শোকাবহ পিলখানা ট্র্যাজেডি দিবস আজ, বিডিআর নামে ফিরছে বিজিবি
- আপডেট: ১১:০২:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর পিলখানায় সংঘটিত নৃশংস সেনা হত্যাকাণ্ডের ১৭ বছর পূর্ণ হলো আজ। শোকাবহ এই দিনটি এবার ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সরকার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)-এর নাম ও ইউনিফর্ম পুনর্বহালের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নামে পরিচিত।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত অনুবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিজিবিকে পুনরায় বিডিআর নামে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রস্তাব এলেই ফাইল প্রক্রিয়াকরণ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নির্বাচনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—বিএনপি সরকার গঠন করলে বিডিআরের নাম-পরিচয় পুনর্বহাল করা হবে এবং পিলখানার দিনটিকে জাতীয়ভাবে শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতিরই আংশিক বাস্তবায়ন হিসেবে ইতোমধ্যে দিনটি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ ঘোষণা করা হয়েছে।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পেছনের ষড়যন্ত্র নিয়ে আবারও নতুন করে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারের আস্থা নেই। তাই নতুন তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ তাদের প্রতিবেদনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে। প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, শেখ ফজলে নূর তাপস, মির্জা আজম, জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার কথাও বলা হয়। তবে বর্তমান সরকার সেই রিপোর্ট গ্রহণ করেনি।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, “এই বর্বরতা কোনো সেনাসদস্য করেনি; তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের দ্বারাই এটি সংঘটিত হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তা ব্যাহত করা উচিত নয়।”
ঘটনার সময় সেনাপ্রধান ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ। পরবর্তীতে তিনি এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, তদন্তে সরকার যথাযথ সহায়তা করেনি।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। বার্ষিক দরবার চলাকালে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহ দ্রুত রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী তাণ্ডবে। মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং নারী-শিশুসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। হত্যার পর লাশ গুম করতে অনেককে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।
‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ সেনা সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোকাবহ পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭তম বার্ষিকীতে জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে সেই সকল শহীদ সেনা সদস্যদের, যাদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায় হয়ে আছে।
























