বিজয়ের ৫৪ বছর উদযাপনে দেশজুড়ে যত আয়োজন
- আপডেট: ০১:২৭:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৭৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মহান স্বাধীনতার ৫৪তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর সারাদেশে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। দিবসটির সূচনা হবে ঢাকায় ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনৈতিক ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
দিবসটি উপলক্ষে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন, বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন আলোকসজ্জিত হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক, সড়কদ্বীপে জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও রঙিন নিশান দিয়ে সজ্জা করা হবে।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে স্বাধীনতার ৫৪ বছর উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং করবেন, যা বিশ্বে সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং হিসেবে গিনেস রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা রাখে।
বিজয় দিবসে ঢাকার তেজগাঁওয়ে বেলা ১১টা থেকে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী পৃথকভাবে ফ্লাই পাস্ট মহড়া প্রদর্শন করবেন। চলবে বিজয় দিবসের বিশেষ ব্যান্ড শো। সারাদেশে পুলিশ, বিজিবি, আনসার বাহিনী ও বিএনসিসি’র বাদক দল বাদ্যবাজনা পরিবেশন করবেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের সব জেলা-উপজেলায় তিন দিনব্যাপী আড়ম্বরপূর্ণ বিজয়মেলা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন হবে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১৫ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিকেল ৩টায় অ্যাক্রোবেটিক শো এবং সন্ধ্যা ৬টায় যাত্রাপালা ‘জেনারেল ওসমানী’ অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় বিজয় দিবসের গান পরিবেশিত হবে। সারাদেশের ৬৪ জেলায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান পরিবেশন করবেন নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও অন্যান্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করবে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসও অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
জেলা-উপজেলায় স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া অনুষ্ঠান, ফুটবল, টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট, কাবাডি, হাডুডু প্রভৃতি খেলার আয়োজন করা হবে।
রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেবেন। মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করবে।
দেশের সব হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।
বিজয় দিবস উপলক্ষে টেলিভিশন ও বেতার চ্যানেলগুলোতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে। সব শিশুপার্ক ও জাদুঘর বিনামূল্যে উন্মুক্ত থাকবে এবং সিনেমা হলগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।
চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, পাগলা ও বরিশালসহ বিআইডব্লিউটিসি’র ঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড জাহাজসমূহ সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখবে।
সারাদেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও দেশের শান্তি ও অগ্রগতির জন্য বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।





















