০১:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুরে কোরবানীর মাংস নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ভ্যানচালক নিহত

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৫৮:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫
  • / ২৪৫

সনত চক্র বর্ত্তী,ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে গ্রাম্যদলে মিশে কোরবানীর মাংস নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় হুমায়ূন কবীর (৪৮) নামে এক ভ্যানচালক নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

আজ সোমবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুমায়ূন কবীর মারা যায়। এর আগে গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে

নিহত হুমায়ুন কবির বানিয়াড়ী গ্রামের মৃত মালেক মোল্লার ছেলে। তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলের বাবা। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সোমবার বিকেলে নিহতের বাড়ি থেকে ফরিদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হামলায় বানিয়ারী গ্রামের ভ্যানচালক হুমায়ূন কবীর মাথায় ধারাল অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রবিবার বিকেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থনান্তর করা হয়। রাতেই ঢাকা মেডিক্যাল থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে রাখলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে হুমায়ূন কবীর মারা যান।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের গ্রাম্যদলাদলি নিয়ে দুইটি বিবাদমান পক্ষ রয়েছে। একটিপক্ষের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জামাল হোসেন ও উপজেলা পল্লি উন্নয়ন সমবায় সমিতির সভাপতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা নবীর হোসেন চুন্নু এবং অপরপক্ষের নেতৃত্ব দেন ময়না ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসেন মাস্টার।

হামলায় নিহত হওয়া হুমায়ূন কবীর নবীর হোসেন চুন্নুর সমর্থক ছিলেন। গত শনিবার ঈদুল আজহার দিন হুমায়ূন কবীর লিয়াকতের দলে থাকা ভাই-ভাতিজাদের নবীর হোসেন চুন্নুর দলে নিয়ে সেখান থেকে সামাজিক ভাবে বিলি করা কোরবানীর মাংস গ্রহণ করেন। এ নিয়ে ঈদের দিন থেকে ওই গ্রামে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, কোরবানীর মাংসের ভাগ নেওয়ার জেরে গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বানিয়ারী গ্রামের ছাকেনের চায়ের দোকানের সামনে কৃষক দল নেতা লিয়াকত হোসেন মাস্টারসহ তার সমর্থকদের সাথে আওয়ামী লীগ নেতা নবীর হোসেন চুন্নুর সমর্থক হুমায়ুন কবিরসহ তার পরিবারের সদস্যদের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে লিয়াকতরা হুমায়ুন কবিরসহ তার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালায়। এ হামলায় মাথায় ধারাল অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হুমায়ূন কবীরকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থনান্তর করা হয়। রাতেই ঢাকা মেডিক্যাল থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে রাখলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে হুমায়ূন কবীর মারা যান।

বাড়িতে ঢাকা থেকে নিহতের মরদেহ আসার পর থেকে একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ছেন স্ত্রী শিউলি বেগম। তার সাথে তিন মেয়ে ও ছোট ছেলেটিও কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। এলাকাবাসী ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।

এ ঘটনায় আরো আহত হন হুমায়ুন কবিরের বড় ভাই মোস্তফা মোল্লা (৫৮), তার মেয়ে বেনি বেগম (২৩) ও এক ভাগিনা। তারা বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি সদস্য জামাল হোসেনের পক্ষের নবীর হোসেন বলেন, হুমায়ূন কবীর আগে লিয়াকত হোসেনের দেওয়া কোরবানীর গোস্ত খেত। এবার আমাদের কাছ থেকে কোরবানীর গোস্ত নেওয়ায় লিয়াকতরা এ হামলা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটায়। তিনি বলেন, হুমায়ুনের মরদেহ বাড়িতে আনার পর ময়না তদন্তের জন্য সোমবার বিকেলে ফরিদপুর মর্গে নেওয়া হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হবে।

তবে ঘটনার পর থেকে লিয়াকত হোসেন পলাতক থাকায় আজ সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ময়না ইউপির সাবেক চেয়াম্যান নাসির মো. সেলিম বলেন, গ্রাম্য দলপক্ষ নিয়ে কোরবানীর মাংস গ্রহন করায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিচার দাবি জানাচ্ছি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদুল হাসান বলেন, বানিয়াড়ী গ্রামে দুইটি পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষের সমর্থক হুমায়ূন কবীর ভাই-ভাতিজাদের নিয়ে অপরপক্ষের দলে মিশে কোরবানীর মাংস নেন। বিষয়টি নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুমায়ূন কবীর মারা যান। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

ফরিদপুরে কোরবানীর মাংস নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ভ্যানচালক নিহত

আপডেট: ০৮:৫৮:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫

সনত চক্র বর্ত্তী,ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে গ্রাম্যদলে মিশে কোরবানীর মাংস নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় হুমায়ূন কবীর (৪৮) নামে এক ভ্যানচালক নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

আজ সোমবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুমায়ূন কবীর মারা যায়। এর আগে গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে

নিহত হুমায়ুন কবির বানিয়াড়ী গ্রামের মৃত মালেক মোল্লার ছেলে। তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলের বাবা। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সোমবার বিকেলে নিহতের বাড়ি থেকে ফরিদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হামলায় বানিয়ারী গ্রামের ভ্যানচালক হুমায়ূন কবীর মাথায় ধারাল অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রবিবার বিকেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থনান্তর করা হয়। রাতেই ঢাকা মেডিক্যাল থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে রাখলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে হুমায়ূন কবীর মারা যান।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের গ্রাম্যদলাদলি নিয়ে দুইটি বিবাদমান পক্ষ রয়েছে। একটিপক্ষের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জামাল হোসেন ও উপজেলা পল্লি উন্নয়ন সমবায় সমিতির সভাপতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা নবীর হোসেন চুন্নু এবং অপরপক্ষের নেতৃত্ব দেন ময়না ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসেন মাস্টার।

হামলায় নিহত হওয়া হুমায়ূন কবীর নবীর হোসেন চুন্নুর সমর্থক ছিলেন। গত শনিবার ঈদুল আজহার দিন হুমায়ূন কবীর লিয়াকতের দলে থাকা ভাই-ভাতিজাদের নবীর হোসেন চুন্নুর দলে নিয়ে সেখান থেকে সামাজিক ভাবে বিলি করা কোরবানীর মাংস গ্রহণ করেন। এ নিয়ে ঈদের দিন থেকে ওই গ্রামে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, কোরবানীর মাংসের ভাগ নেওয়ার জেরে গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বানিয়ারী গ্রামের ছাকেনের চায়ের দোকানের সামনে কৃষক দল নেতা লিয়াকত হোসেন মাস্টারসহ তার সমর্থকদের সাথে আওয়ামী লীগ নেতা নবীর হোসেন চুন্নুর সমর্থক হুমায়ুন কবিরসহ তার পরিবারের সদস্যদের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে লিয়াকতরা হুমায়ুন কবিরসহ তার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালায়। এ হামলায় মাথায় ধারাল অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হুমায়ূন কবীরকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থনান্তর করা হয়। রাতেই ঢাকা মেডিক্যাল থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে রাখলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে হুমায়ূন কবীর মারা যান।

বাড়িতে ঢাকা থেকে নিহতের মরদেহ আসার পর থেকে একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ছেন স্ত্রী শিউলি বেগম। তার সাথে তিন মেয়ে ও ছোট ছেলেটিও কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। এলাকাবাসী ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।

এ ঘটনায় আরো আহত হন হুমায়ুন কবিরের বড় ভাই মোস্তফা মোল্লা (৫৮), তার মেয়ে বেনি বেগম (২৩) ও এক ভাগিনা। তারা বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি সদস্য জামাল হোসেনের পক্ষের নবীর হোসেন বলেন, হুমায়ূন কবীর আগে লিয়াকত হোসেনের দেওয়া কোরবানীর গোস্ত খেত। এবার আমাদের কাছ থেকে কোরবানীর গোস্ত নেওয়ায় লিয়াকতরা এ হামলা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটায়। তিনি বলেন, হুমায়ুনের মরদেহ বাড়িতে আনার পর ময়না তদন্তের জন্য সোমবার বিকেলে ফরিদপুর মর্গে নেওয়া হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হবে।

তবে ঘটনার পর থেকে লিয়াকত হোসেন পলাতক থাকায় আজ সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ময়না ইউপির সাবেক চেয়াম্যান নাসির মো. সেলিম বলেন, গ্রাম্য দলপক্ষ নিয়ে কোরবানীর মাংস গ্রহন করায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিচার দাবি জানাচ্ছি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদুল হাসান বলেন, বানিয়াড়ী গ্রামে দুইটি পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষের সমর্থক হুমায়ূন কবীর ভাই-ভাতিজাদের নিয়ে অপরপক্ষের দলে মিশে কোরবানীর মাংস নেন। বিষয়টি নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুমায়ূন কবীর মারা যান। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।