০৭:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

“মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ”ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও বিচার নিশ্চিতের দাবি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:৪২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / ১০

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা এবং সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।

সংগঠনটির দাবি, কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগ নয়, মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। এতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রস্তুত করা একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন পিসিএনপির খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল মজিদ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচ্য ছয় মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রায় ২৪০টি ঘটনার তথ্য সংকলন করা হয়েছে। এর মধ্যে অপহরণ, হত্যা, চাঁদাবাজির অভিযোগ, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব ঘটনার প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবন, নিরাপত্তা, শিক্ষা, জীবিকা ও উন্নয়নের অধিকারের ওপর পড়ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অপহরণ ও সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক, চালক, কৃষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি শিশু ও তরুণদের সংঘাতমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার অভিযোগ, নারীদের অপহরণ ও নির্যাতন এবং বিভিন্ন খাতে চাঁদা দাবির ঘটনাও উদ্বেগজনক বলে তুলে ধরা হয়।

এছাড়া ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ, সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পাচারের অভিযোগ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধকতা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয়গুলোও পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে ভুক্তভোগী কেন্দ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত, বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা, নারী ও শিশুর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা, সাক্ষী ও অভিযোগ কারীদের সুরক্ষা, ভূমি বিরোধের ন্যায্য সমাধান এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পিসিএনপির খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আহ্বায়ক সদস্য শাহাদাৎ হোসেন, এরশাদ হোসেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলার আহ্বায়ক সদস্য রবিউল হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের জেলা সভাপতি জালাল আহমেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, সাবেক সভাপতি সুমন আহমেদ ও সোহেল রানা, কলেজ শাখার সভাপতি মাকসুদুল আলমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

Please Share This Post in Your Social Media

“মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ”ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও বিচার নিশ্চিতের দাবি

আপডেট: ০৬:৪২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা এবং সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।

সংগঠনটির দাবি, কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগ নয়, মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। এতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রস্তুত করা একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন পিসিএনপির খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল মজিদ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচ্য ছয় মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রায় ২৪০টি ঘটনার তথ্য সংকলন করা হয়েছে। এর মধ্যে অপহরণ, হত্যা, চাঁদাবাজির অভিযোগ, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব ঘটনার প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবন, নিরাপত্তা, শিক্ষা, জীবিকা ও উন্নয়নের অধিকারের ওপর পড়ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অপহরণ ও সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক, চালক, কৃষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি শিশু ও তরুণদের সংঘাতমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার অভিযোগ, নারীদের অপহরণ ও নির্যাতন এবং বিভিন্ন খাতে চাঁদা দাবির ঘটনাও উদ্বেগজনক বলে তুলে ধরা হয়।

এছাড়া ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ, সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পাচারের অভিযোগ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধকতা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয়গুলোও পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে ভুক্তভোগী কেন্দ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত, বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা, নারী ও শিশুর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা, সাক্ষী ও অভিযোগ কারীদের সুরক্ষা, ভূমি বিরোধের ন্যায্য সমাধান এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পিসিএনপির খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আহ্বায়ক সদস্য শাহাদাৎ হোসেন, এরশাদ হোসেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলার আহ্বায়ক সদস্য রবিউল হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের জেলা সভাপতি জালাল আহমেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, সাবেক সভাপতি সুমন আহমেদ ও সোহেল রানা, কলেজ শাখার সভাপতি মাকসুদুল আলমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।