০১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

অধিকাল ভাতা পুনরায় চালুর দাবিতে বেনাপোল বন্দরে দ্বিতীয় দিনের মানববন্ধন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১৬:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • /

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর-এ অধিকাল (ওভারটাইম) ভাতা পুনরায় চালুর দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সোমবার (১১ মে-২০২৬) বিকেলে “বেনাপোল স্থলবন্দর কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদ”-এর ব্যানারে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনের পাশাপাশি দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করায় এ সময় দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে বন্দরে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়।

মানববন্ধনে বন্দরের প্রশাসনিক, অপারেশনাল ও বিভিন্ন শাখায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালনের বিপরীতে কর্মচারীদের অধিকাল ভাতা প্রদান করা হলেও ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে সেই ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অনেক কর্মচারী পরিবার-পরিজন নিয়ে আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বেনাপোল স্থলবন্দর কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান মিয়া। তিনি বলেন, অধিকাল ভাতা বন্ধের প্রতিবাদে রোববার ও সোমবার দুই দিনব্যাপী মানববন্ধন পালন করা হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেলে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্থলবন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা প্রবিধানমালা-২০২৫-এর ধারা ৩(ক) এবং বেনাপোল স্থলবন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা প্রবিধানমালা-২০০৭-এর ধারা ৩(ক, খ, গ, ঘ) অনুযায়ী প্রশাসনিক ও রাজস্ব দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মঘণ্টা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত। কিন্তু বাস্তবে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলমান থাকে। এছাড়া আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হয় সকাল সাড়ে ৬টা থেকে।

হাফিজুর রহমান মিয়া বলেন, প্রধান দপ্তরের ২০১৭ সালের ২৬ জুলাইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ১ আগস্ট থেকে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা চালুর সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে। ফলে সরকার নির্ধারিত সীমিত কর্মঘণ্টার মধ্যে এত বৃহৎ কার্যক্রম পরিচালনা বাস্তবসম্মত নয়। অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালনের পরও ভাতা বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত অধিকাল ভাতা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন ও বৃহত্তর কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

অধিকাল ভাতা পুনরায় চালুর দাবিতে বেনাপোল বন্দরে দ্বিতীয় দিনের মানববন্ধন

আপডেট: ১১:১৬:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর-এ অধিকাল (ওভারটাইম) ভাতা পুনরায় চালুর দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সোমবার (১১ মে-২০২৬) বিকেলে “বেনাপোল স্থলবন্দর কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদ”-এর ব্যানারে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনের পাশাপাশি দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করায় এ সময় দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে বন্দরে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়।

মানববন্ধনে বন্দরের প্রশাসনিক, অপারেশনাল ও বিভিন্ন শাখায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালনের বিপরীতে কর্মচারীদের অধিকাল ভাতা প্রদান করা হলেও ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে সেই ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অনেক কর্মচারী পরিবার-পরিজন নিয়ে আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বেনাপোল স্থলবন্দর কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান মিয়া। তিনি বলেন, অধিকাল ভাতা বন্ধের প্রতিবাদে রোববার ও সোমবার দুই দিনব্যাপী মানববন্ধন পালন করা হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেলে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্থলবন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা প্রবিধানমালা-২০২৫-এর ধারা ৩(ক) এবং বেনাপোল স্থলবন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা প্রবিধানমালা-২০০৭-এর ধারা ৩(ক, খ, গ, ঘ) অনুযায়ী প্রশাসনিক ও রাজস্ব দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মঘণ্টা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত। কিন্তু বাস্তবে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলমান থাকে। এছাড়া আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হয় সকাল সাড়ে ৬টা থেকে।

হাফিজুর রহমান মিয়া বলেন, প্রধান দপ্তরের ২০১৭ সালের ২৬ জুলাইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ১ আগস্ট থেকে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা চালুর সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে। ফলে সরকার নির্ধারিত সীমিত কর্মঘণ্টার মধ্যে এত বৃহৎ কার্যক্রম পরিচালনা বাস্তবসম্মত নয়। অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালনের পরও ভাতা বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত অধিকাল ভাতা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন ও বৃহত্তর কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।