আজ প্রাণের উৎসব, রঙে-সুরে নতুনের আহ্বান
- আপডেট: ১০:২১:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
- / ২১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজ মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। এদিন নানা আয়োজনে বর্ষবরণ করা হয়ে থাকে দেশে। ভোরের নতুন সূর্য ওঠার মধ্য দিয়ে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম প্রভাতে শুরু হবে বর্ষবরণ। পহেলা বৈশাখ মানেই একসময়- হালখাতার মৌসুম। ডিজিটাল বাংলাদেশে সেই পরিবেশ আর নেই।
নতুন বছরের নতুন দিনের আগমনী সুর বাজছে চারদিকে। পুরনো বছরের গ্লানি ও বেদনা পেছনে ফেলে আশা, আনন্দ ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে এল নতুন প্রাণের উৎসব- পহেলা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। সর্বজনীন এই উৎসবে দেশজ সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক অনন্য সম্মিলন ঘটছে দেশজুড়ে।
বাংলা নববর্ষ ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। হাজার বছরের ঐতিহ্যে গড়ে ওঠা পহেলা বৈশাখ আজ কেবল একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ অতিক্রম করে বাঙালির সর্বজনীন মিলনমেলা। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা কোটি বাঙালি একযোগে মেতে ওঠে বর্ষবরণের আনন্দে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বার্তায় দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বার্তায় ঐক্য, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের প্রাণের সর্বজনীন উৎসব, যা জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ অতিক্রম করে মিলনের দিন হয়ে ওঠে।” ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতীক, যা কৃষি ও প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।” তিনি বলেন, ‘শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।’
শহরের পাশাপাশি গ্রামবাংলায়ও বর্ষবরণের উচ্ছ্বাস। বৈশাখী মেলা, বলিখেলা, লাঠিখেলা ও হা-ডু-ডুর মতো ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন নানা জায়গায়। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলিখেলা, যা শতবর্ষের ঐতিহ্য বহন করে আসছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাবরের মতোই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বেরোবে, যেখানে লোকঐতিহ্য ও স্বকীয়তাকে ধারণ করে বৃহৎ পরিসরে সর্বজনীন অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবারের শোভাযাত্রায় ‘মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া’- এই পাঁচটি মোটিফ বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। লোকজ প্রতীকের ধারায় এগুলো যথাক্রমে শক্তি, সৃজন, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে বহুমাত্রিক তাৎপর্য বহন করে। প্রতিটি মোটিফেই প্রতিফলিত হবে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গভীর অনুষঙ্গ।
পাশাপাশি ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত, ‘এসো হে বৈশাখ’ এবং দেশাত্মবোধক গান শোভাযাত্রার আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে। এতে অংশ নেবে ২০০ জন শিক্ষার্থী, যারা বহন করবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
‘শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতি’- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে রমনার বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীরা সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশন করবেন বর্ষবরণের গান, যা দীর্ঘদিন ধরেই এ দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
দীচী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তোপখানা রোডে আড্ডা, গান, কবিতা ও নৃত্যের মাধ্যমে বর্ষবরণ করবে। বিকেল ৪টায় তাদের মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য-‘বৈশাখের রুদ্র-রোষে ধ্বংস হোক সামাজিক ফ্যাসিবাদ।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ‘বাংলার হারিয়ে যাওয়া আনন্দ মিলে যাক বৈশাখে’-এই প্রতিপাদ্যে আর্ট পিক্স ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত পুতুলনাট্য উপস্থাপন করবে। রাজধানীর বিজয় স্মরণীর বাংলাদেশ মিলিটারি মিউজিয়াম (গেট নং-২) প্রাঙ্গণে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ আয়োজন চলবে।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও র্যাব বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
নববর্ষের প্রভাতে আবারও উচ্চারিত হবে চিরন্তন আহ্বান—অশুভের বিনাশ, মানবতার জয় এবং নতুনের অগ্রযাত্রা।

























