুষের জন্য এই ধরনের বিতরণকেন্দ্র শেষ আশার জায়গা হলেও, নিরাপত্তার নামে সেখানে যদি গুলি চালানো হয়, তবে তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

গাজার ত্রাণকেন্দ্রে খাবার নিতে গিয়ে নিহত ৭৪৩ ফিলিস্তিনি

আপডেট: ০৭:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

গ্রামের সংবাদ ডেস্ক : ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে পরিচালিত বিতর্কিত ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় গাজা উপত্যকায় খাবার সংগ্রহের সময় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৪৩ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৪ হাজার ৮৯১ জন।

শনিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই মর্মান্তিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, এই হতাহতদের বেশিরভাগই মারা গেছেন গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (Gaza Humanitarian Foundation বা GHF)-এর পরিচালিত বিতরণকেন্দ্রগুলোতে গুলিবিদ্ধ হয়ে। চলতি বছরের মে মাসের শেষ দিকে এই বিতরণ কার্যক্রম চালু করা হয়।

ত্রাণকেন্দ্রেই গুলিবর্ষণের শিকার-
এক প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আল-জাজিরার গাজা প্রতিনিধি হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, আহত এবং নিহতের সংখ্যা বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ অনেক হতাহতের হিসাব এখনো কমপক্ষে একাধিক এলাকায় অলিখিত রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, “নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর জন্য সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, আর তখনই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর গুলি ছুড়ে।”

মার্কিন ঠিকাদারদের বিস্ফোরক অভিযোগ-
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গাজায় নিযুক্ত কয়েকজন মার্কিন ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন যে, GHF পরিচালিত বিতরণকেন্দ্রগুলোর ভেতর ও বাইরে তাৎক্ষণিক গুলি ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করা হচ্ছে মানবিক সহায়তা নিতে আসা সাধারণ জনগণের ওপর।

প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন ঠিকাদার দাবি করেছেন, “অনেক কর্মী নিরাপত্তার নামে যা ইচ্ছা তা করছেন — কোনো নিয়মনীতি মানছেন না।”

GHF-এর পাল্টা বিবৃতি
তবে অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে GHF। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই, সব বিতরণ কার্যক্রমই আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পরিচালিত হচ্ছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন-
GHF নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পরও, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন তাদের সমর্থন জারি রেখেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, “GHF-ই একমাত্র সংস্থা যারা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও গাজায় কার্যকরভাবে ত্রাণ পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।”

জুন মাসের শেষদিকেই GHF-কে ৩০ মিলিয়ন ডলার সরাসরি অনুদান দেয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ক্ষোভ-অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা GHF-এর কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি একে “অমানবিক ও প্রাণঘাতী সামরিকীকৃত কর্মসূচি” বলে আখ্যায়িত করে বলেছে,

“GHF মূলত আন্তর্জাতিক উদ্বেগ প্রশমন ও সমর্থন আদায়ের একটি রাজনৈতিক মুখোশ। এটি ইসরায়েলের দমননীতির একটি নতুন অস্ত্র।”

গাজার বাস্তবতা আরও ভয়াবহ-গাজার বাসিন্দারা ক্রমাগত খাদ্য, পানি এবং ওষুধ সংকটে ভুগছেন। সহিংসতা আর নিষ্ঠুরতার মাঝে বেঁচে থাকা লাখো মানুষের জন্য এই ধরনের বিতরণকেন্দ্র শেষ আশার জায়গা হলেও, নিরাপত্তার নামে সেখানে যদি গুলি চালানো হয়, তবে তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।