বাঘারপাড়ার প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কৃত্রিম প্রজনন পদ ৩ বছর ধরে শূন্য সেবা বঞ্চিত হাজারও খামারী
- আপডেট: ০৬:৩১:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / ১২

সাঈদ ইবনে হানিফ : যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট (কৃত্রিম প্রজনন) পদটি টানা তিন বছর ধরে শূন্য থাকায় সরকারি কৃত্রিম প্রজনন (এআই) সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার শত শত খামারি ও গাভী পালনকারী। ফলে বাধ্য হয়ে ইউনিয়নভিত্তিক এআই কর্মী কিংবা বেসরকারি সেবাদাতার কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি খরচ করে এই সেবা নিতে হচ্ছে তাদের।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট (কৃত্রিম প্রজনন) পদটি শূন্য রয়েছে। এ পদে জনবল নিয়োগের জন্য একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত তা কার্যকরী হয়নি।
খবর নিয়ে জানা গেছ, শুধু প্রজনন পদই নয়, দপ্তরের একটি ভেটেরিনারি সার্জন, দুটি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং একটি কম্পাউন্ডার পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব পড়ছে এবং কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
কয়েক জন খামারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি নির্ধারিত ফি অনুযায়ী কৃত্রিম প্রজননের তরল সিমেনের মূল্য মাত্র ৫০ টাকা এবং হিমায়িত সিমেনের মূল্য ৭৫ টাকা। কিন্তু প্রয়োজনীয় সরকারি জনবল না থাকায় একই সেবার জন্য খামারিদের ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।
স্থানীয় খামারিদের অভিযোগ, সময়মতো কৃত্রিম প্রজনন সেবা না পাওয়ায় গবাদিপশুর উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেও অনেক সময় প্রয়োজনের মুহূর্তে সেবা পাওয়া যায় না। এতে ছোট ও মাঝারি খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
উপজেলার গাভী পালনকারী আবুল কাশেম, মশিয়ার রহমান, রকনুজ্জমান, আনারুল ইসলাম বলেন, গরুর প্রজননসহ সাধারণ চিকিৎসায় “সরকারি ফি অনেক কম, কিন্তু জনবল না থাকায় বাধ্য হয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা দিয়ে বেসরকারিভাবে সেবা নিতে হচ্ছে। তাদর দাবি, দ্রুত ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট (কৃত্রিম প্রজনন) এবং অন্যান্য শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হলে উপজেলার শত শত খামারি এবং সাধারণ পশু পালন করীগণ উপকৃত হবেন।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, “শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে পত্র পাঠানো হয়েছে। পদগুলো পূরণ হলে মাঠপর্যায়ে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং খামারিরা সরকারি সেবা সহজেই গ্রহণ করতে পারবেন।”
আর স্থানীয় খামারিদের ও সাধারণ পশু পালন কারীদের দাবি, প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি ও খামারিদের আর্থিক ক্ষতি কমাতে দীর্ঘদিনের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।












