১০:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

প্রত্যন্ত এলাকায় জলবায়ু সহনশীলতা গড়তে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • /

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
প্রত্যন্ত এলাকার জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, স্থানীয় সম্পদের সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে কারিগরি সেবাদাতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও বিশ্ব পরিবেশ দিবসের নানা কর্মসূচি।

স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ উদ্যোগকে জলবায়ু সহনশীল ও আত্মনির্ভরশীল কমিউনিটি গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (৮ জুন) খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের প্রত্যন্ত উল্টাছড়ি বিহারপাড়ায় কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স থ্রু লোকালি লেড ইনক্লুসিভ অ্যাডাপটেশন (CoRLIA)-এর আয়োজনে এবং ইকোসিস্টেমস রেস্টোরেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট ইন সিএইচটি (ERRD-CHT) প্রকল্পের আওতায় ইউএনডিপি (UNDP)-এর সহযোগিতায় ডব্লিউসিআরসি (WCRC) সম্পদের স্থানীয় পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ (O&M) জোরদারকরণে নতুন ও বিদ্যমান কারিগরি সেবাদাতা উন্নয়ন ও সম্পৃক্তকরণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণে স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা প্লাম্বার, সৌরবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎকর্মী, পানি ব্যবস্থাপনা কর্মীসহ বিভিন্ন কারিগরি পেশার ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। তাদের ডব্লিউসিআরসি অবকাঠামো ও সম্পদের কার্যকর পরিচালনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, দ্রুত সমস্যা শনাক্তকরণ ও সমাধান, নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই কারিগরি সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এছাড়া নারীদের কৃষিকাজে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে পাওয়ার টিলার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়েও বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা লাভ করেন।

আয়োজকরা জানান, পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত কমিউনিটিগুলোতে স্থাপিত জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো ও জনসেবামূলক সম্পদ দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখতে স্থানীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে কমিউনিটির নিজস্ব সক্ষমতা ও আত্মনির্ভরশীলতাও বৃদ্ধি পাবে।

প্রশিক্ষণের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন করলিয়া প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার পরিচিতা খীসা। তিনি বলেন, “স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযোজন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে দক্ষ কারিগরি সেবাদাতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কমিউনিটি পর্যায়ে বিভিন্ন অবকাঠামো ও সেবামূলক সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।”

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও বাস্তবধর্মী উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তাদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ জনবল তৈরি হলে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক অবকাঠামো দীর্ঘদিন কার্যকর থাকবে এবং জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে।

একই দিনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে উল্টাছড়ি পাড়ায় আয়োজন করা হয় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি। দিবসটি উপলক্ষে যুব সদস্যদের অংশগ্রহণে উঠান বৈঠক, উল্টাছড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং এলাকার বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কর্মসূচির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা নবলেশ্বর দেওয়ান লায়ন। এছাড়াও ইউএনডিপি এবং করলিয়া প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইয়ুথ গ্রুপের সদস্যরা কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত জনপদগুলোতে স্থানীয় জনগণের নেতৃত্বে অভিযোজন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতা কার্যক্রমের সমন্বিত আয়োজন টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনের পথে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

প্রত্যন্ত এলাকায় জলবায়ু সহনশীলতা গড়তে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন

আপডেট: ০৮:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
প্রত্যন্ত এলাকার জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, স্থানীয় সম্পদের সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে কারিগরি সেবাদাতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও বিশ্ব পরিবেশ দিবসের নানা কর্মসূচি।

স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ উদ্যোগকে জলবায়ু সহনশীল ও আত্মনির্ভরশীল কমিউনিটি গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (৮ জুন) খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের প্রত্যন্ত উল্টাছড়ি বিহারপাড়ায় কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স থ্রু লোকালি লেড ইনক্লুসিভ অ্যাডাপটেশন (CoRLIA)-এর আয়োজনে এবং ইকোসিস্টেমস রেস্টোরেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট ইন সিএইচটি (ERRD-CHT) প্রকল্পের আওতায় ইউএনডিপি (UNDP)-এর সহযোগিতায় ডব্লিউসিআরসি (WCRC) সম্পদের স্থানীয় পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ (O&M) জোরদারকরণে নতুন ও বিদ্যমান কারিগরি সেবাদাতা উন্নয়ন ও সম্পৃক্তকরণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণে স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা প্লাম্বার, সৌরবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎকর্মী, পানি ব্যবস্থাপনা কর্মীসহ বিভিন্ন কারিগরি পেশার ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। তাদের ডব্লিউসিআরসি অবকাঠামো ও সম্পদের কার্যকর পরিচালনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, দ্রুত সমস্যা শনাক্তকরণ ও সমাধান, নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই কারিগরি সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এছাড়া নারীদের কৃষিকাজে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে পাওয়ার টিলার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়েও বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা লাভ করেন।

আয়োজকরা জানান, পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত কমিউনিটিগুলোতে স্থাপিত জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো ও জনসেবামূলক সম্পদ দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখতে স্থানীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে কমিউনিটির নিজস্ব সক্ষমতা ও আত্মনির্ভরশীলতাও বৃদ্ধি পাবে।

প্রশিক্ষণের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন করলিয়া প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার পরিচিতা খীসা। তিনি বলেন, “স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযোজন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে দক্ষ কারিগরি সেবাদাতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কমিউনিটি পর্যায়ে বিভিন্ন অবকাঠামো ও সেবামূলক সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।”

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও বাস্তবধর্মী উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তাদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ জনবল তৈরি হলে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক অবকাঠামো দীর্ঘদিন কার্যকর থাকবে এবং জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে।

একই দিনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে উল্টাছড়ি পাড়ায় আয়োজন করা হয় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি। দিবসটি উপলক্ষে যুব সদস্যদের অংশগ্রহণে উঠান বৈঠক, উল্টাছড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং এলাকার বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কর্মসূচির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা নবলেশ্বর দেওয়ান লায়ন। এছাড়াও ইউএনডিপি এবং করলিয়া প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইয়ুথ গ্রুপের সদস্যরা কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত জনপদগুলোতে স্থানীয় জনগণের নেতৃত্বে অভিযোজন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতা কার্যক্রমের সমন্বিত আয়োজন টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনের পথে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।