চাকরিতে প্রতিযোগিতা বেড়েছে ৬৬%, একটি পদের বিপরীতে ২৮৭ জন
- আপডেট: ১০:০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
- / ৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ করোনাভাইরাস মহামারির পর বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমবাজারে প্রতি শূন্য পদের বিপরীতে প্রতিযোগিতা বেড়েছে প্রায় ৬৬%। বর্তমানে একটি শূন্য পদের বিপরীতে গড়ে ২৮৭ জন আবেদনকারী প্রতিযোগিতা করছেন, যা মহামারির আগে ছিল ১৭৩ জন।
উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কায় নিয়োগ সংকুচিত হওয়ায় চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে।
২০১৫ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৪৭ সপ্তাহের তথ্য নিয়ে দেশের অন্যতম বড় একটি অনলাইন জব পোর্টালের ওপর এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক সেমিনারে বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক অতনু রাব্বানী এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
গবেষণায় চাকরির বিজ্ঞপ্তি, শূন্য পদ, আবেদনের হার এবং শ্রমবাজারের ওপর মহামারি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো রেট পরিবর্তনের মতো প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক ধাক্কার প্রভাব পর্যালোচনা করা হয়।
গবেষণার সময় ওই জব পোর্টালে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১,১৫৪টি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, ৩,৬৪৬টি শূন্য পদ এবং প্রায় ৬ লাখ ৯৭ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, মহামারি দেশের শ্রমবাজারে ভয়াবহ আঘাত এনেছিল। ২০২০ সালের মার্চ থেকে জুনের মধ্যে সরকার যখন সারাদেশে লকডাউন জারি করে, তখন চাকরির বিজ্ঞপ্তি ৭০.২% এবং শূন্য পদ ৭৫.২% কমে আসে।একই সময়ে আবেদনকারীর সংখ্যা কমেছিল ৫৯.১%।
এর অর্থ হলো, চাকরির আবেদনের চেয়ে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা খুব বেশি কমেনি। আর এই পার্থক্যের কারণেই প্রতি পদের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে ২৮৭.৩ জনে পৌঁছায়।
যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বাংলাদেশে শূন্য পদ কমার হার ছিল অনেক বেশি। মহামারি চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে শূন্য পদ প্রায় ৪০% কমেছিল। আর যুক্তরাজ্যে কমেছিল ৬০%-৭০%।
মহামারির পর ধীরে ধীরে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেও শ্রমবাজারের পরিস্থিতি প্রতিযোগিতাপূর্ণই থেকে যায়।
অতনু রাব্বানী বলেন, “শ্রমবাজারের এই তথ্যে দেখা যায় প্রতিটি পদের বিপরীতে কতজন প্রতিযোগিতা করছেন। এই সংখ্যা যত বেশি হবে, চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বাজারটি তত কঠিন বলে ধরে নিতে হবে।”



























