বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে মাসুমা
- আপডেট: ০৭:৫৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
- / ১৩

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আগের দিন সন্ধ্যায় বাবা মারা গেছে। পরদিন সকালে বাড়িতে চলছিল লাশ দাফনের প্রস্তুতি। এমন অবস্থায় লাশ বাড়িতে রেখে এইচএসসি পরীক্ষায় বসেছেন মেয়ে মাসুমা আক্তার।
পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরে বাবার লাশ দাফনে অংশ নেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর মাসুমা ভেঙে পড়লেও স্বজনদের সান্ত্বনায় জীবনের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
বুধবার যশোরের শার্শা উপজেলা বেনাপোলের নামাজ গ্রামে হৃদয় বিদারক এমন ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ।
১৮ বছরের মাসুমা এবার শার্শা উপজেলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। তিনি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।
সকাল ১০টার আগে চোখ মুছতে মুছতে বেনাপোল কলেজকেন্দ্রে যান তিনি। সহপাঠী ও কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সহযোগিতায় পরীক্ষায় অংশ নেয়।
জোহরের নামাজের পরে গ্রামের মসজিদে বাবা আব্দুস সামাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পাড়া প্রতিবেশী ও আশপাশের এলাকার কয়েকশ মানুষ অংশ নেন। পরে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মাসুমার বাবা আব্দুস সামাদ (৬৫) বেনাপোলের একজন ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী। তিনি ‘মেসার্স তাজমহল ট্রান্সপোর্ট ও হাজী মুছা করিম অ্যান্ড সন্স’ এর মালিক এবং আমদানিকারক ছিলেন।
সামাদের বড় ভাই আব্দুল গফুর বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে সামাদ বাড়িতে হঠাৎ স্টোক করলে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তারা মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।
বেনাপোল কলেজের কেন্দ্রসচিব অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান শান্তি বলেন, “মাসুমার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি সকালেই জানতে পেরেছিলাম। সবার সঙ্গে বসে পরীক্ষা দিলে তার জন্য ভালো হবে ভেবে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
“আমরা চেয়েছিলাম সে সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষা দিক। সে এক হাতে রুমাল দিয়ে বারবার চোখ মুছছিল। আর অন্য হাতে পরীক্ষার খাতায় লিখেছে।”
তবে একটায় পরীক্ষা শেষ হলেও মাসুমা সাড়ে ১২টায় খাতা জমা দিয়ে বাড়ি চলে গেছেন বলে জানান তিনি।
পরীক্ষার্থী মাসুমা বলল, “বাবা আমাকে অনেক ভালোবাসতেন। বাবা চাইতেন আমি যেন পড়ালেখা করে অনেক বড় হই। তাই এমন অবস্থায়ও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। বাবার আত্মাকে কষ্ট দিতে চাই না।”
শার্শা উপজেলা কলেজের অধ্যক্ষ হাসানুজ্জামান অনুপম বলেন, “মাসুমা নিয়মিত কলেজে আসতো। পড়াশুনায়ও খুব ভাল। তার বাবার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে কলেজের অনেক মেয়ে তাদের বাসায় সান্ত্বনা দিতে যায়। তার পরীক্ষার জন্য আমরা সবাই সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। যাতে শোক কাটিয়ে পরীক্ষাটা ভালোভাবে শেষ করতে পারে।”
ইউএনও ফজলে ওয়াহিদ বলেন, “বাবাকে হারানো যে কারও জন্য খুবই কষ্টদায়ক। তারপরও এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাসুমা বাবা হারানোর কষ্ট নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আমরাও তার পরীক্ষার সময় যতটা সম্ভব পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।”






















