ডোমারে আব্দুর রাজ্জাক রাজা নামে এক সাংবাদিককে হাত-পা ও মুখ বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় আব্দুর রাজ্জাক রাজা নামে এক সাংবাদিককে তার নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে।পরে এলাকাবাসী ও পুলিশের সহযোগিতায় ওই সাংবাদিককে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২ এপ্রিল) রাত ১১টায় ডোমার পৌরসভার মডেল স্কুল পাড়ায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।দলবদ্ধ ভাবে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দলবদ্ধভাবে তাকে নির্যাতন চালানো হয় বলে জানা যায়। পুলিশ তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। নির্যাতনের শিকার এই সাংবাদিক ডোমার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।
সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক রাজা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মডেল স্কুল পাড়ার মশিয়ার রহমানের ছেলে রাসেল একই এলাকার এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে উভয়ের সংসারে অশান্তি দেখা দেয়। এ নিয়ে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মশিয়ার ও তার ছেলেরা তাদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করতে থাকে। কিন্তু অসুস্থ সাংবাদিক রাজা যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলে তারা জোড়পূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়।
তিনি আরোও জানান, এক পর্যায়ে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িত নারীর পিতা তরিকুল ও মশিয়ারের পরিবারের লোকজন তাকে খুঁটিতে বেঁধে ফেলে। এর পর হাত পা ও মুখ বেঁধে নির্যাতন শুরু করে। এ সময় সাংবাদিকের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা কেড়ে নেয়। টানা দুই ঘণ্টা নির্যাতনের ফলে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়ে সাংবাদিক রাজা। ঘটনা জানতে পেরে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে এলাকাবাসীর সহয়তায় তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদিকে সাংবাদিক রাজাকে রক্ষা করতে গিয়ে স্বাধীন নামের এক যুবক হামলার শিকার হন। দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কিন্তু সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে তাৎক্ষণিক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে স্বাধীন নামের রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ডোমার ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।