০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ফ্রান্স-স্পেনে আগুনের বিভীষিকা, ঘরছাড়া ৩ লাখের বেশি মানুষ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:১৬:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • / ১০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ ও প্রবল বাতাসের মধ্যে ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে দুই দেশ মিলিয়ে তিন লাখের বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন, জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা নেওয়াসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত বোর্দো শহরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানান, আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আনার মতো অবস্থায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উচ্চ তাপমাত্রা ও দমকা বাতাস আগুন নেভানোর কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে। অন্যদিকে স্পেনে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। তবে মাদ্রিদের আশপাশে আবহাওয়ার সামান্য উন্নতি হওয়ায় কিছু এলাকায় দমকল বাহিনীর কাজ কিছুটা সহজ হয়েছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সতর্ক করে বলেছেন, সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। এদিকে ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ দাবানলে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৭০ বছরের বেশি বয়সী ওই ব্যক্তির মরদেহ মানিসেস এলাকার সাল্ট দে ল’আইগুয়া গিরিখাতে তার গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়।

ফ্রান্সে শনিবার (২৫ জুলাই) রাতেও আরও ৫৫ হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরোন্দ ও লঁদ অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখে পৌঁছেছে।

দমকল কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন নিকোলা ব্রাজ বলেন, আগুন এতটাই ভয়াবহ যে এটি নিজস্ব বাতাস ও ঘূর্ণিবাতাস তৈরি করছে। ফলে আগুনের গতিপথ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে এবং তা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, সামনে আরও একটি কঠিন রাত অপেক্ষা করছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্স সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। সেনাসদস্যরা ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা এবং আগুনের বিস্তার ঠেকাতে ফায়ারব্রেক তৈরি করে দমকলকর্মীদের সহায়তা করছেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে বলেছেন, “আমরা সবকিছু আবার গড়ে তুলব। যতদিন প্রয়োজন, সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকবে।”

দেশজুড়ে প্রায় ৩০টি দাবানল জ্বলতে থাকায় প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন। ফরাসি সরকারের ভাষ্য, এমন নজিরবিহীন পরিস্থিতি এর আগে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে স্পেনেও মাদ্রিদের কাছাকাছি এলাকায় দাবানল অব্যাহত রয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো সহায়তা করছে না। বরং পরিস্থিতি আগের দিনের তুলনায় আরও উদ্বেগজনক।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দাবানল শুরু হওয়ার পর থেকে মাদ্রিদ ও আভিলা অঞ্চল থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২৮ হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।

প্রধানমন্ত্রী সানচেজ জানিয়েছেন, চলতি বছরে স্পেনে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩০ হাজার হেক্টরের বেশি বন ও জমি আগুনে পুড়ে গেছে। গত এক দশকে দেশটিতে দাবানলে পুড়ে যাওয়া জমির বার্ষিক গড় ছিল প্রায় ১ লাখ হেক্টর।

এদিকে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকে দেশটিতে ৯৮ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা দাবানলে পুড়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপজুড়ে ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে দাবানল—এমন আশঙ্কাই নতুন করে সামনে আনছে ফ্রান্স ও স্পেনের এই দুর্যোগ।

Please Share This Post in Your Social Media

ফ্রান্স-স্পেনে আগুনের বিভীষিকা, ঘরছাড়া ৩ লাখের বেশি মানুষ

আপডেট: ০৯:১৬:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ ও প্রবল বাতাসের মধ্যে ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে দুই দেশ মিলিয়ে তিন লাখের বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন, জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা নেওয়াসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত বোর্দো শহরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানান, আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আনার মতো অবস্থায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উচ্চ তাপমাত্রা ও দমকা বাতাস আগুন নেভানোর কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে। অন্যদিকে স্পেনে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। তবে মাদ্রিদের আশপাশে আবহাওয়ার সামান্য উন্নতি হওয়ায় কিছু এলাকায় দমকল বাহিনীর কাজ কিছুটা সহজ হয়েছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সতর্ক করে বলেছেন, সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। এদিকে ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ দাবানলে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৭০ বছরের বেশি বয়সী ওই ব্যক্তির মরদেহ মানিসেস এলাকার সাল্ট দে ল’আইগুয়া গিরিখাতে তার গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়।

ফ্রান্সে শনিবার (২৫ জুলাই) রাতেও আরও ৫৫ হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরোন্দ ও লঁদ অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখে পৌঁছেছে।

দমকল কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন নিকোলা ব্রাজ বলেন, আগুন এতটাই ভয়াবহ যে এটি নিজস্ব বাতাস ও ঘূর্ণিবাতাস তৈরি করছে। ফলে আগুনের গতিপথ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে এবং তা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, সামনে আরও একটি কঠিন রাত অপেক্ষা করছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্স সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। সেনাসদস্যরা ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা এবং আগুনের বিস্তার ঠেকাতে ফায়ারব্রেক তৈরি করে দমকলকর্মীদের সহায়তা করছেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে বলেছেন, “আমরা সবকিছু আবার গড়ে তুলব। যতদিন প্রয়োজন, সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকবে।”

দেশজুড়ে প্রায় ৩০টি দাবানল জ্বলতে থাকায় প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন। ফরাসি সরকারের ভাষ্য, এমন নজিরবিহীন পরিস্থিতি এর আগে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে স্পেনেও মাদ্রিদের কাছাকাছি এলাকায় দাবানল অব্যাহত রয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো সহায়তা করছে না। বরং পরিস্থিতি আগের দিনের তুলনায় আরও উদ্বেগজনক।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দাবানল শুরু হওয়ার পর থেকে মাদ্রিদ ও আভিলা অঞ্চল থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২৮ হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।

প্রধানমন্ত্রী সানচেজ জানিয়েছেন, চলতি বছরে স্পেনে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩০ হাজার হেক্টরের বেশি বন ও জমি আগুনে পুড়ে গেছে। গত এক দশকে দেশটিতে দাবানলে পুড়ে যাওয়া জমির বার্ষিক গড় ছিল প্রায় ১ লাখ হেক্টর।

এদিকে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকে দেশটিতে ৯৮ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা দাবানলে পুড়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপজুড়ে ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে দাবানল—এমন আশঙ্কাই নতুন করে সামনে আনছে ফ্রান্স ও স্পেনের এই দুর্যোগ।